বর্তমানে আধুনিক জীবনযাপনের অন্যতম এক অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে ফেসবুক। বিশ্বজুড়ে দেড় বিলিয়নের বেশি মানুষ সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়ের এই সাইট নিয়মিত ব্যবহার করে থাকেন।
২০০৪ সালে ফেসবুক তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু সাইটটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয় মূলত ২০০৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর। আমেরিকান কম্পিউটার প্রোগ্রামার মার্ক জাকারবার্গের হাত ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে এই সাইটের যাত্রা শুরু হয়। তবে বর্তমানে শুধু সামাজিক যোগাযোগেই নয়, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারেও সাইটটি ব্যবহার করা হচ্ছে।
সাইটটি নিয়ে হাজারো বিস্ময়কর তথ্য আছে, ফ্যাক্টস্লাইড ও স্পিনফোল্ড ডটকম থেকে তারই কিছু তুলে আনা হলো এই প্রতিবেদনে-
১) মার্ক জাকারবার্গের লাল ও সবুজ রঙ নিয়ে ভয়-রোগ আছে বলেই ফেসবুকের রঙ নীল।
২) ফেসবুকে ৩০ মিলিয়ন মৃত মানুষের অ্যাকাউন্ট রয়েছে!
IMG0
৩) এশিয়াতে ফেসবুক ব্যবহারকারী ২৫৩ মিলিয়ন। যদিও প্রায় একশ ৪০ কোটি মানুষের দেশ চীনে ২০০৯ সাল থেকে ফেসবুক নিষিদ্ধ।
৪) যুক্তরাষ্ট্রের ২০১১ সালের ডিভোর্স মামলার এক-তৃতীয়াংশের কারণ হিসেবে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে উঠে আসে ‘ফেসবুক’ শব্দটি।
৫) ফেসবুকে যে কাউকে ব্লক করা যাবে, কিন্তু যাবে না শুধু জাকারবার্গকে।
৬) ফেসবুকে ঢুঁ মারলেই যাতে চড়-থাপ্পড় মারা হয় সেজন্য একবার এক ব্লগার এক মহিলাকে ভাড়া করেন!
IMG1
৭) যে আনন্দ নিয়ে ফেসবুক ব্যবহার করা হয় নিমিষেই তা আতংকে রূপ নিতে পারে। কারণ, এই সাইটে প্রতিদিন ছয় লাখের বেশি সাইবার হামলার চেষ্টা চালানো হয়!
৮) ফেসবুক থেকে আনফ্রেন্ড করার আগে সতর্ক হওয়া ভালো। কেননা, আনফ্রেন্ড করার কারণে বেশ কিছু খুনের ঘটনাও ঘটেছে।
৯) লগ আউট করার পরও কোন কোন সাইটে ব্যবহারকারী ঢুঁ মারছেন এই তথ্য সংগ্রহ করে থাকে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ!
১০) ভুয়া ফেসবুক প্রোফাইল তৈরি করে মূল অ্যাকাউন্টে যৌন হয়রানীমূলক ম্যাসেজ পাঠানোর জন্য ব্রিটেনে এক মহিলার ২০ মাসের জেল হয়!
IMG2
১১) ফেসবুকের মোট অ্যাকাউন্টের প্রায় ৮.৭ শতাংশ ভুয়া।
১২) ব্যবহারকারীদের মধ্যে একটি কমন বিষয় হলো স্কুলের বন্ধুদের ফেসবুকে আনফ্রেন্ড করা। এর সবচেয়ে বড় কারণ হলো ফেসবুকে তাদের অসঙ্গতিপূর্ণ ও বিপরীতধর্মী পোস্ট।
১৩) ফেসবুকে প্রতি মিনিটে ১.৮ মিলিয়ন নতুন লাইক পড়ে।
১৪) ডাউন হলে প্রতি মিনিটে ফেসবুকের ক্ষতি হয় প্রায় ২৫ হাজার মার্কিন ডলার।
১৫) চুরি করতে বাসায় ঢুকে ফেসবুক ব্যবহার করে লগ-আউট না করায় ২০১৪ সালে মিনেসোটায় এক সিঁধেল চোরকে গ্রেফতার করা হয়।
IMG3
১৬) পোস্ট করা হোক বা না করা হোক, স্ট্যাটাস আপডেট বক্সে কিছু লিখলেই তা ফেসবুক সার্ভারে দেয়া যায়!
১৭) ব্লকড হওয়া স্বত্বেও চীনে ফেসবুকের ৯৫ মিলিয়ন ব্যবহারকারী রয়েছেন।
১৮) ২০০৯ সালে হোয়াটসঅ্যাপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ব্রিয়ান অ্যাকটন ফেসবুকে চাকরি জন্য গিয়ে বিমুখ হন। এর ঠিক পাঁচ বছর পর এই ব্রিয়ান অ্যাকটনের কাছ থেকে ১৯ বিলিয়ন ডলার খরচ করে জনপ্রিয় ম্যাসেজিং অ্যাপটি কিনতে হয় জাকারবার্গকে।
১৯) আপনি ‘ফেসবুক’-এ নিজের ব্যবহৃত ভাষা বদলে ‘পাইরেট’ করতে পারেন।
২০) ‘লাইক’ বাটন-এর আসল নাম ছিল ‘অসাম’।
IMG4
২১) ফেসবুকের জনপ্রিয়তা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীরা গড়ে দিনে ৪০ মিনিট সময় ব্যয় করেন ফেসবুকে।
২২) স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা দিনে ১৪ বার ফেসবুকে ঢুঁ মারেন।
২৩) ফেসবুক ব্যবহারকারীদের রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস পরিবর্তনের হার দিনে ২২৫ শতাংশ। তবে মাত্র ২৮ ভাগ ব্যবহারকারী তাদের বিয়ের এক ঘণ্টার মধ্যে স্ট্যাটাস পরিবর্তন করে থাকেন।
২৪) গবেষণা মতে, ব্যবহারকারীদের তিন জনে এক জন ফেসবুকে সময় কাটানোর পর তাদের জীবন নিয়ে ভয়ানক অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
২৫) যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক ব্যবহারকারীর কাছ থেকে গড়ে ৫.৮৫ মার্কিন ডলার উপার্জন করে থাকে ফেসবুক।
২৬) ২০১৩ সালে চ্যারিটিতে এক মিলিয়ন ডলার দান করেন জাকারবার্গ, যা তাকে যুক্তরাষ্ট্রের এক নম্বর ‘চ্যারিট্যাবল ডোনার’ বানায়।
২৭) মার্কিনীদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ অফিসের কাজের সময় ফেসবুক ব্যবহার করে থাকেন। অন্যদিকে, ১৯ দশমিক ৪ শতাংশ কাজের সময় ফেসবুক ব্যবহার করেন না।
