নেতৃত্বে পরিবর্তন আনুন : বিএনপির নেতাদের প্রতি হাছান মাহমুদ

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০১৬, ১৭:৫১
বিএনপিকে তাদের পরবর্তী কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, যে দলে কলমের খোঁচায় কেউ নেতা হয়, আবার কেউ বহিষ্কার হয় সে দলের সম্মেলনের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য তাদের ধন্যবাদ। কিন্তু বিএনপির নেতাকর্মীদের বলবো আপনারা দয়া করে খালেদা জিয়াসহ যেসব নেতৃবৃন্দের হাতে মানুষের রক্ত, যারা জঙ্গিদের সঙ্গে বৈঠক করে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে দয়া করে তাদের সরিয়ে দিন। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের মদদদাতাদের নেতৃত্বে রেখে বিএনপি যে এখন মুমূর্ষু অবস্থায় আছে তা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে না। তাই নেতৃত্বে পরিবর্তন আনুন।
 
রবিবার সকালে জাতীয় শিল্পকলা একাডেমিতে গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাছান মাহমুদ এ মন্তব্য করেন।
 
বেগম জিয়ার দলেও ভাঙন, পরিবারেও ভাঙন এমন মন্তব্য করে হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি নেত্রীর ভাতিজা আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন। বিএনপির অনেক নেতাকর্মী এখন প্রকাশ্যে বলছে বিএনপির এই করুণ দশার জন্য খালদা জিয়া ও তারেক রহমান দায়ী। অনেক নেতা-কর্মী দল ছেড়ে যাচ্ছে। বেগম জিয়ার উচিত হবে এই লজ্জায় দল ত্যাগ করা। কারণ যিনি নিজের পরিবারের ভাঙন ঠেকাতে পারেন না, তিনি কিভাবে দলের ভাঙন ঠেকাবেন।
 
তিনি আরো বলেন, বিএনপির করুণ পরিণতি দেখে জিয়াউর রহমানের ছোট ভাইও বলেছেন, বিএনপি এখন আদর্শ বিচ্যুত।
 
গণঅভ্যুত্থান দিবসের আলোচনায় সাবেক এ পরিবেশমন্ত্রী বলেন, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ছয় দফার বাস্তবায়নের জন্য। গণঅভ্যুত্থানের ফলে জনগণের প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়ে পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুর উপর আনীত মিথ্যা আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। পত্রিকায় দেখলাম বিএনপি নেত্রী গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বিবৃতি দিয়েছেন। কিন্তু বিবৃতির কোথাও কার জন্য? কেন গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল তার উল্লেখ নেই। তাই যারা এ ধরনের হীনমন্যতা করে ঐতিহাসিক সত্য আড়াল করার চেষ্টা করে তাদের দিয়ে দলের কোন উন্নয়ন সম্ভব নয়। এদের হাত থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে হবে।
 
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানার সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, এম এ করিম, হাসিবুর রহমান মানিক প্রমুখ।