নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওনের সাথে ক্যামেরার লেন্স থেকে শুরু করে শুটিং ইউনিটের মানুষ অভ্যস্থ অনেক আগে থেকেই। হুমায়ূন আহমেদের গল্প ঠিক এই বরেণ্য লেখকের আদলেই দারুণ চলমান চিত্রের রূপায়ন সফলভাবে তিনিই জানেন সবথেকে ভালো। তাই দীর্ঘদিনের আলোচনা বা আড্ডা আলাপে যখন চলছিল যে কবে হুমায়ূন আহমেদের কাহিনীতে চলচ্চিত্র নির্মানে যাবেন মেহের আফরোজ শাওন? গেল বছরই সে উত্তরটা দিলেন তিনি তার কাজ দিয়ে। তার কৃষ্ণপক্ষ এখন মুক্তির দোরগোড়ায়।
বাংলা সাহিত্যের সবথেকে বড় জাদুকরের গল্পের ‘কৃষ্ণপক্ষ’ তাই এখন দর্শকদের সামনে শুধু প্রদর্শনের অপেক্ষায়। তাই প্রথম প্রশ্ন সেই একই কৌতুহলেই করলাম। কবে মুক্তি দিচ্ছেন?
- খানিক হেসে জানালেন, এটা তো ঠিক আমি জানি না। আমার বলাটাও ঠিক হবে না। এর প্রযোজক ইমপ্রেস টেলিফিল্ম। তারাই বলুক না হয় রিলিজের দিনক্ষণ।
আসলে নির্মাতা যে তার মুখ থেকে বলতে চাইছেন না সেটি স্পষ্টও করলেন খানিক পরে। আপাতত তাই আমরাও কথা রাখলাম, অফিসিয়ালী প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রিলিজের দিনক্ষণ না জানালে আমরা জানাব না।
IMG0
এদিকে এখনকার অবস্থা জানাতে গিয়ে নিজের কাজের ব্যস্ততায় নাকাল হবার খবরটিই পাওয়া গেল। বললেন,‘এমনিতেই বছরের প্রথম মাসে নানান অফিসিয়াল হিসেব পত্তরের একটা ঝামেলা তো থাকেই। সেই ঝামেলাতেই আছি এখন আমি। এর ভেতরে কৃষ্ণপক্ষের কালার কারেকশন থেকে প্রচারের খুঁটিনাটি তো রয়েছেই।’
চলচ্চিত্র নির্মাতা শাওন কতটা নিয়মিত হবে? এরকম প্রশ্নে বললেন,‘ নিয়মিত নির্মানের কাজ তো করছিই। করে যাবো। এটা আমার নিজস্ব কমিটমেন্টের জায়গা। অবশ্যই সৌখিনভাবে একটা বা দুটো কাজ করতে আসিনি আমি। চলচ্চিত্র অবশ্যই নিয়মিতই তৈরি করবো। এবছরেই হয়তো একটি চলচ্চিত্র নির্মানের কাজ শুরু করতে পারি। কিন্তু এখন কৃষ্ণপক্ষ নিয়ে মাথার ভেতরে এমনই এক ঘোর খেলা করছে যে, আপাতত অন্য শিডিউলগুলো ঠিকঠাক বলতেও পারবো না।’
খুব জলদি নতুন ধারাবাহিকের কাজ শুরু করবেন তিনি। স্ক্রীপ্ট থেকে শুরু করে কাস্টিংও চুড়ান্ত করেছেন। এত এত ব্যস্ততার ভেতরে নিজের আদুরে সন্তানদের সময় দেয়া প্রসঙ্গে বলেন,‘ওরা তো আমার প্রতিটা নিঃশ্বাসের গোনাগুনিতেই থাকে। মাত্র কিছুদিন আগে খানিক ভ্যাকেশনে ওদের নিয়ে থাইল্যান্ড ঘুরে এলাম। ওদের বাদি দিয়ে তো কিছুই না।’
IMG1
আসলে সৃজনশীল কাজের কোনো টেবিল চেয়ার থাকেনা, নির্দিস্ট সময়ের অংক থাকে না। সারাক্ষণ এটা ওটা নিয়ে চিন্তার খেলা খেলেই যায়। মেহের আফরোজ শাওনেরও তাই। নিজের পরিচয়ের ব্যপ্তিও তো অনেক দিকেই বিস্তৃত। নির্মাতা হিসেবে কাজ এগুচ্ছেন চলচ্চিত্রে বা নাটকে। রিয়েলিটি শো এর বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, এর ভেতরে অফিসে নিজের ব্যবসাসহ বাকি সবকিছু। সাথে ‘মা শাওন’ যখন পরিবারে তখন তিনি অন্য মানুষ। নিজের এই ব্যস্ততার ফিরিস্তিতেই সবসময় নিজেকে হুমায়ূন আহমেদের গল্পের কোনো না কোনো চরিত্রের ভেতর দিয়ে জীবনের বসবাসকে কল্পনা করেণ নিজের প্রচ্ছন্ন চলাফেরায়।
‘কৃষ্ণপক্ষ’ এখন সেন্সরে। খুব শিগগিরই ফলাফল আসবে। অতঃপর মুক্তির তারিখ, ক্যাম্পেইন প্ল্যান ইত্যাদি সব কাজকর্ম। মাহী’কে কাস্ট করা নিয়ে এর ভেতরে দেশের তাবৎ মিডিয়াকে নিশ্চয়ই আপনি বলে ফেলেছেন এর উত্তর।
এরপরও মাহী কতটা কমফোর্ট দিয়েছে নায়িকা হিসেবে নির্মাতা শাওনকে?
