তবে শোবিজ ইন্ডাষ্ট্রিতে ‘ডিজে সনিকা’ হিসেবেই সু-পরিচিত। পুরো নাম মারজিয়া কবির সনিকা। শোবিজের এই বিয়ের ডামাডোলে হুট করেই নিজের দীর্ঘদিনের বয়ফ্রেন্ডকেই বিয়ে করেন তিনি। এরপর মিডিয়া থেকে খানিক বিরতি নিয়ে ঘর সংসারটাও সামলেছেন ঠিক-ঠাক। কোলে এখন তার ফুটফুটে কন্যা সন্তান।
IMG0
জুনিয়র সনিকা’র নাম কি রাখা হলো? এ প্রশ্ন করতেই সনিকা বলেন, ‘মাত্র দেড় মাস হলো ওর বয়স। অথচ এখনও নামটা চুড়ান্ত করতে পারছি না। প্রতিদিনই একাধিক নামের প্রস্তাব আসে। কিন্তু স্মার্ট কোনো নামের হদিস পাচ্ছি না।’
ইত্তেফাক অনলাইনের সাথে কথা হয় বর্তমান কাজের খবরাখবর নিয়ে। সনিকা বলেন, ‘আমি আমার বেবীটা হবার মাত্র দুই মাসের মাথায়-ই কাজ শুরু করেছি। আসলে যারা কাজের অভ্যস্থতায় থাকে, তাদের পক্ষে কাজ ছাড়া ঘরে থাকাটা খুবই কষ্টের। আবার এখন যেমন বাইরে আড্ডাবাজি বা কাজের পরে কোথাও যাওয়াটাও কমে গেছে। ঘরে ফিরে বেবীটাকে নিয়েই আনন্দে সময় কেটে যায়। অনেকে এখন বিশ্বাসই করতে চান না যে, আমার একটা বেবীও হয়ে গেছে। তবে আমি হলফ করে বলতে পারি যে আমি খুব ভালো একজন মা।’
IMG1
সনিকা তার সাংসারিক এই তাগিদগুলো শেষ করেই নিজের নিয়মিত কাজ শুরু করেছেন। এরই ভেতরে এটিএন বাংলার নিয়মিত শো ‘ট্রেন্ডস’ এর কাজ শুরু করেছেন। পাশাপাশি এস এ টিভির লাইভ গানের অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন।
ডিজে সনিকা শোবিজ ইন্ডাষ্ট্রিতে শুধু একজন ডিজে হিসেবেই নন, বরং এদেশের নারী ডিজে’দের আইকন হিসেবেই প্রখ্যাত। সনিকার শিষ্যসদস্য হিসেবেও এখন অনেকেই ভালো কাজ করছেন। বরাবরের স্পষ্টবাদী ডিজে সনিকা নিজের বিয়ের পর ক্যারিয়ারের সুবিধা ও অসুবিধা প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিষয়টা আপেক্ষিক। আসলে মিডিয়াতে যারা সুবিধাভোগী আয়োজক বা নির্মাতারা থাকেন, তাদের জন্য কেনো নায়িকা বা গ্ল্যামার কন্যা বিয়ে করেছে-এই কথাটি শুনতে অবশ্যই খারাপ লাগবে। আমি নিজের কথা বলছি না। কারণ আমি বরাবরই আমার প্রেমিকের ব্যাপারে খুব স্পষ্ট ছিলাম। এছাড়া বিয়ের ক্ষেত্রেও কোনো লুকোচুরি করিনি। কিন্তু কিছু নির্মাতা বা আয়োজক তো থাকেনই যারা অবিবাহিত মেয়েদের কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা বা নিছক প্রলোভন দেখাতে চান, তারাই বিয়ে নিয়ে এধরনের সুবিধা-অসুবিধার অংক কষেন বা বিষয়টিতে নেতিবাচক হিসেবে প্রচার করেন যে বিয়ে করলেই বুঝি ক্যারিয়ারে ধ্বস নামে। কই আমার নিজের ক্ষেত্রে তো এর কোনো প্রভাব পাচ্ছি না। কাজের মানুষদের কখনও এসবে অসুবিধা হয় না। যারা অকাজের তাদের জন্যই এসব বাহানা।’
IMG2
এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বিয়ে-লুকোচুরির বিষয়ে চিত্রনায়িকা থেকে শুরু করে মডেলরাও তাদের প্রেমিককে ‘কাজিন’ বলে প্রচার করেন। এটাও কি ক্যারিয়ার বাঁচানোর সুবিধার্থে কি-না? এ প্রসঙ্গে সনিকার মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দেখুন আমি মনে করি, যাদের তিন চারটে বয়ফ্রেন্ড থাকে, তারাই এমন প্রেমিক বা পূর্ব স্বামীকে কাজিন বলে পরিচয় দেয়। নয়তো সে তখন অন্য প্রেমিকদের কি জবাব দেবে?’
বরাবরই স্পষ্টবাদিতার জন্য সনিকা তার শোবিজ বন্ধু মহলে প্রশংসিত।এছাড়া কাজের বাইরে অকারণ বাহাসও তিনি কমই করেন।’
অন্তস্বত্ত্বা থাকাকালীন জিটিভির একটি সিরিয়ালে অভিনয় থেকে নিজে অব্যহতি নিয়েছিলেন। তাই আবারও নাটকে ফিরবেন কি না জানতে চাইলে ডিজে সনিকা বলেন, ‘মনে হয় না ফেরা হবে। কারণ নাটকে যে পরিমান কষ্ট করতে হয় একজন আর্টিস্টকে, সেই তুলনায় তার রিটার্নব্যাক খুবই কম। আর দিন শেষে তো আর্থিক সঙ্গতিটাও দেখতে হয়। তাই মনে হয় না, নাটকে আর আমি ফিরবো। কারণ টিভিশো আর স্টেজ ডিজে নিয়ে বেশ আছি। এরই ভেতরে বেশ কিছু স্টেজ শো করেছি। আমার কাছে জীবনে সব স্বাভাবিক ছন্দেই থাকাই পরম আনন্দ। নিজেকে অকারণে আলাদা করতে গিয়ে উচ্ছৃংখল হয়ে আসলে কিছু পাওয়া যায় না। যেমন আমার ভাবতে খুব ভালো লাগে যে আমার ছাত্রী যারা আছেন ইন্ডাষ্ট্রিতে-যেমন ডিজে মারিয়া, ডিজে সুমী ওরাও খুব রুটিন লাইফ মেনটেইন করে। এমনকি ডিজে মারিয়াও এরই ভেতরে মা হয়েছে। সেও তার কাজে ফিরেছে। আমি মনে করি, এই সুস্থ জীবনকেই সবার এপ্রিশিয়েট করা উচিত।’
