আসছে ২৩ জানুয়ারি দেশীয় চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি নায়ক রাজ রাজ্জাক ৭৫-এ পা রাখতে যাচ্ছেন। দিনটিকে বিশেষভাবে স্মরণীয় করে রাখতে বিভিন্ন স্যাটেলাইট চ্যানেলসহ নায়ক রাজের পরিবারও বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। তার সহকর্মীরাও তাকে বিশেষ এই দিন উপলক্ষে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় তাকে অগ্রিম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বিশেষ এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন অভি মঈনুদ্দীন
বিশেষ কারণ ছাড়া আপাতত নায়ক রাজ রাজ্জাক ঘর থেকে একদমই বের হন না। কারণ নিয়মিত অভিনয় থেকে নায়ক রাজ আপাতত দূরে আছেন। তার সুস্থ থাকার জন্য এখন বিশ্রামই জরুরি। তবে আসছে ২৩ জানুয়ারি তিনি ৭৫-এ পা রাখতে যাচ্ছেন বিধায় সেদিন তিনি পরিবার ও সহকর্মীদের সঙ্গে বিশেষভাবে সময় কাটাবেন। এদিকে বাবাকে নিয়ে চিত্রনায়ক ও নির্মাতা খালিদ হোসেন সম্রাট নির্মাণ করেছেন বিশেষ টেলিফিল্ম ‘দায়ভার’, যা ২২ জানুয়ারি চ্যানেল আইতে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে প্রচার হবে। এতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে নায়ক রাজ রাজ্জাকই অভিনয় করেছেন। এতে রাজ্জাকের সহশিল্পী হয়েছেন ডলি জহুর, সম্রাট, বাঁধন, আহসানুল হক মিনু ও অভি মঈনুদ্দীন। এদিকে নায়ক রাজ রাজ্জাককে জন্মদিনের একটি গান উপহার দিচ্ছেন ভার্সেটাইল মিডিয়ার কর্ণধার আরশাদ আদনান। তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাপ্পা মজুমদারের সুর সঙ্গীতায়োজনে জন্মদিনের গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন কুমার বিশ্বজিত্, ফাহমিদা নবী, বাপ্পা মজুমদার ও আঁখি আলমগীর। এটি লিখেছেন ওমর ফারুক। গানটির কথা হলো ‘তোমার আলোয় পৃথিবীটা আরও রঙিন হলো, স্বপ্নের ফেরিওয়ালা তুমি স্বপ্ন প্রদীপ জ্বালো’। নায়ক রাজের জন্মদিনে গানটি বিভিন্ন চ্যানেল-বেতারে প্রচার হবে। নিজের জন্মদিন প্রসঙ্গে নায়ক রাজ রাজ্জাক বলেন, ‘সবার দোয়া ও ভালোবাসা চাই যেন দিনটি ভালোভাবে পার করতে পারি। সেইসঙ্গে ইচ্ছে আছে তো কাজ করার, কিন্তু সবমিলিয়ে এখন আর কাজ করা হয়ে উঠছে না। তবে জীবনের এই সময় পর্যন্ত আসতে পেরেছি; স্ত্রী, সন্তান, নাতি নাতনিদের নিয়ে সুখে শান্তিতে সময় কাটাতে পারছি; এজন্য মহান আল্লাহর কাছে অসীম কৃতজ্ঞতা।’ নায়ক রাজের জন্মদিনে তার প্রিয় সহশিল্পীরা তাকে জন্মদিনে আগাম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
এটিএম শামসুজ্জামান :নায়ক রাজ রাজ্জাক এদেশের একজন জীবন্ত কিংবদন্তি নায়ক। এদেশের চলচ্চিত্রে তার যে অবদান, তা কোনোভাবেই অস্বীকার করার উপায়ে নেই। তিনি ছিলেন বলেই আমাদের চলচ্চিত্র এখনো এই অবস্থায় আছে। জহির রায়হান, কাজী জহির, কামাল আহমেদ, সুভাষ দত্ত ছাড়া তাকে সঠিকভাবে কেউই বুঝতে পারেননি, চিনতে পারেননি, কাজেও লাগাতে পারেননি। নতুন প্রজন্মের যারা, তার যথেষ্ট লেখাপড়া করে চলচ্চিত্র নির্মাণে এসেছেন, তাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে জীবন্ত এই কিংবদন্তিকে কাজে লাগিয়ে তোমরা নিজেদের মেধাকে বিকশিত করো। শুভ জন্মদিন নায়ক রাজ রাজ্জাক।
