জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব রোধে সমন্বিত কর্মপন্থার বিকল্প নেই বলে একমত হয়েছেন দেশের পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক শীর্ষস্থানীয় নীতি নির্ধারক ও বিশেষজ্ঞগণ।
রবিবার সকালে রাজধানীর হোটেল বেঙ্গল ব্লুবেরিতে ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক ‘পলিসি ব্রেকফাস্ট’ এর অংশ হিসেবে একটি মুক্তআলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্লাইমেট ও ডেভেলপমেন্ট নলেজ নেটওয়ার্কের প্রধান নির্বাহী সাইমন ম্যাক্সওয়েল।
IMG0
বক্তারা মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সকল প্রকার রাজনৈতিক ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে। সেক্ষেত্রে সরকার, বিরোধী দল ও অন্যান্য অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর ঐকমত্য জরুরি। এছাড়াও বাংলাদেশ এখন বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধে অগ্রণী ভূমিকা প্রদান করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাব সম্পর্কে সাধারণ জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নতুন কর্মসূচি প্রনয়ণ করা আগামী দিনগুলোতে জরুরি বলে একমত হন সবাই।
বক্তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারের সাথে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর একসাথে কাজ করা দরকার। সর্বোপরি এই পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধে কাজ করে যাওয়া সরকারের বিভিন্ন অঙ্গপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে একযোগে কাজ করে যাওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করেন অনেকে।
আলোচনায় প্যারিস চুক্তি বাংলাদেশের জন্য সুযোগ নাকি চ্যালেঞ্জ-সে বিষয়ে মন্তব্য দেন অনেকে এবং সেই আলোচনার উপর ভিত্তি করে অংশগ্রহনকারীদের মাঝে ভোটের আয়োজন করা হয় এবং উপস্থিত আলোচকগণ এই চুক্তিকে বাংলাদেশের জন্য একটি সুযোগ বলে রায় দেন।
বাংলাদেশ যখন ইতিমধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বর্ধিষ্ণু ঝড়, জলোচ্ছাস ও বন্যা, অতিবৃষ্টি-অনাবৃষ্টি, ক্ষরা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও লবণাক্ততার মাত্রা বৃদ্ধির ভয়াবহ দূর্যোগের সম্মুখীন হচ্ছে,তখন সরকার, বেসরকারি খাত ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বয়ে একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি বলে মতদেন উপস্থিত সকলে।
IMG1
ইনস্টিটিউট অফ ইনফরমেটিকস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইআইডি) এবং বাংলাদেশে অবস্থিত কানাডার দূতাবাস উদ্যোগে এই আলোচন সভার আয়োজন করা হয়।
ঢাকাস্থ ফ্রান্সের রাস্ট্রদূত সোফি এবার্ট, ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এর সিনিয় ফেলো সালিম উল হক, বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্স স্টাডিস এর নির্বাহী পরিচালক আতিক এ রাহমান, ঢাকা উত্তরের মেয়র পদপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল, বিএনপিনেত্রী শামা ওবায়েদসহ ডিএফআইডি, ইউএসএইড, এ্যাকশন এইড, ইসলামিক রিলিফ, ইয়ুথ ডায়ালগ, ক্রিশ্চিয়ান এইড বাংলাদেশের প্রতিনিধিগণও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ৩০ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর প্যারিসে অনুষ্ঠিত হওয়া জলবায়ু সম্মেলনে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রতিরোধে সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিষয়ে একমত হন। সম্মেলনে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিরোধ, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রতিকারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নের বিষয়ে বিশ্বনেতারা মতৈক্যে পৌঁছান। একই সাথে বাংলাদেশ অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণকারী শিল্পন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে ঋণের পরিবর্তে অনুদান আকারে ক্ষতিপূরনের দাবি উত্থাপন করে। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।
