পণ্য পর্যালোচনা

প্রিভ: প্রশংসিত ডিজাইনে প্রশ্নবিদ্ধ পারফরমেন্স

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০১৬, ০৯:৩৬
ঘাটতি থাকলে স্মার্টফোন বাজারে খুঁড়িয়ে চলতে চলতে এক পর্যায়ে হারিয়ে যাওয়া ছাড়া উপায়ই নেই। নকিয়ার ভাগ্যে এমনটাই ঘটেছে। ব্ল্যাকবেরিও সেই পথ ধরে হাঁটতে শুরু করেছিলো। কিন্তু নিজেদের পতন টের পেয়ে পথ পরিবর্তন করে কোম্পানিটি। নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম ফেলে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের ফোন ‘ব্ল্যাকবেরি প্রিভ’ আনে প্রতিষ্ঠানটি। আর এতেই ঘুরে দাঁড়ানোর শক্ত ভিত পেয়েছে কানাডাভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠান। তবে ব্ল্যাকবেরির ইতিহাসে প্রথম অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনটি ফিচারের দিক থেকে প্রশংসিত হলেও দাম ও পারফরমেন্স নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
 
ডিজাইন
ব্ল্যাকবেরি সবসময়ই চেষ্টা করেছে ডিজাইনে নতুনত্বের ছোঁয়া আনতে। ব্ল্যাকবেরি প্রিভেও তাই হয়েছে। পেছনে ফ্ল্যাট বডির অ্যালুমিনিয়াম কভার ও সামনে এস ৬ এজ-র মত ডুয়েল কার্ভড্‌ ডিসপ্লে রয়েছে। বাঁকানো ডিসপ্লে আগে দেখা গেলেও যা দেখা হয়নি তা হল অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ফিজিক্যাল কিবোর্ড। ব্ল্যাকবেরি পাসপোর্টের মত এখানেও তাদের সেই ট্রেডমার্ক কিবোর্ডটি আছে, যা লুকানো রয়েছে ডিসপ্লের ভেতরে। ডিসপ্লেটি স্লাইড করে এই কিবোর্ড বের করে আনা যাবে।
 
IMG0
 
কিবোর্ড
ব্ল্যাকবেরির কিবোর্ড মানে যে শুধুই কিবোর্ড নয়, তা অনেক আগেই সবাই জেনে গেছে। বিভিন্ন রকমের ফাংশন এই কিবোর্ডে অবস্থান করছে। যেমন, টাইপ করার সময় দ্বিতীয় সারির বোতামগুলোতে উপর থেকে ডানদিকে আলতো আঙ্গুল চালালেই স্পেস চলে আসবে শব্দের পরে। একইভাবে কাজ করবে ব্যাকস্পেসও, শুধু বাম দিকে আঙ্গুল চালাতে হবে।
 
এ রকম বহু শর্টকাট ছাড়াও কিবোর্ডটি টাচপ্যাড হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। টাইপিংয়ে সূক্ষ্ম কোন জায়গা অথবা টেক্সট সিলেক্ট করার সময় এই কার্সর দারুণ কাজে দেবে। এমনিতে কিবোর্ডটি ফাস্ট এবং রেস্পন্সিভ। বড় হাতের জন্য অবশ্য বোতামগুলো বেশ ছোট মনে হতে পারে। সেক্ষেত্রে একটা চাপতে আরেকটা চেপে ফেলার সমস্যাটা তৈরি হবে।
 
ডিসপ্লে
৫.৪ ইঞ্চি ডিসপ্লে, যার রেজ্যুলেশন ২৫৬০*১৪৪০ পিক্সেল। বোঝাই যাচ্ছে, শার্পনেসে ও কালার রি-প্রোডাকশনে কোনো রকম ঘাটতি নেই। অ্যামোলেড ডিসপ্লে হওয়াতে ছবি অথবা ভিডিও প্রায় ফুটে উঠবে ডিসপ্লে থেকে।
বাঁকানো ডিসপ্লেটির জন্য মিডিয়া এক্সপেরিয়েন্স অনেক বৃদ্ধি পেলেও শেষমেশ এর খুব একটা ব্যবহার নেই। প্রডাক্টিভিটি ট্যাব নামক বিভিন্ন অ্যাপের শর্টকাট সারি বেধে বাঁকানো জায়গাটিতে রয়েছে। ছোটখাটো কাজের জন্য তাই আর ফোনের ভেতরে ঢোকার প্রয়োজন পড়বে না।
এছাড়া ফোনটি চার্জ দিলে বাঁকানো ডিসপ্লেটিতে অত্যন্ত সুন্দর একটা ব্যাটারি বার ফুটে ওঠতে দেখা যাবে।
 
IMG1
 
পারফরমেন্স
স্ন্যাপড্রাগন ৮০৮ হেক্সাকোর চিপসেট ব্যবহার করা হয়েছে ও র্যারম রয়েছে ৩ জিবি। দুই ধরনের প্রসেসর থাকছে এতে। বড় বড় কাজ সামাল দেওয়ার জন্য থাকছে ১.৮ গিগাহার্জ ডুয়েল কোর প্রসেসর ও ছোটখাটো কাজের জন্য থাকছে ১.৪ গিগাহার্জ কোয়াড কোর প্রসেসর।
এত কিছুর ফল হল ফোনটির পারফরমেন্স মোটামুটি ভালো, কিন্তু তা বাজারের জন্য শ্রেষ্ঠ নয়। সাধারণ কাজকর্মে সমস্যা না করলেও ভারি ভারি সব গেইম খেললে সামান্য ল্যাগ পাওয়া যেতে পারে।
ডিফল্ট স্পেস রয়েছে ৩২ জিবি, মেমোরি কার্ড দিয়ে যা ২০০ জিবি পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।
 
ক্যামেরা
ফোনটির পেছনে রয়েছে দারুণ একটা ১৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। সুন্দর ও কালারফুল সব ছবি উঠবে এটা দিয়ে। তাছাড়া অনেক অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন, ফেইজ ডিকেকশনসহ বেশ কিছু কাজের ফিচার রয়েছে ক্যামেরা অ্যাপে।
ব্যাক ক্যামেরার অত্যাধিক মেগাপিক্সেল মনে হয় ফ্রন্ট ক্যামেরা থেকেই সরানো হয়েছে, কারণ এটা মাত্র ২ মেগাপিক্সেল। কোয়ালিটি বেশ ভালো বলা যায়, কিন্তু তা সেরা নয়।
 
IMG2
 
ব্যাটারি
৩৪১০ মিলি-অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি টানা ব্যবহারে সাড়ে দশ ঘণ্টা চলতে পারবে। পুরো দিন চালাতে হলে তাই একটু সাবধান হতে হবে।
 
দাম
ডিভাইসটির দাম বাংলাদেশী মুদ্রায় ৫৫ হাজার থেকে ৬৫ হাজার টাকা হবে।
 
এক নজরে ভালো
– অদ্বিতীয় ডিজাইন
– শার্প ডিসপ্লে
– ফিজিক্যাল কিবোর্ড
 
এক নজরে খারাপ
– পারফরমেন্সে ঘাটতি রয়েছে
– ব্যাটারি লাইফ আরও ভালো হতে পারতো