সে একটা সময় ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ মানেই সবার মনে ভেসে উঠতো চার জন ভয়ঙ্কর ফাস্ট বোলার খেলার আতঙ্ক। সেই দিন নেই। তারপরও এই ক্যারিবীয় যুবদলের বিপক্ষে খেলতে নামার আগে বাংলাদেশ মনে করছে বৃহস্পতিবার সেমিফাইনালে তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে পেস বোলিং সামলানো। অন্তত তেমনই বললেন গতকাল দলের উপদেষ্টা বিশেষজ্ঞ স্টুয়ার্ট ল ও অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্ত।
শান্ত অবশ্য বলছিলেন, তারা ইতোমধ্যে পেস বোলিং ভালো খেলেন, এটার প্রমাণও রেখেছেন। ফলে তিনি খুব চিন্তিত নন, ‘ওরা পেস বোলিং শেষ কয়েক দিন ধরে খুব ভালো বোলিং করছে। অন্যদিকে আমরা শেষ কয়েক দিন ভালো ব্যাটিং করছি পেস বোলিংয়ে। সেমিফাইনালের মত একটি জায়গায় যে ভালো করবে, মানসিকভাবে শক্ত থাকবে তারাই জিতবে ইনশাআল্লাহ।’
প্রায় একই ধরনের কথা বলছিলেন জাতীয় দলের সাবেক কোচ লও। তার বক্তব্য মতে, তারা আসলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং নিয়ে ভাবছেনই না, ভাবছেন নিজেদের নিয়ে, ‘আমরা জানি, ওদের কয়েক জন খুব ভালো পেস বোলার আছে। কয়েক জন খুব মারকুটে ব্যাটসম্যানও আছে। আসলে ওরা কি করবে সে নিয়ে চিন্তিত নই আমরা। আমরা কি করতে পারি, ওটা নিয়েই ভাবছি।’
শান্ত বলছেন, এই নিজেদের করতে পারাটা নিয়ে তার খুব সংশয় নেই। কারণ, সেমিফাইনাল বা ওয়েস্ট ইন্ডিজ বলে নয়, তারা সব সময়ের মতো সমান গুরুত্বের সাথে নিচ্ছেন এই ম্যাচটাকে, ‘রিল্যাক্সের কোনো কিছু নেই এখানে। আমি আগেও বলেছি যার সঙ্গে ম্যাচ খেলি আমাদের প্রসেস এক রকম থাকবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ হোক, ভারত হোক আর নেপালই হোক। রিল্যাক্সের কিছু নেই। আর আত্মবিশ্বাস বেশিও নেই; কমও নেই। আগে যেরকম ছিল ওরকমই আছে। ম্যাচ জিতছি প্রথম থেকে এ কারণে আমরা সবাই ফুরফুরে মেজাজে আছি।’
এমনকি সেমিফাইনাল বলে আলাদা কোনো পরিকল্পনারও পক্ষে নন এই ইনফর্ম ব্যাটসম্যান, ‘আমরা যেটা পারি, আমাদের ধরন ক্রিকেটে, আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলব। সেমিফাইনাল দেখে আমরা পাওয়ার প্লান ব্যবহার করব এরকম কোনো চিন্তা নেই। যে রকম বল হবে আমরা সে রকমভাবেই খেলব। এখন যদি বাজে বল করে তাহলে ওভাবে পানিশ করব। ভালো বল করলে দেখে-শুনে খেলবো। বাড়তি কোনো পরিকল্পনা নেই।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজ যেহেতু বিশ্বকাপের আগেই বাংলাদেশের বিপক্ষে একটা সিরিজ খেলেছে, তাই এদের নিয়ে পরিকল্পনা করাও সহজ হবে বলে শান্ত স্বীকার করলেন, ‘পরিকল্পনা করা সহজ হচ্ছে। কারণ আমরা ওদের সঙ্গে ম্যাচ খেলেছি। এর আগে ওদের ভিডিও দেখেছি। ওদের আমরা বেশিরভাগই চিনি। এটা আমাদের জন্য অ্যাডভানটেজ।’
সেই সিরিজটাতে ক্যারিবীয়রা হোয়াইট ওয়াশ হয়েছিল। তারপরও শান্ত মনে করেন, ইতোমধ্যে এই কন্ডিশনে মানিয়ে নিয়েছে বলে বেশ এগিয়ে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ‘ওরা আমাদের সঙ্গে এর আগে একটা সিরিজ খেলছে। ওরা কিন্তু অনেক দিন ধরেই আমাদের দেশে আছে। অ্যাডজাস্ট করছে ভালো; ওরা ভালো ক্রিকেট খেলছে। স্ট্রং বলবো না; যে ভালো ক্রিকেট খেলবে সেই জিতবে। ওভাবে দেখছি না যে খুব ভালো, স্ট্রং; কিংবা আমরা অনেক বেশি চিন্তিত। আবার এটাও চিন্তা করছি না যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিছু না; আমরা সহজেই জিতব। আমরা আমাদের স্বাভাবিক চিন্তাটাই করছি।’
শেষ পর্যন্ত সারা দেশের স্বপ্ন হলো, ক্যারিবীয় এই বাধা পার হয়ে শান্তরা ফাইনালে যাবেন। তবে শান্ত বলছেন, তারা এখনই ফাইনাল নিয়ে ভাবছেন না, ‘আমাদের ইচ্ছে আছে ফাইনাল খেলার। সবারই আছে। আমরা ফাইনাল নিয়ে চিন্তা করছি না। এখন হয়তোবা কেউ বলছে, কেউ বলেনি। আমরা ১১ তারিখের ম্যাচটি নিয়ে চিন্তা করছি। ফাইনালে কে আসবে না আসবে; কি হবে না হবে, এগুলো নিয়ে চিন্তা করছি না।’
