মিশরে আরব বসন্তের বর্ষপূর্তিতে পুলিশের প্রশংসা!

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০১৬, ১৪:২৩
মিশরে ‘আরব বসন্তের’ পাঁচ বছর পূর্তিতে গণঅভ্যুত্থানের কেন্দ্রস্থল স্বাধীনতা চত্বরে (তাহরির স্কয়ার) জড়ো হওয়া মানুষেরা ওই সময়ে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেছে। প্রায় ৩শ’ মানুষ গণঅভ্যুত্থান দিবসটি উদযাপন করার পরিবর্তে উল্টো আন্দোলনকারীদের বাধা দেওয়া নিরাপত্তা বাহিনীকে অভিনন্দিত করেছে।
 
 মিশরের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী একনায়ক হোসনি মুবারকের পতনের আন্দোলন শুরুর পঞ্চম বর্ষপূর্তি ছিল সোমবার। কায়রোর স্বাধীনতা চত্বরে ওই দিন এ ঘটনা ঘটেছে। মিশরীয় পুলিশে থাকা আমাদের ভাই, পিতা ও সহকর্মীদের স্মরণে আজ আমরা এখানে জমায়েত হয়েছি, যারা আমাদের জন্য তাদের রক্ত ও প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন, বলেন ৫২ বছর বয়সী রেফাত সাবরি। তার গায়ে থাকা জ্যাকেটে মিশরের সাবেক সেনাপ্রধান ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তা আল সিসির ছবিওয়ালা একটি পিন আঁটা ছিল। মুবারকবিরোধী আন্দোলনে নিহত পুলিশ সদস্যদের ‘আত্মোৎসর্গ’ উদযাপনে জড়ো হয়েছিলেন তারা। 
 
২০১১ সালের ওই বিপ্লবে যারা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সেই তরুণ আন্দোলনকারী ও ইসলামপন্থি মুসলিম ব্রাদারহুড সদস্য, বিপ্লব পরবর্তী সময়ে উভয়কেই দমন করেন সিসি। এতে আন্দোলনকারীদের রাজনৈতিক মুক্তির স্বপ্নের অকাল মৃত্যু ঘটে। প্রেসিডেন্ট এগিয়ে যাও, লেখা একটি প্ল্যাকার্ড বহন করছিলেন স্বাধীনতা চত্বরে জমায়েত হওয়া ব্যক্তিদের একজন।
 
অথচ পাঁচ বছর আগে ‘আরব বসন্ত’ আন্দোলন চলার সময় এই চত্বরটিই ‘জান্তার পতন হোক’ লেখা প্ল্যাকার্ডে ছেয়ে ছিল। ওই সময় এই আন্দোলনের প্রভাবে এক বছরের মধ্যে তিউনিসিয়া থেকে ইয়েমেন পর্যন্ত সব ‘জান্তার’ পতন হয়ে গিয়েছিল যারা সবাই কয়েক যুগ ধরে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন। পাঁচ বছর পর বিদ্রোহের ছোঁয়া লাগা এই রাষ্ট্রগুলোর কোনো কোনোটি যুদ্ধের লেলিহান শিখায় পুড়ছে, কোনোটি উদ্দেশ্যহীন বিশৃঙ্খলায় ঘুরপাক খাচ্ছে, আর বাকিরা আরো কঠোর স্বৈরাচারী শাসনের কবলে ফিরে গেছে।
 
২০১১ সালের আন্দোলন শুরু করা ‘৬ এপ্রিল মুভমেন্ট’ এক বিবৃতিতে বলেছে,  মিশরের মহা বিপ্লব শুরু হওয়ার পাঁচ বছর পর প্রতি-বিপ্লবীরা ফের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হয়েছে।বিবৃতিতে আরো বলা হয়, কিন্তু বিপ্লব শেষ হয়নি। বিপ্লব চলছে এবং মুক্ত, শক্তিশালী ও অগ্রসর জাতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যারা একে সমর্থন করেছিলেন তাদের ‍হৃদয়ে (বিপ্লবের) এই লক্ষ্য অটুট আছে। রয়টার্স।