এর উত্তর মনে হয়, শাওনের মুখস্থই ছিল। কারণ হরহামেশা কৃষ্ণপক্ষ নিয়ে তো এই প্রশ্ন থাকবেই। তবু একটু আলাদা কিছু শুনতে চাইলে বললেন,‘আমার কাছে মেয়েটার সাধারণ স্বভাব-চলাচল, কথা বলাটা ভালো লেগেছে। এরপরেও তো ওর বয়স কম, সেই খেয়ালীপনা বা ছটফটে ভাব তো মেনে নিতেই হবে। তবে খুব ভালো লেগেছে যখন ও হুমায়ূন আহমেদের চরিত্রে কাজ করবে বলে নিজের আলাদা উচ্ছ্বাস ওর ভেতরে লক্ষ করছি, তখন বুঝেছি ও তার চরিত্রকে শ্রদ্ধা নিয়েই পুরোটা কাজ করছে।’
IMG2
ফিল্মি মাহী। বা ম্যাজিক মামুনীর মাহী যখন বড় পর্দায় সেই লাউড ভয়েসে ডায়লগ আউড়িয়ে অভ্যস্ত সেই মাহী নিজেকে কিভাবে হুমায়ূন আহমেদের গল্পের ক্লাসিক ইএসপিটা ধরতে পারলো?
শাওন জানালেন,‘মাহী আসলে অকপটেই যখন বলেছে যে ওর আগের ছবিগুলোর কিছু কিছু চরিত্র ওর নিজেরও পছন্দ না। তখন বুঝেছি ও মন দিয়েই কাজটি করতে এসেছে। এবং আমি কোনো কোন ক্ষেত্রে আমার প্রত্যাশার চাইতেও বেশি পেয়েছি ওর কাছ থেকে। এছাড়া ও সেটে দেরী করে আসে..অমুক তমুক নানান অভিযোগের বাক্সের খবর যখন শুনি তখন তা বানোয়াট মনে হয়েছে আমার নিজের কাছে , তবে অভিযোগ যদি বলতেই হয় তাহলে বলবো ওর অতি মাত্রার ডায়েট। এটা করা ওর উচিত না। আমার মতে মাহী’র এই অতি ডায়েট চর্চা বন্ধ করা উচিত।’
কৃষ্ণপক্ষের হিরো রিয়াজ কে নিয়ে কোনো প্রশ্ন করারও কিছু নেই। কারণ চিত্রনায়ক রিয়াজ হুমায়ূন আহমেদের চরিত্রের সাথে পরীক্ষিত ভাবে সফলতা দেখিয়েছেন বারবার। তাই নির্মাতা শাওনের ডিরেকশন অর্ডার বা তার চাহিদার আইকিউ দুজনার সমঝোতার অংকে মিলতে একেবারেই কসরত হয়নি, তা বোঝায় যায়।
তাই এখন শুধুই অপেক্ষার পালা। সেন্সর সার্টিফিকেট পেলেই খুব শিগগিরই মুক্তি পাবে। ইত্তেফাক অনলাইনসহ ইত্তেফাক পরিবারের সাথেও লম্বা আড্ডায় অংশ নেবেন তিনি। এমনটাই কথা দিলেন।
শুভকামনা নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওনের কৃষ্ণপক্ষ যাত্রার।
