শাহীন রহমান। নামটি কোনো তারকার মনে না হলেও আমাদের অডিও ইন্ডাষ্ট্রির জন্য অন্যতম গুরুত্ব বহন করে এই নামটি! কারণ এদেশের অডিও গানের প্রথম উন্নত রেকর্ডিং স্টুডিও প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে দেশে সিডি প্রথার প্রথম প্রচলন তিনিই করেন। যখন আমাদের অডিও বাজার দেশের বাইরে বাজারজাতকরণ একটা স্বপ্নের গন্ডিতেই ছিল, তখন এই মানুষটি সেই কাজ করে দেখিয়েছিলেন। গুণী এই সঙ্গীত উদ্যোক্তা প্রয়াত হলেন সম্প্রতি। তাকে নিয়ে ঘনিষ্ঠ দুই শিল্পী স্মৃতিকাতর হলেন ইত্তেফাকের কাছে।
কুমার বিশ্বজিত্ : শাহিনের সাথে আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল। আমার গানের প্রথম সিডি প্রকাশ হয় তার মাধ্যমে। এই বিষয়টা আমি কখনোই ভুলতে পারবো না। শুধু আমার বললে ভুল হবে বাংলাদেশে প্রথম গানের সিডি প্রকাশ হয় তার হাতে। এটা বাংলাদেশের সঙ্গীতের ইতিহাস। যতদিন বাংলাদেশের সঙ্গীত থাকবে ততদিন শাহিন রহমানের নাম থাকবে। আমি আমেরিকাতে শো করতে গেলেই সে আমার সাথে দেখা করতে আসতো। সে অসুস্থ হলে আমি ৩ বার তাকে দেখতে যাই। প্রায়ই ফোনে আমাদের কথা হতো। আমাকে ওষুধ পাঠাতে বললে আমি বেশ কয়েকবার ওষুধ পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু কঠিন অসুখ তাকে কেড়ে নিল। আমি তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।
তপন চৌধুরী: আমার গানের প্রথম সিডি প্রকাশ হয় অ্যাঞ্জেলেস থেকে। আমি তখন লন্ডন থাকতাম। উনি এসে আমাকে নিয়ে যান। আমার জীবনের সবচেয়ে ভাল সময় কেটেছে তার সাথে। তিনি বাংলাদের একজন অনন্য নক্ষত্র। কেননা তিনিই প্রথম বাংলাদেশের গান সিডি আকারে প্রকাশ করেন। আমি যখন বিমান বন্দরে গিয়ে পৌঁছাই, তখন আমাকে নিতে এসে তিনি বললেন সিডি প্রকাশের একটি অনুষ্ঠান হবে। সরল আর স্বাভাবিক সুরেই বললেন, ‘দাদা,আপনাকে একটি স্যুট কিনে দেই।’
আমি আপত্তি করলেও তিনি তা না শুনে আমার জন্য স্যুট, শার্ট ও টাই কিনে দিলেন। এখনও শাহীনের সাথে সেই স্মৃতিগুলো আমার কাছে জ্বলজ্বলে। আমি তার কথা সারা জীবন মনে রাখব। এমন একজন ভালো মানুষ চিরদিনের জন্য চলে গেলেন। ভাবতে কষ্ট হয়। কারণ তিনি ভবিষ্যত দেখতে পারতেন। এটা সবাই পারেন না। সুখে থাকুন আপনি, শান্তিতে থাকুন এই কামনা করি।
