যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের বেশ কয়েকটি রাজ্যে ধেয়ে যাচ্ছে ভয়াবহ তুষার ঝড়। এর প্রভাবে ওয়াশিংটন ডিসিতে রেকর্ড পরিমাণ বরফ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিউ ইয়র্ক এবং পূর্ব উপকূলীয় অন্যান্য নগরীগুলোও এ ঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ের আশঙ্কায় ম্যারিল্যান্ড, নর্থ ক্যারোলাইনা, জর্জিয়া, পেনসিলভানিয়া, ভার্জিনিয়া এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
ঝড়ে উত্তরপূর্বাঞ্চলজুড়ে জনজীবন অচল হয়ে পড়বে এবং বাল্টিমোরসহ ওয়াশিংটন ডিসির মেট্রো এলাকাগুলোতে ২ ফুটেরও বেশি বরফ জমবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস।
নিউ ইয়র্ক, লঙ আইল্যান্ড এবং নিউ জার্সিতে ১২ ইঞ্চি (৩০ সেন্টিমিটার) বরফ পড়তে পারে। তাছাড়া, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় পেনসিলভানিয়া এবং ফিলাডেলফিয়ায় ১০ থেকে ১৬ ইঞ্চি (২৫ থেকে ৪২ সেন্টিমিটার) বরফ পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বরফ পড়তে পারে কেনটাকি এবং নর্থ ক্যারোলাইনায়।
ঝড়ের সময় মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ২৪ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারপাত হওয়ার পূর্বাভাস দিয়ে মানুষজনকে সতর্ক করে দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। তুষারপাতের কারণে বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া ছাড়াও রাস্তাঘাট অচল হয়ে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যওয়ারও পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের পরিচালক লুইস উসেলিনি এ ঝড়কে খুবই বিপজ্জনক বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, অন্তত পাঁচ কোটি লোক এই ঝড়ে দুর্ভোগ পোহাবে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শনিবার ম্যানহাটনে ঘন্টায় ৩০ মাইল বেগে বয়ে যেতে পারে ঝড়ো হাওয়া। ওয়াশিংটন এবং বাল্টিমোরে বাতাসের গতিবেগ হতে পারে আরও বেশি।
নিউ ইয়র্কের মেয়র বিল ডি বলাসিও এ ঝড়কে শীতকালের প্রথম বড় ধরনের ঝড় অভিহিত করে লোকজনকে তা মোকাবেলায় প্রস্তত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই ঝড়ের আশংকায় এরই মধ্যে বাতিল করা হয়েছে শত শত ফ্লাইট। নর্থ ক্যারোলাইনা এবং ওয়াশিংটন বিমানবন্দরের ফ্লাইটগুলোই বাতিল হয়েছে বেশি।
