জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ তার ছোট ভাই ও প্রেসিডিয়াম সদস্য জিএম কাদেরকে দলের কো-চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন। গতকাল রবিবার সকালে ঢাকা থেকে রংপুর গিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় জেলা জাপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আকষ্মিক এই ঘোষণা দেন এরশাদ। জিএম কাদের এসময় তার পাশেই ছিলেন।
এই ঘোষণা দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এরশাদ বলেন, ‘আজ থেকেই গোলাম মোহাম্মদ কাদের দলের কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া আমার অবর্তমানে দলের হালও ধরবেন তিনি।’
দলের গঠনতন্ত্রে কো-চেয়ারম্যানের কোনো পদ নেই বলে নিজেই উল্লেখ করে এরশাদ বলেন, আগামী এপ্রিলে দলের যে ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন হবে সেখানে কো-চেয়ারম্যান পদ সৃষ্টি করে তা অনুমোদন করে নেওয়া হবে। এরশাদের এই ঘোষণার পর জিএম কাদের রংপুর থেকে টেলেফোনে ইত্তেফাককে হাসতে হাসতে বলেন ‘আমার জন্য দোয়া করো, সবাই মিলে দলকে শক্তিশালী করতে চাই।’
এই সম্মেলন অনুষ্ঠানের জন্য একটি প্রস্তুতি কমিটিও ঘোষণা করেন এরশাদ। জিএম কাদেরকে কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক মহাসচিব এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদারকে সদস্যসচিব হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
এরশাদের এসব ঘোষণার পরপরই ঢাকায় জাপার নেদা-কর্মীদের মধ্যে নানা গুঞ্জন শুরু হয়। প্রেসিডিয়ামে একাধিক সদস্য ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, রুহুল আমিন হাওলাদারকে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য—সচিব করার মধ্য দিয়ে এরশাদ কার্যত দলের মহাসচিব পদেই পরিবর্তন আনার আভাষ দিয়ে রাখলেন। কারণ সম্মেলনের সদস্য—সচিব থাকেন সাধারণত দলের মহাসচিব। সেখানে মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে বাদ রেখে হাওলাদারকে দায়িত্ব দেওয়ার মধ্যেই মূল বার্তা নিহিত রয়েছে। সম্মেলনের সদস্য—সিচবের দায়িত্ব পাওয়ার ঘোষণার পর রুহুল আমিন হাওলাদার ইত্তেফাককে বলেন ‘আমি সবসময়ই এরশাদের দিকনির্দেশনায় কাজ করি, তিনি যখন যেই দায়িত্ব দেন সেটি যথাযথভাবে পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করি।’
উল্লেখ্য, দলের অভ্যন্তরে সামপ্রতিক কিছু ঘটনায় জিয়াউদ্দিন বাবলু নিজেও মহাসচিব পদে আর না থাকতে চাওয়ার কথা জানিয়েছেন। এনিয়ে গত কিছুদিন ধরেই নানা কথাবার্তা চলছে।
রংপুরে সংবাদ সম্মেলনে এরশাদ আরও বলেন, জাপা এখন চরম সংকটের মুখে। জাপা আছে কী নেই সেটা দেশের মানুষ জানে না। দেশের মানুষ লাঙলের নাম ভুলতে বসেছে। দলকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই জি এম কাদেরকে দলের কো-চেয়ারম্যান করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় ছিল না।
দলের সংকটের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার দলের তিন এমপি মন্ত্রী হয়েছেন। আমি নিজেই প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আমরা বিরোধী দলে আছি না সরকারি দলে আছি সেটা দেশের মানুষ বুঝতে পারছে না। ফলে দল চরম সংকটের মধ্যে পড়েছে। আমার নিজের গড়া দল ধীরে ধীর বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এটা হতে পারে না। এখন দলকে শক্তিশালী করতে হলে তিন মন্ত্রী এবং আমাকে পদত্যাগ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে আমি অব্যাহতি চাইবো এবং তিন মন্ত্রীকে অব্যাহতি দিতে বলবো। আশা করি, প্রধানমন্ত্রী আমার কথা রাখবেন। প্রধানমন্ত্রীকে বলবো, আপনি আমাকে অনেক সম্মান দিয়েছেন। দয়া করে আমাকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত থেকে অব্যাহতি দিন এবং জাপার যেসকল মন্ত্রী সরকারে আছে, তাদেরকে অব্যাহতি দিন। অন্যথায় আমি নিজে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত থেকে পদত্যাগ করব।’
কবে পদত্যাগ করবেন-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এরশাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে তার বিশেষ দূত করে সম্মানিত করেছেন। আমি তাকে বলেছি আমি এবং আমার তিন মন্ত্রী পদত্যাগ না করলে দল টিকিয়ে রাখা যাবে না। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশেষ দূত থেকে অব্যাহতি চাইব। আশা করি প্রধানমন্ত্রী আমার কথা রাখবেন। এতে করে দেশের গ্রামেগঞ্জে গিয়ে দলকে সুসংগঠিত করতে পারব।
সংবাদ সম্মেলনে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ নুর আহমেদ টুলু, জেলা জাপার আহ্বায়ক মোফাজ্জল হোসেন ও সদস্যসচিব হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ, মহানগর আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান উপস্থিত ছিলেন।
