১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে থাকছে না কাগজে কজ লিস্ট, পাওয়া যাবে অনলাইনে

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০১৬, ১৮:৫৮

আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে আর পাওয়া যাবে না কাগজে ছাপানো কার্যতালিকা। ওইদিন থেকে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েব সাইটে হাইকোর্ট বিভাগের অনলাইন কার্যতালিকা প্রদর্শনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এর ফলে প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে কাগজে ছাপানো মামলার দৈনন্দিন কার্যতালিকা হারিয়ে যাবে চিরতরে।

এর আগে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কাগজে ছাপানো কার্যতালিকা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি এক সাধারণ সভা আহবান করে ওই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের দাবি জানায় সাধারণ আইনজীবীরা। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বার নেতৃবৃন্দ ও সিনিয়র আইনজীবীরা বিকালে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠকে আইনজীবীদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কাগজে ছাপানো কার্যতালিকার পাশাপাশি অনলাইন কজলিষ্ট চালু রাখার সিদ্ধান্ত দেন। এরপর ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কাগজে ছাপানো কজলিষ্ট আর রাখা হবে না বলে আইনজীবীদের জানিয়ে দেন প্রধান বিচারপতি।

এর আগে আজ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল জেষ্ঠ্য জেলা জজ সৈয়দ আমিনুল ইসলাম এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিষয়টি তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন, হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার আবু সৈয়দ, মো. দিলদার হোসেন, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (বিচারক ও প্রশাসন) সাব্বির ফয়েজ, ডেপুটি রেজিস্ট্রার কামাল হোসেন শিকদার ও গবেষণা কর্মকর্তা মো. শামিম সুফি প্রমুখ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।  
 
গত নভেম্বর মাস থেকে হাইকোর্ট বিভাগের কার্যতালিকা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রদর্শনের ব্যবস্থা নেয়া হয়। একইসঙ্গে ছাপানো হয় কাগজের কার্যতালিকাও। পরীক্ষামূলকভাবে তিন মাস উভয় পদ্ধতি অনুসরনের পর আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে পুরোপুরি অনলাইন কার্যতালিকা অনুসরন করতে হবে বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী জনগণকে। এর ফলে বছরে সাশ্রয় হবে প্রায় ২১ কোটি টাকা। সম্প্রতি প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার উদ্যোগে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। অনলাইন কার্যতালিকা মনিটর করার জন্য প্রধান বিচারপতি ইতমধ্যে ৬ সদস্যের একটি মনিটরিং কমিটিও গঠন  করেছেন।
 
আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের প্রতিদিনের মামলার কার্যতালিকা ছাপনো কাগজে প্রকাশ করা হয়। আপিল বিভাগে দুটি এবং হাইকোর্টে প্রায় অর্ধশত বেঞ্চ রয়েছে। এর মধ্যে হাইকোর্টে দ্বৈত ও একক বেঞ্চ রয়েছে। প্রতিটি বেঞ্চের প্রতিদিনের মামলার কার্যতালিকা হয় প্রায় কয়েকশত পৃষ্ঠার। আর আপিল বিভাগের কার্যতালিকা হয় ৭/৮ পৃষ্ঠার। হাইকোর্টের কার্যতালিকা ছাপা হয় বিজি প্রেসে। সূত্র জানায়, প্রতিদিন হাইকোর্টের জন্য ২৬০০ টি কার্যতালিকা ছাপানো হয়। এ কাজে সুপ্রিম কোর্ট কোর্ট প্রশাসনের বেশ জনবল ও অর্থেরও প্রয়োজন পড়ে। প্রতিবছর ২০ কোটি ৭০ লাখ টাকা খরচ হয় এই কার্যতালিকা ছাপানোর পেছনে। তবে তালিকাভুক্ত একেকজন আইনজীবীর কাছ থেকে কার্যতালিকা সরবরাহের জন্য বছরে আড়াই হাজার করে টাকা নেয় সুপ্রিম কোর্ট। এর পরও বিপুল পরিমাণ অর্থ গুনতে হয় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনকে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি বিচার ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশনে রূপান্তরের চিন্তাভাবনা থেকে এই অনলাইন কার্যতালিকা প্রদর্শনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যদিও ইতমধ্যে আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের দৈনন্দিন মামলার কার্যতালিকা ও মামলার সর্বশেষ তথ্য ওয়েবসাইটে প্রদর্শন করা হচ্ছে।
 
হাইকোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (বিচার ও প্রশাসন) সাব্বির ফয়েজ বলেন, কাগজে ছাপানো কার্যতালিকা উঠিয়ে দেয়ার ফলে অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি শ্রম ও সময়ের সাশ্রয় হবে। ১ ফেব্রুয়ারি  থেকে কাগজে ছাপানো কার্যতালিকা আর থাকছে না।