সাক্ষাৎকার

‘যে বিষয়টি নিয়ে মত বিভক্তি তৈরি হয়েছে তা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন’: হামিন

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ০৮:২৯
কিছুদিন ধরেই অডিও ইন্ডাস্ট্রিতে এক মত বিভক্তি সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর ডাকা মিটিংকে কেন্দ্র করেই এই বিভক্তি। বলা হচ্ছে, ২০১৭ সাল থেকে কেউ কোনো গান রিলিজ দিতে চাইলে তাকে বিএলসিপিএস থেকে অনুমোদন নিতে হবে। কিন্তু বিষয়টি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন ব্যান্ড তারকা ও বিএলসিপিএস-এর সেক্রেটারি হামিন আহমেদ। গত কয়েক দিন গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ভুল সংবাদ প্রচার হচ্ছে বলে জানান তিনি। বিষয়টি নিয়ে পরিষ্কার মন্তব্য ও ভুল বোঝা থেকে সবাইকে বিরত থাকা নিয়ে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মোস্তাফিজ মিঠু
 
সম্প্রতি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর সাথে বিএলসিপিএস-এর মিটিং নিয়ে শিল্পীদের মধ্যে মত বিভক্তি তৈরি হয়েছে। আপনি তো সেই মিটিংয়ে ছিলেন। এই বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাই?
 
যে বিষয়টি নিয়ে মত বিভক্তি তৈরি হয়েছে তা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। কারণ সেখানে বিএলসিপিএস-এর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে কাজ করতে হবে এমন কিছু নিয়ে কথা বলা হয়নি। সেদিনের আলোচনার বিষয় ছিল শুধুমাত্র টেলিকম কোম্পানির কাছ থেকে শিল্পীরা যে রয়্যালিটি বঞ্চিত হচ্ছেন, সেই বিষয়টি নিয়ে। মিটিংয়ে বিএলসিপিএস-এর পক্ষ থেকে সাবিনা ইয়াসমিন, আলাউদ্দিন আলী, এন্ড্রু কিশোর, ফুয়াদ নাসের বাবু, সুজিত মুস্তাফা ও আমি উপস্থিত ছিলাম। এছাড়াও প্রতিটি টেলিকম কোম্পানি থেকে একজন করে মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন। এই বিষয়টির বাইরে কোনো আলোচনাই হয়নি। কিন্তু গণমাধ্যমে প্রচার হচ্ছে বিএলসিপিএস থেকে অনুমোদন নিয়ে কাজ করতে হবে। যার কোনো ভিত্তিই আসলে নেই। বিএলসিপিএস কোনো চুক্তির অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে না।
 
কিন্তু অনেকের অভিযোগ এই মিটিংয়ের বিষয়ে তাদের কিছু জানানো হয়নি। এ প্রসঙ্গে কী বলবেন?
 
এখানে প্রথম কথা হচ্ছে, যারা বলছেন তাদের কিছু জানানো হয়নি তারা বিগত কয়টা মিটিংয়ে অংশ নিয়েছেন। এর আগের মিটিংগুলোতে আমি অনেককেই ফোন করে মিটিংয়ে আসতে বলেছি। তখন সবাই আসবে বললেও কিন্তু আসেননি। এখানে তো তাদের দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিগত কার্যক্রমগুলোতে যদি তারা উপস্থিত থাকতেন এবং কার্যক্রমের সাথে যদি যুক্ত থাকতেন তাহলে অবশ্যই তারা জানতেন।  একটি মিটিংয়ে সবাইকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না। মিটিংটি যখন ডাকা হয় তখন আমরা দায়িত্বরত যারা আছি তারা মিটিংয়ে অংশ নিই। আর না জানা মানে বঞ্চিত হওয়া নয়। কিন্তু এই দায়িত্ব নিয়ে যদি কারও প্রশ্ন থাকে তাহলে সে বলুক আমি আমার চেয়ার ছেড়ে তাকে দিয়ে দেবো। সে দায়িত্বগ্রহণ করুক। কিন্তু অবশ্যই কাজ করতে হবে।
 
যারা সেই মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন না তাদের নিয়ে বিএলসিপিএস কোনো মিটিং করবে কি-না?
 
অবশ্যই করবে। আমরা সবাইকে চলতি মাসের শেষে অথবা মার্চে একটি মিটিং করবো। যারা মিউজিক করছেন তারা সবাই এই বিএলসিপিএস সংস্থার সদস্য। এটা কোনো সংগঠন না, এটি একটি সংস্থা। যা শিল্পীদের রয়্যালিটি নিশ্চিতের জন্য কাজ করবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সাথে আমরা কথা বলবো। এটার মাধ্যমে পুরো বাংলাদেশে আমরা শিল্পীদের নিয়ে মিটিং করবো।
 
বিএলসিপিএস সংস্থার মধ্য দিয়ে শিল্পীদের সুবিধা নিশ্চিতের বিষয়ে বলবেন—
 
বিএলসিপিএস শিল্পীদের নিয়ে একটি সংস্থা, একটি সিএমও। সারাবিশ্বেই এমন পদ্ধতি চালু আছে। এতে করে শিল্পীদের রয়্যালিটি নিশ্চিত হবে। শিল্পীরা যখন কোনো সিডি কোম্পানির সাথে চুক্তি করবে তখন বিএলসিপিএস থেকে একটি লাইসেন্স দেওয়া হবে। এখানে শিল্পী যাকে বলবেন লাইসেন্সটা দিতে তাকেই দেওয়া হবে। এরপর সেই শিল্পী যদি সঠিক রয়্যালিটি না পায় সেখানে বিএলসিপিএস পদক্ষেপ নেবে। এখানে শিল্পীরা পুরো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন। তারা চাইলে লাইসেন্স নেবেন, না চাইলে না নেবেন। এটা তার স্বাধীনতা। কিন্তু বিএলসিপিএস থেকে লাইসেন্স করা থাকলে তার রয়্যালিটির বিষয়টি নিশ্চিত হবে।
 
নতুনরা এখান থেকে কেমন সহযোগিতা পাবেন?
 
নতুন বা পুরোনো উল্লেখযোগ্য কিছু না, এখানে আমি যেমন একজন নতুন শিল্পীও তেমন। সবাইকে নিয়েই আমাদের এই কার্যক্রম। তাই এই সুবিধা পুরো দেশের শিল্পীরা পাবেন।