তরুণ নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘আন্ডার কনস্ট্রাকশন । শুক্রবার ঢাকার চারটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে চলচ্চিত্রটি। নতুন এই চলচ্চিত্র, বর্তমান চলচ্চিত্র প্রেক্ষাপটে তরুণ নির্মাতারা কতটা সহযোগিতা পাচ্ছে, এ প্রসঙ্গগুলো নিয়ে রুবাইয়াত কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মোস্তাফিজ মিঠু।
এতো কম হলে মুক্তির কারণ কী?
চলচ্চিত্রটি আমাদের নিজেদের পরিবেশনায় মুক্তি দিচ্ছি। তাই এখনই পুরো দেশে মুক্তি দেয়া সম্ভব না। আমাদের সেই পরিমাণের লোকবল নেই যে আমরা পুরো দেশে চলচ্চিত্রটি মুক্তি দেবো। এছাড়া পাইরেসির একটি বিষয় তো আছেই। আমরা এই চারটি হলে মুক্তি দিয়ে দর্শকদের রেসপন্স দেখতে চাই। এরপর পুরো দেশে দেখানোর পদক্ষেপ নেবো।
কিন্তু ঢাকার বাইরে এখন যারা দেখতে চায় তাদের জন্য কি বিকল্প কোনো ব্যবস্থা আছে?
না, এখন কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে এক সপ্তাহ পর হয়তো বিকল্প উপায়ে আমরা চলচ্চিত্রটি ঢাকার বাইরেও প্রদর্শন করবো। ঢাকার বাইরে কালচারাল প্রদর্শনীর হলগুলোর সাথে কথা হয়েছে। তারা বলেছে, তারা চলচ্চিত্রটি দেখাতে চায়। কিন্তু এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। মুক্তির কয়েকদিন পর বিষয়টি নিয়ে পরিকল্পনা করবো। যদিও একটু সময় লাগছে, তবে কিছুদিন পর হলেও আমি অবশ্যই পুরো দেশের দর্শকদের আমার চলচ্চিত্রটি দেখাতে চাই।
চলচ্চিত্রটির গল্পে কী ধরনের মেসেজ দিতে চেয়েছেন?
আমি মূলত কোনো ম্যাসেজ দিতে চাইনি। পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন একটি চলচ্চিত্র আমি নির্মাণ করেছি। ঢাকা শহরের তিনজন নারীকে নিয়ে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছি। শুধু তাই নয়, এখানে আমি শহরের পারিপার্শিক গল্পগুলোও তুলে ধরেছি।
নতুন নির্মাতাদের সহযোগিতার জায়গায় অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। একজন তরুণ নির্মাতার জায়গা থেকে আপনি কী বলবেন?
হ্যাঁ, নতুনদের সমস্যায় পড়তে হয় এটা স্বাভাবিক। আমি নিজের পরিবেশনা থেকে চলচ্চিত্র মুক্তি দিচ্ছি। তবে এই বিষয়টি আমি খুব ইতিবাচকভাবে দেখি। অন্তত এই সহযোগিতাটুকু আমি পেয়েছি যে, নিজের উদ্যোগে হলে আমার চলচ্চিত্র মুক্তি দিতে পেরেছি। আর সরকারি অনুদান আমাদের নতুনদের জন্য ভালো একটি সুযোগ। শুধু নেতিবাচকই নয়, আমাদের জন্য ইতিবাচক অনেক পথও খোলা আছে।
সরকারি অনুদান দিয়ে একটি চলচ্চিত্রের সব খরচ বহন করা সম্ভব?
সেটা না হোক। কিন্তু পৃথিবীর কয়টি দেশে চলচ্চিত্রের জন্য সরকার অনুদান দেয়। সেই জায়গা থেকে আমাদের দেশের সরকার যতটুকু সম্ভব চলচ্চিত্রের জন্য অনুদান দিচ্ছে। বাকিটা একজন প্রযোজক বা প্রযোজনা সংস্থার সাথে চুক্তি করে ভালো চলচ্চিত্র নির্মাণ সম্ভব। এটা এরইমধ্যে প্রমাণিত। কারণ আমাদের অনেক সরকারি অনুদানের সফল চলচ্চিত্র রয়েছে।
