'১৬ তম সংশোধনী সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেনি'

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ২০:১১
 
অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুরাদ রেজা বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে ফিরিয়ে নেওয়ায় সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেনি। ৭২’র সালে এই ক্ষমতা সংসদের হাতে ছিলো। তখন যদি এটি মৌলিক কাঠামোকে আঘাত করে না থাকে তাহলে এখন সে প্রশ্ন উঠবে কেন?
 
১৬তম সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ সংক্রান্ত রিটের চূড়ান্ত শুনানিতে তিনি এসব কথা বলেন। মুরাদ রেজা আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষে এই শুনানিতে অংশ নিয়েছেন। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের বিশেষ বেঞ্চে গতকাল এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
 
মুরাদ রেজা বলেন, আনীত রিটটি জনস্বার্থমূলক মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। কি কি ক্ষেত্রে জনস্বার্থমূলক হতে পারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বনাম আবু সায়ীদ খানের মামলার রায়ে আপিল বিভাগ সেই নির্দেশনা দিয়েছে। শুনানির এক পর্যায়ে মুরাদ রেজা আদালতের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের অধীনে এখন পর্যন্ত কোন বিচারক অপসারিত হয়নি। তাহলে এই পদ্ধতিকে কি কার্যকর বলা যাবে? জবাবে আদালত বলেন, সাজা দেওয়ার মত কাউকে পেলাম না তার পরেও দু’একজনকে সাজা দিতেই হবে এটাই কি যুক্তি? এ কথাও তো শোনা যাচ্ছে সংবিধানের অনেক প্রয়োজনীয় সংশোধনী ছিলো সেটি করা হয়নি। হঠাৎ বিচারকদের অপসারনের বিষয়টি নিয়ে কেন সংশোধনী আনলেন? তিনি বলেন, কেন এবং কি কারনে এটি পুনঃস্থাপন করা হয়েছে আইনমন্ত্রী বিলটি উপস্থাপনের সময় সংসদে তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
 
শুনানিকালে রিট আবেদনকারীর আইনজীবী মনজিল মোরসেদ ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোতাহার হোসেন সাজু উপস্থিত ছিলেন।
 
প্রসঙ্গত ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আনা হয়। দেশের শীর্ষ আইনজীবীরা এবং সংসদের বাইরের বিরোধী দলগুলো এ সংশোধনী প্রত্যাখান করে। সংবিধানের এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নয় আইনজীবী জনস্বার্থে হাইকোর্টে এই রিট আবেদন করেন। হাইকোর্ট এই রিটের শুনানির জন্য শীর্ষ ৫ আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, এম আমীর-উল ইসলাম, মাহমুদুল ইসলাম, রোকনউদ্দিন মাহমুদ ও আজমালুল হোসেন কিউসিকে অ্যামিকাসকিউরি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।