সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী অবসরের পর হাতে লেখা রায় ও আদেশসহ তাঁর কাছে থাকা সব মামলার নথি জমা দিয়েছেন। সোমবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে আপিল বিভাগের বিচারক বিচারপতি মো. ইমান আলীর কাছে তিনি হাতে লেখা মামলার রায় ও আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট মামলার নথি জমা দেন। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর কাছে আর কোনো রায় বা আদেশ লেখা বাকি নেই।
বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী জানান, গত রবিবার সন্ধ্যায় আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা তাঁর হাতে লেখা রায় ও আদেশগুলো গ্রহণ করতে সম্মত হন। এ জন্য তিনি বেঞ্চের আরেক বিচারপতি মো. ইমান আলীর কাছে তাঁর লেখা রায় ও আপিলগুলো জমা দিয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্ট রবিবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীকে গণমাধ্যমে কথা না বলে তাঁর কাছে থাকা মামলার নথিগুলো দ্রুত ফেরত দিতে বলেন। এর আগে গতকাল সকালে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, তিনি যেসব রায় ও আদেশ লেখা শেষ করেছেন, সেগুলো জমা দিতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি সেগুলো গ্রহণের জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর সুপ্রিম কোর্ট ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তাঁকে সব ফাইল ফেরত দিতে বলেন।
বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে: খন্দকার মাহবুব
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর আচরণ বিচারক সুলভ নয়। তিনি প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে যেভাবে গণমাধ্যমে বক্তব্য রাখছেন তা অত্যন্ত দুখ:জনক এবং যা বিচার বিভাগের ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন করছে। প্রধান বিচারপতি এ ব্যাপারে যে ব্যবস্থা নেবেন তার সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট বার একাত্নততা প্রকাশ করবে। গতকাল সমিতি ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
বার সম্পাদক ব্যারিস্টার এম মাহবুবউদ্দিন খোকন বলেন, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর যে রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্টু ছিলেন তার তার সাম্প্রতিক কর্মকান্ডেই প্রকাশ পাচ্ছে। আমরা মনে করি তাকে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেয়া ঠিক হয়নি।
অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রতিক্রিয়া:
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর সাম্প্রতিক কর্মকান্ড বিচার বিভাগের মর্যাদাকে ক্ষুন্ন করছে। কোন প্রাক্তন বিচারপতির এমন বক্তব্য দেওয়া উচিত নয় যাতে বিচার বিভাগ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের অন্য রকম ধারণা হতে পারে। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার কার্যালয় যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে তার সঙ্গেও আমি একমত পোষণ করছি।
