যেখান থেকে জিকা’র শুরু

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০১৬, ১৮:০৪
সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছে জিকা ভাইরাস। লাতিন আমেরিকাসহ বিশ্বের বেশ কিছু দেশে এই ভাইরাসের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। মশাবাহিত এই রোগ প্রথম সনাক্ত হয় আফ্রিকাতে।
 
আফ্রিকার দেশ উগান্ডার জিকা নামক একটি বনে বানরের শরীর থেকে এই ভাইরাস প্রথম সনাক্ত করেন বিজ্ঞানীরা। মূলত বনের নামানুসারেই এই ভাইরাসের নাম।
 
তবে, নতুন করে গত বছরের মাঝামাঝি ব্রাজিলে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়। এখন পর্যন্ত ব্রাজিলই জিকায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। এখন পর্যন্ত জিকার কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি।
 
জিকা নামে আফ্রিকার এই ঘন জঙ্গলটি খুব ঠান্ডা প্রকৃতির। শুকনো পাতার শব্দও যেন এখানে আলোড়ন তোলে। কিন্তু এই চুপচাপ-শান্ত বনটির ভাইরাস নিয়েই আতঙ্কে পুরো বিশ্ব।
 
উগান্ডার রাজধানী থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরের এই বনটি পোকামাকড় ও পাখির ডাকেই মুখরিত থাকে। এখানেই ১৯৪৭ সালে প্রথম জিকা ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া যায়। কিন্তু সম্প্রতি এটি সবার নজরে আসে। প্রায় মহামারি আকারেই ছড়িয়ে পড়ছে বেশকিছু দেশে।
 
এত বছর ধরে রোগটির ব্যাপারে জানতো না কেউই। এমনটি গত সাত বছর ধরে এই জিকা বনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা মুকিসাও ভাইরাসের নাম শুনেছেন মাত্র দুই সপ্তাহ আগে।
 
তিনি বলেন, বনের কাছে বসবাসকারী খুব অল্প মানুষই এই ভাইরাসের কথা জানে এবং তারা খুবই চিন্তিত। কিছুদিন আগেও এই বনের নাম কেউ জানতো না। বিজ্ঞানী ও গবেষকরা মাঝে মাঝে বনটিতে যান।
 
মুকিসা বলেন, প্রতি সপ্তাহে শিক্ষার্থীরা গবেষণার জন্য বনটিতে আসেন। তবে স্থানীয়রা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল আগেই। তখন হয়তো কেউ বুঝতে পারেনি এত ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে জিকা ভাইরাস।
 
কিন্তু ব্রাজিলে এই ভাইরাসের আগমনের পরই এর দিকে নজর পড়ে বিশ্ববাসীর। তবে ব্রাজিলে পাওয়া এই ভাইরাস আফ্রিকায় শুরু হয়নি বলে দাবি করেছেন উগান্ডার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতির মাধ্যমে তারা জানায়, ‘আমরা উগান্ডায় অনেক বছর ধরেই এমন কোনো রোগ পাইনি।’

বর্তমানে জিকা নামের এই বনটি নিয়ে গবেষণা করছে উগান্ডা ভাইরাস রিসার্চ ইন্সটিটিউট। ১৯৩৬ সাল থেকেই ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করে আসছে তারা। বনের একদম কাছেই থাকা এক বাসিন্দা রুথ মিরেম্বে বলেন, ‘আমি ফেসবুকের মাধ্যমে জিকা ভাইরাস নিয়ে জানতে পেরেছি। কিন্তু আমি এটা নিয়ে চিন্তিত নই।
 
জিকা ভাইরাস ডেঙ্গুর মতো এক ধরনের জ্বর। লক্ষণ হিসেবে শরীরে জ্বর থাকে, অস্থিসন্ধিতে ব্যথা থাকে। বিশেষ করে হাত এবং পায়ের জয়েন্টে বেশি ব্যথা হয়। গায়ে ফুসকুড়ি থাকে।
 
এদিকে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোয় জিকা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ থেকে ৪০ লাখ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন চ্যান মার্গারেট চ্যান। ব্রাজিলে প্রথম শনাক্ত হলেও ইউরোপসহ উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার ২১ টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস। ব্রাজিলে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা তিন হাজার ৯০০ বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে ৩০০ জনের সংক্রমণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে। ব্রাজিল সরকার ভাইরাসটির বাহক মশা মোকাবেলায় দুই লাখ ২০ হাজার সেনা ও তিন হাজার স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করেছে। সূত্র: এনডিটিভি