মধ্যম আয়ে উপনীত হওয়ার লক্ষে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে দেশ : পরিবেশ ও বনমন্ত্রী

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ২২:৩০
পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উপনীত হওয়ার লক্ষে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
 
রবিবার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. আয়েন উদ্দিনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে উপজাত হিসেবে পরিবেশ দূষণের আবির্ভাব হয়। তবে পরিবেশ দূষণ সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকারের নানাবিধ পরিকল্পনা ও উদ্যোগ রয়েছে।
 
মন্ত্রী বলেন, পরিবেশ দূষণ রোধকল্পে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সরকার জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় ৪৪টি কার্যক্রম চিহ্নিত করে ক্লাইমেট চেঞ্জ স্ট্রাটেজি অ্যান্ড অ্যাকশন প্লান (বিসিসিএসএপি) ২০০৯ প্রণয়ন করেছে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা হয়েছে। ফান্ডটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন-২০১০ বলবৎ করা হয়েছে এবং এই তহবিলে সরকার এযাবৎ ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।
 
তিনি বলেন, এ ছাড়া উন্নয়ন সহযোগী দেশসমূহের সহায়তায় বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ রেজিলিয়েন্স ফান্ড গঠন করা হয়েছে। এই ফান্ডে যুক্তরাজ্য সরকারসহ দাতা দেশসমূহ থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ১৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা পাওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে। এ অর্থ দিয়ে সরকার বিভিন্ন ধরনের এডাপটেশন এবং মিটিগেশন সংশ্লিষ্ট প্রকল্প গ্রহণ করছে।
 
মন্ত্রী বলেন, হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনা মোতাবেক পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু এবং শীতলক্ষ্যা নদীসমূহ ও তাদের ফোরশোর অঞ্চলকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসাবে ঘোষণা করেছে।
 
মন্ত্রী আরো বলেন, ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে ইটিপি স্থাপনযোগ্য ১ হাজার ৪৮২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইতোমধ্যে ১ হাজার ১১৩টি শিল্প প্রতিষ্ঠানে ইটিপি স্থাপিত হয়েছে।
 
আনোয়ার হোসেন বলেন, ২০১০ সালের ১৩ জুলাই থেকে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২ হাজার ১১৯টি প্রতিষ্ঠান থেকে পরিবেশ দূষণের জন্য ২০৩ কোটি ৮১ লাখ (৩৫ হাজার ৮৯০ টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য এবং এর মধ্যে ১৩১ কোটি ৫৪ লাখ ৯৬ হাজার ১৮৮ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে। ২০১৫-এর ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫৬ শতাংশ ইটভাটা পরিবেশবান্ধব উন্নত প্রযুক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়েছে।
 
তিনি বলেন, বিগত ১ বছরে মোট ৪৪৪টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ১০৮ দশমিক ২ টন নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন শপিং জব্দ, ১ দশমিক ৩৬ কোটি টাকা জরিমানা আদায় এবং ১ হাজার ৬২১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
 
তিনি আরো বলেন, ‘বন্ধু চুলার বাজার উন্নয়ন উদ্যোগ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৫ লাখ পরিবেশ বান্ধব চুলা স্থাপন করা হয়েছে এবং ৫ হাজার উদ্যোক্তা গড়ে তোলা হয়েছে। বর্তমানে ‘বন্ধু চুলার বাজার উন্নয়ন উদ্যোগ-২য় পর্ব’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে আরো ৭০ হাজার পরিবেশ বান্ধব চুলা স্থাপন করার কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।