দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বিনিয়োগ বোর্ড, এনজিও ব্যুরো, রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) এবং ইমিগ্রেশন ও সিআইডির কাছে তাদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে সম্প্রতি চিঠি পাঠানো হয়েছে। মূলত অবৈধ বিদেশির সংখ্যা নির্ধারণ ও তাদের কাছ থেকে প্রকৃত আয়কর আদায়ের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা স্বাক্ষরিত জরুরি ওই চিঠিতে বলা হয়, অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে প্রকৃত কর আদায়ের লক্ষ্যে তদারকি কার্যক্রম জোরদারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট দফতর কিংবা প্রতিষ্ঠানে রক্ষিত বিদেশিদের তালিকা এনবিআরে পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে। তবে কতদিনের মধ্যে এ তালিকা এনবিআরে পাঠাতে হবে- চিঠিতে তা স্পষ্ট করা হয়নি।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে হাজার হাজার অবৈধ অনুমোদনবিহীন বিদেশি নাগরিক গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর ধরে চাকরি করছেন। তারা মোটা অংকের বেতন ভাতা পেলেও সরকারের ঘরে কোন আয়কর দিচ্ছেন না। অন্যদিকে যারা বৈধ হিসেবে চাকরি করছেন, তারাও নামমাত্র বেতন দেখিয়ে বড় অংশই ফাঁকি দিচ্ছেন। এর ফলে সরকার প্রতি বছর শত শত কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ। বিদেশিদের যে কোনো পরিমান আয়ের উপর বর্তমানে ৩০ শতাংশ হারে আয়কর প্রযোজ্য রয়েছে।
গত বাজেটে অবৈধ কিংবা তথ্য গোপনকারী বিদেশি নাগরিক ও তাদের নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এতে বলা হয়, কোন কোম্পানি অবৈধ কিংবা ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া বিদেশি নিয়োগ দিলে ওই কোম্পানির প্রদেয় আয়করের ৫০ শতাংশ বা কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা জরিমানা হবে। ওই কোম্পানির কর অব্যাহতিসহ অন্যান্য কর সংক্রান্ত সুবিধা বাতিলের পাশাপাশি জেল-জরিমানার কথাও বলা হয়।
