শ্লীলতাহানির অভিযোগে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পাঁচ পুলিশের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার ২ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শফিউল আজম এই আদেশ দেন।
তারা হলেন- যাত্রাবাড়ী থানার ওসি অবনি শংকর কর, এসআই জসিম ও এসআই জামান, কনস্টেবল দেবাশীষ ও মুগদা থানার এসআই আবদুল কাদের ।
বুধবার শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে যাত্রাবাড়ী থানার ওসিসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঐ মামলাটি দায়ের করেন এক নারী। ট্রাইব্যুনাল বাদীর আংশিক জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে আজ বাকি জবানবন্দি গ্রহণ করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পরবর্তী শুনানির জন্য ২৪ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।
মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, মামলার ১ নম্বর আসামি মুগদা থানার এসআই আবদুল কাদেরের মেয়ের সঙ্গে মামলার বাদীর ছোট ভাই ইমরানের ২০১৫ সালের ৪ অক্টোবর বিয়ে হয়। কিন্তু মেয়ের বাবা আবদুল কাদের এই বিয়ে মেনে নিতে পারেননি। তিনি ইমরানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন। পরে ইমরান আত্মসমর্পণ করে আদালত থেকে জামিন নেন।
জামিন নেয়ার পর ইমরানকে যাত্রাবাড়ী থানার ওসি বাদীকে দেখা করতে বলেন। তিনি যাত্রাবাড়ী থানায় গিয়ে এসআই জসিমের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় এসআই জসিম তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ইমরান চাঁদা দিতে অস্বীকার করে চলে আসেন। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর ইমরানকে ১নং আসামি এসআই আবদুল কাদেরের বাসায় ডেকে এনে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়। এরপর মামলার বাদীকে ফোন করে ঐ বাসায় আসতে বলা হয়। তিনি বাসায় আসলে ১ থেকে ৩নং আসামিরা তার হাত ধরে টানাটানি করে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। বিষয়টি জানাজানি হলে তাদের গাড়িতে করে যাত্রাবাড়ী থানায় নিয়ে আসা হয়। ওসিও এ সময় বাদী হাত ধরে টানাটানি এবং অশোভন আচরণ করে।
