গতানুগতিক ধারার বাইরে স্টুডিও থেকে বেরিয়ে এসে প্রথম কোনো ধারাবাহিক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান তাদের বৈচিত্রপূর্ণ প্রচার শুরু করে তার নাম ‘ইত্যাদি’। এরপর ইত্যাদির দেখাদেখি অনেকেই স্টুডিওর বাইরে বিভিন্নভাবে অতি আড়ম্বড়যুক্ত অনুষ্ঠান নির্মান ও প্রচার করেছে। কিন্তু মানের উৎকর্ষে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি ইত্যাদিকে।
সেই ধারাবাহিকতায় এবারের ইত্যাদি ধারণ করা হয় পল্লীকবির স্মৃতি বিজড়িত জেলা ফরিদপুরে। এবারের অনুষ্ঠানে প্রায় পঞ্চাশ হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন। ‘ইত্যাদি’র ধারণ উপলক্ষে ফরিদপুরে ছিল উৎসবের আমেজ। আমন্ত্রিত দর্শক ছাড়াও হাজার হাজার মানুষ প্রচন্ড শৈত্য প্রবাহের মধ্যেও আশেপাশের রাস্তায়, বিভিন্ন গাছের উপর, নৌকার উপর বসে, নদীর পাড়ে হাটু পানিতে দাঁড়িয়ে ‘ইত্যাদি’র ধারণ উপভোগ করেন। ইত্যাদির ধারণ উপলক্ষে সেদিন বর্ণিল আলো এবং পল্লীকবির বিভিন্ন অমর সৃষ্টি-‘নক্সী কাঁথার মাঠ’, ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ আর বিভিন্ন কবিতা দিয়ে সাজানো দৃষ্টি নন্দন মঞ্চে ইত্যাদির ধারণ অনুষ্ঠান চলে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত। এই দীর্ঘ সময়ে দর্শকরা মন্ত্রমুগ্ধের মত উপভোগ করেছেন ইত্যাদির নান্দনিক সব পর্ব। শীতের এই তীব্রতার ভেতরেও অনুষ্ঠানের প্রতি দর্শকদের ভালোলাগার কারনেই তীব্র শীতে ফরিদপুরে ধারণকৃত মাঠে প্রায় অর্ধলক্ষ দর্শক রাতভর ইত্যাদির শুটিং উপভোগ করেন।
IMG00
অনুষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী শুরুতেই থাকছে অনুষ্ঠান ধারণস্থান ফরিদপুর এবং পল্লীকবি জসীমউদ্দীন সম্পর্কে একটি তথ্যবহুল প্রতিবেদন। ব্রাহ্মনবাড়িয়ার অন্ধ শিল্পী হেলাল মিয়ার পরিবারের উপর রয়েছে একটি মানবিক প্রতিবেদন। যে পরিবারের ৭ জন সদস্যই অন্ধ। রয়েছে আলোকচিত্র শিল্পী আবু তাহেরকে নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। যার কর্ম তাকে ঘনিষ্ঠ করেছে অসংখ্য গুণীজনের সঙ্গে। এবারের বিদেশী প্রতিবেদন করা হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপের গৌরবময় ইতিহাস সমৃদ্ধ দেশ স্পেনের বার্সোলোনায়। এবারের বিষয় ঐতিহাসিক সাগরাদা দ্যা ফ্যামিলিয়ার উপর একটি তথ্য সমৃদ্ধ সরেজমীন প্রতিবেদন। যার অদ্ভুত নির্মাণ ইতিহাস ও স্থাপত্যশৈলী পর্যটকদের ভীষণভাবে আকর্ষণ করে। উল্লেখ্য সাগরাদা দ্যা ফ্যামিলীয়া হচ্ছে একটি চার্চ বা গীর্জা।
এবারের ‘ইত্যাদি’তে মুল গান রয়েছে একটি। পল্লীকবি রচিত বিপুল জনপ্রিয় একটি গান গেয়েছেন এই প্রজন্মের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী পান্থ কানাই। টিভি পর্দায় সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে যার প্রথম আত্মপ্রকাশ ঘটেছিলো ‘ইত্যাদি’র মাধ্যমেই। এছাড়াও পল্লীকবির অত্যন্ত জনপ্রিয় তিনটি গানের অংশ বিশেষের সমন্বয়ে তৈরী একটি গানের সঙ্গে স্থানীয় প্রায় শতাধিক নৃত্যশিল্পীর অংশগ্রহণে রয়েছে একটি জমজমাট নৃত্য। নৃত্য পরিচালনা করেছেন মোঃ বেলায়েত হোসেন ও হাসিবুজ্জামান। দু’টো গানেরই সঙ্গীতায়োজন করেছেন মেহেদী। পল্লীকবির কয়েকটি জনপ্রিয় গান নিয়ে নির্বাচিত দর্শকদের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছেন ফরিদপুরেরই সন্তান, বিশিষ্ট গণসঙ্গীত শিল্পী ফকির আলমগীর এবং লোকসঙ্গীতের অন্যতম পুরোধা মরমী শিল্পী আব্দুল আলীমের জ্যেষ্ঠ সন্তান বিশিষ্ট পল্লীগীতি শিল্পী জহির আলীম।
IMG01
এবারের ইত্যাদিতে উল্লেখযোগ্য শিল্পীরা হলেন-ডঃ ইনামুল হক, সোলায়মান খোকা, মাসুম আজিজ, কে.এস.ফিরোজ, আব্দুল কাদের, আফজাল শরীফ, শবনম পারভীন, আব্দুল আজিজ, জিয়াউল হাসান কিসলু, কাজী আসাদ, সুভাশিষ ভৌমিক, মহিউদ্দিন বাহার, জিল্লুর রহমান, কামাল বায়েজিদ, সুব্রত, মামুনুল হক টুটু, নিপু, তারিখ স্বপন, বিলু বড়–য়া, শামীম, জামিল, মুকুল সিরাজ, আনোয়ার শাহী, শিউলী শিলা, মৌসুমী, সজল, শেলী আহসান, নজরুল ইসলাম, নিধি, ফরিদ, মতিউর রহমান মতি, ফাহিম, নিসা, এ্যামিলা, প্রেমা, সাজ্জাদ সাজুসহ আরো অনেকে। পরিচালকের সহকারী হিসাবে ছিলেন যথারীতি রানা ও মামুন। ইত্যাদি বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে-এ প্রচারিত হবে ২৯ জানুয়ারী, শুক্রবার রাত ৮ টার বাংলা সংবাদের পর। ইত্যাদির রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। নির্মান করেছে ফাগুন অডিও ভিশন।
