প্রিন্স মাহমুদ। এদেশের নব্বই দশকের আধুনিক গানের বাঁক বদল হয়েছে তার হাত ধরে। জীবদ্দশায় সব সুরকার নিজের গানকে কালোত্তীর্ণ হবার ঘটনা দেখে যেতে পারেন না। তিনি পেরেছেন। এদেশের দুই প্রজন্মের তরুণ, যুবকরা তার গানের সাথে নিজেদের হাজার স্মৃতি মিলিয়ে নিয়েছে। তবে এখনকার সুরে তার খানিক ছন্দপতন না অতি আধুনিকতায় তার গান আগের মতো তোলপাড় হচ্ছে না, সেটি গবেষণার বিষয়। এই সব বিষয়েই অকপট জবাব দিলেন তিনি ইত্তেফাক অনলাইনের কাছে
সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে ‘খেয়াল পোকা’ নামে আপনার আয়োজনে একট মিক্সড অ্যালবাম, কিন্তু এত লম্বা বিরতিতে কাজ করার কারণ কি?
গত বছরের প্রথম দিকে প্রকাশ হয়েছিল একটি মিশ্র অ্যালবাম। এই অ্যালবামটিও গত বছরেই আনার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু যে মোবাইল কোম্পানির সাথে গানগুলো নিয়ে চুক্তি হয়েছে তাদের সাথে একটা ঝামেলা চলছিল, যে কারণে একটু দেরি হয়ে গেল।
আপনি যাদের সাথে কাজ করে উঠে এসেছেন-যেমন আইয়ুব বাচ্চু, জেমস, হাসান, এদের সাথে কেন এখন আর কাজ হয় না?
অনেকদিন ধরে তাদের সাথে কাজ করা হয় না এটা ঠিক। তবে এর পেছনে উল্লেখযোগ্য কোন কারণ নেই। এখন সেই সময়ের তুলনায় আমি কিছুটা কম কাজ করছি। সিনিয়ররা এখন গানে আগের মত সক্রিয় নন। এদিকে আমিও নতুনদের দিকে কিছুটা ঝুঁকে গেছি। সব মিলিয়ে করা হচ্ছে না আর কি। তবে যে কোন সময় আবার তাদের সাথে কাজ হতেও পারে।
তরুন কণ্ঠশিল্পীদের কণ্ঠে আপনার সুরাপিত গানগুলো আগের মত জনপ্রিয় হচ্ছে না কেন? বারোমাস, জন্মদিন, মা বা এত কষ্ট কেন ভালোবাসায় এসব গানের ইতিহাস কি আর রচিত হবে না?
এখন আগের তুলনায় গান কম করছি। তরুনদের কণ্ঠে আমার করা গানগুলো যে একেবারে শ্রোতাপ্রিয় হচ্ছে না, তা কিন্তু নয়। গত দু-তিন বছরে বেশ কয়েকটি গান শ্রোতারা ভাল ভাবেই নিয়েছেন। তবে এখন আগের তুলনায় শ্রোতাদের মধ্যে একটা পরিবর্তন আসছে। এখন মানুষ গান শোনার সাথে সাথে তার মিউজিক ভিডিও দেখতে পছন্দ করেন। কিন্তু আমার গানের মিউজিক ভিডিওর সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। এটা একটা বড় কারণ হতে পারে।
আপনি নিজেও একটি অ্যালবামে কণ্ঠ দিয়েছিলেন, সেই শিল্পী প্রিন্সকে আর দেখা গেল না কেন? এটা কি গায়ক প্রিন্সের ব্যর্থতার কারণেই?
আমি কণ্ঠশিল্পী নই। ঐ অ্যালবামটিতে কণ্ঠ দেওয়া আমার একটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। যে কারণে অ্যালবামটি প্রকাশের এক সপ্তাহের মধ্যেই তা আমি বাজার থেকে তুলে নিই এবং সেই গানগুলো অন্য শিল্পীদের দিয়ে কণ্ঠ দেওয়াই। সেখানে থেকে বেশ কয়েকটি গান শ্রোতাদের মধ্যে খুব ভালো সাড়া ফেলেছিল।
আগামী কাজের বিষয়ে বলুন।
আপাতত নতুন কোন পরিকল্পনা নেই। এখন ‘খেয়াল পোকা’ থেকে দুটি গানের মিউজিক ভিডিও নির্মাণের বিষয়ে চিন্তা করছি। খুব শিগগিরই মিউজিক ভিডিও নির্মাণের কাজটিতে হাত দেব। আপাতত মিউজিক ভিডিওগুলো নিয়েই ব্যস্ততা চলছে।
চলচ্চিত্রে প্রিন্স মাহমুদের এত অল্প গান কেন?
সম্প্রতি বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে গানের কাজ করেছি। আরও নতুন কাজ চলছে। আমি আমার নিজের মত করে গান করতে পছন্দ করি। আর খুব বেশি পরিমানে কাজ করার আগ্রহ আমার নেই। যে কারণে আমি অল্প পরিসরে চলচ্চিত্রের গানে কাজ করি।
