স্পিকার সম্মেলনে যোগ দেয়নি পাকিস্তান

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এসডিজি অর্জনে সক্ষম হবে: লোকসভার স্পিকার

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০১৬, ০০:০০

ঢাকায় শুরু হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার স্পিকারদের সম্মেলন। ‘অ্যাচিভিং সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল’ শীর্ষক দু’দিনব্যাপী সাউথ এশিয়ান স্পিকারস সামিটে আমন্ত্রণ জানানো হলেও আসেননি পাকিস্তানের স্পিকার। নেপালের স্পিকারও যোগ দেননি। সম্মেলনের আজ রবিবার সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 
গতকাল সোনারগাঁও হোটেলে সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে দেয়া বক্তব্যে ভারতের লোকসভার স্পিকার  সুমিত্রা মহাজন বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছেন। এখন তারা এর সুফল ভোগ করছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, তার নেতৃত্বেই এই দেশ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, একবিংশ শতাব্দী হবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন অর্জন সম্ভব।’
 
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি এসোসিয়েশনের (সিপিএ) চেয়ারপারসন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার প্রত্যেকটি দেশ নিজেদের সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন করতে পারে। এক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ’।
 
সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন ভুটানের জিগমে জ্যাংপো, মালদ্বীপের আব্দুল্লাহ মাসিহ মোহাম্মদ ও আফগানিস্তানের আব্দুর রউফ ইব্রাহিমী। শ্রীলংকার ডেপুটি স্পিকার আজ সমাপনীতে উপস্থিত থাকবেন। ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) আয়োজিত এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ও ‘ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস’(সিটিএফকে)-এর সহায়তায় এই সম্মেলন হচ্ছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইপিইউ প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ ও দারিদ্র্যকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেয়া হয়েছে বলে জানান বক্তারা।
 
আইপিইউ ও সিপিএ’র মত দু’টি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় ফোরামে বাংলাদেশি প্রধান হওয়ায় সুমিত্রা মহাজন তাদেরকে ধন্যবাদ জানান। এসময় তিনি শিরীন শারমিনকে ‘ছোট বোন’ বলে সম্বোধন করেন। সুমিত্রা বলেন, ‘এটা সত্যিই গর্বের বিষয় যে-বাংলাদেশ উন্নয়ন করছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো খুবই জনবহুল। এজন্য এসডিজি বাস্তবায়নে আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। তাছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো শুধু ইতিহাস শেয়ার করে। আমাদের সংস্কৃতি, ভৌগোলিক এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থান প্রায় একই। এজন্য আমাদের একযোগে কাজ করতে হবে।’ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো ঐকমত্যের ভিত্তিতে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে মনে করেন মালদ্বীপের স্পিকার  আব্দুলাহ মাসিহ মোহাম্মদ।
 
সম্মেলনের ধারণাপত্রে বলা হয়, এসডিজি’র সফলতা সারাবিশ্বের মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন নিয়ে আসবে। আইপিইউ’র সদস্য দেশগুলো এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে অঙ্গীকারাবদ্ধ। আইপিইউ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করতে পারে।
 
সম্মেলনে উপস্থাপিত ধারণাপত্রে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, মিয়ানমার ও শ্রীলংকার ৩৮৪ মিলিয়ন লোক ধূমপান করে। যা বিশ্বের মোট জনগোষ্ঠীর ৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ। বিশ্বে তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১ দশমিক ১ বিলিয়ন। কেবল বাংলাদেশ এবং ভারতেই প্রতিবছর ১ দশমিক ১ মিলিয়ন লোক ধূমপানের কারণে মারা যায়। এজন্য দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে এসডিজি অর্জনের ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়ার আহ্বান জানানো হয় ধারণাপত্রে।