জাকার্তায় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো দেশের সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংস্কার করার প্রস্তাব দিয়েছেন। এতে নতুন করে বিদ্যমান আইনটির বেশকিছু পরিবর্তন আনয়নের কথা বলা হয়েছে। এটি পাস হলে দেশটিতে হামলা পরিকল্পনায় জড়িত সন্দেহে যে কাউকে পুলিশের পক্ষে গ্রেফতার করা সহজতর হবে।
দেশটির কর্তৃপক্ষ জানান, ওই হামলার পর তারা আরো সন্ত্রাসী হামলার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিচ্ছেন না। আর এ আশঙ্কা থেকেই বিদ্যমান আইনের খুঁটিনাটি পরীক্ষা শেষে সংস্কারের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এ সব ঘটনায় সন্দেহভাজন যে কাউকে যেন কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই এক সপ্তাহের বেশি আটক রাখা যায়। সেইসঙ্গে ইন্দোনেশীয়দের আইএসের সঙ্গে এক হয়ে ইরাক ও সিরিয়ায় যুদ্ধে শামিল হওয়াকে বেআইনি ঘোষণা করার কথা বলা হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের ধারনা, প্রায় ৫শ ইন্দোনেশীয় আইএসে যোগ দিতে মধ্যপ্রাচ্য গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরেও একই কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে একশ’রও বেশি ফেরত এসেছে, যারা সরাসরি যুদ্ধ করার সুযোগ পায়নি। নতুন এই প্রস্তাবটি পার্লামেন্টে পাস হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
রয়টার্সকে উদ্ধৃত করে প্রেসিডেন্ট উইদোদো বলেছেন, এটা আমাদের মাঝে ভীষণ ভীতির তৈরি করেছে যে, এমন অনেকেই আছে যারা ওই জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিতে দেশ ছেড়েছে। অবশ্য কেউ সুবিধা করতে না পেরে আবার ফিরেও এসেছে। তবে নতুন এ সিদ্ধান্ত কবে নেয়া হবে বা কবে এটি পাস হবে সে সম্পর্কে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। এদিকে সমালোচকরা বলছেন, নতুন এই আইনটি কার্যকর হলে তা প্রকারান্তরে নিরীহ মানুষদের নির্যাতনের হাতিয়ার হিসাবেই ব্যবহৃত হবে।
উল্লেখ্য গত সপ্তাহের ওই সন্ত্রাসী হামলায় চার বেসামরিক নাগরিকসহ আটজন নিহত হয়েছিল। এ হামলার জন্য আইএসকে দায়ী করা হচ্ছে। হামলার পিছনে মূল পরিকল্পনাকারী হিসাবে ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক বাহরুন নাইমকে সন্দেহ করা হচ্ছে। যিনি এখন সিরিয়ায় আইএসের হয়ে যুদ্ধ করছেন বলে ধারণা করা হয়। সূত্র: বিবিসি