শবনম :তিনি আপাদমস্তক একজন পরিশ্রমী মানুষ। মনে প্রাণে একজন শিল্পী। যে কারণে অনেক কষ্ট করে নিজের অভিনয়সত্তা দিয়ে তিনি এমন একজন নায়কে নিজেকে পরিণত করতে পেরেছেন যে, আমরা তাকে নায়ক রাজ উপাধিতে ভূষিত করতে বাধ্য হয়েছি। মানুষ হিসেবে তিনি খুব চমত্কার মনের একজন। তার জন্মদিনে আমার শুভেচ্ছা।
সুজাতা :বহু চলচ্চিত্রে নায়ক রাজ রাজ্জাকের সঙ্গে কাজ করেছি। এত বন্ধুসুলভ আচরণ আর কারো মাঝে আমি সেভাবে পাইনি। সবসময়ই তিনি কাজের প্রতি এত সিরিয়াস ছিলেন যে, সেই কাজই তাকে আসলে নায়ক রাজে পরিণত করেছে। আমার প্রথম পরিচালিত চলচ্চিত্রেও তাকে নিয়ে কাজ করেছি। তিনি সত্যিই মহান মনের একজন মানুষ। তার দীর্ঘায়ু কামনা করছি।
সুচন্দা :জহির রায়হানই তাকে নায়ক হিসেবে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন ‘বেহুলা’ চলচ্চিত্রে। আমিই তার প্রথম নায়িকা। আমার প্রথম ছবি ছিল সুভাষ দত্তের ‘কাগজের বউ’। যা হোক, ‘বেহুলা’ ছিল বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক মাইলফলক। প্রথম চলচ্চিত্রেই নায়ক রাজ রাজ্জাক সফলতা পেয়েছিলেন। যে কারণে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তার সঙ্গে অনেক চলচ্চিত্রে কাজ করেছি। তিনি অত্যন্ত ভালো মনের একজন মানুষ। মানুষকে সম্মান দিয়ে কথা বলতে জানেন। আদ্যোপান্ত একজন অভিনেতা বলে তিনি প্রয়াত আহমেদে জামান চৌধুরীর কলম থেকে ‘নায়ক রাজ’ উপাধি পেয়েছিলেন। আমরা সবসময়ই আমাদের নায়ক রাজকে আগের মতোই দেখতে চাই। আল্লাহ তাকে সুস্থ রাখুন, ভালো রাখুন। শুভ জন্মদিন নায়ক রাজ রাজ্জাক।
উজ্জ্বল :তিনি সত্যিই জীবন্ত কিংবদন্তি নায়ক। তিনি নায়ক রাজ রাজ্জাক। একজন নায়ক হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিনয় করে আমাদের চলচ্চিত্রকে দর্শকের কাছে তিনিই জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নায়ক-নায়িকাকে নিয়ে যখন আলোচনা হয়, তখন নিঃসন্দেহে রাজ্জাক ভাইয়ের প্রসঙ্গও আসে। এদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস রচিত হলে তার নাম বিশাল একটি স্থান দখল করে নেবে। আর এটাই স্বাভাবিক। রাজ্জাক ভাইয়ের প্রতিভা ও ভাগ্য চলচ্চিত্রে এতটাই সহায় ছিল যে তাকে কখনোই পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। যে কারণে তিনি আমাদের জীবন্ত কিংবদন্তি। শুভ জন্মদিন রাজ্জাক ভাই।
ফারুক :সবসময়ই তাকে বড় ভাই হিসেবে জেনেছি। বিপদে আপদে তাকে সবসময়ই পাশে পেয়েছি। এটা ভীষণ সত্যি যে, বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তিনি এমনভাবে জড়িয়ে আছেন যে তাকে ছাড়া বাংলা চলচ্চিত্র কল্পনাই করা যায় না। একজন নায়ক রাজ রাজ্জাক আমাদের চলচ্চিত্রের অহংকার। কাল তার জন্মদিন। আমার ও আমার পরিবারের সবার পক্ষ থেকে তার জন্মদিনে শুভেচ্ছা। সেইসঙ্গে দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাকে সুস্থ রাখেন, ভালো রাখেন। আমরা যেন আমাদের এই অভিভাবককে সবসময়ই কাছে পাই।
ববিতা :রাজ্জাক ভাই আমাদের পরিবারেরই একজন মানুষ। আমাদের পরিবারের সঙ্গে তার আজীবন আত্মার সম্পর্ক। বড় ভাই তিনি, পিতৃতুল্য তিনি। সেই ছোট্টবেলা থেকে তার সঙ্গে চলচ্চিত্রে অভিনয় করছি। অনেক চলচ্চিত্রে তার বিপরীতে নায়িকাও হয়েছি। আমার সত্যিই সৌভাগ্য যে, নায়ক হিসেবে তাকে আমি পেয়েছি। আমাকে সবসময়ই রাজ্জাক ভাই খুব স্নেহ করতেন। সেই ভালোবাসা আমার প্রতি আজও আছে। আমাদের বাংলা সিনেমার গর্ব তিনি। তিনি জীবন্ত কিংবদন্তি। আল্লাহ তাকে সুস্থ রাখুন, ভালো রাখুন। শুভ জন্মদিন।
ছবি দীপু খান
