সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তিদের জরুরি চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য দেশের সব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদেরকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং চিকিৎসা না পেলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি কোথায় অভিযোগ করবেন সে বিষয়ে নীতিমালা তৈরির জন্যও সরকারকে বলেছে আদালত।
বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার এই আদেশ দেন। আদেশে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত কর্মপরিকল্পনা অনুসারে রাষ্ট্রের সব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে জরুরি চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে কি ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন আগামী তিন মাসের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
স্বাস্থ্য সচিব, পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে গুরুতর আহত ব্যক্তির চিকিত্সা সেবা দ্রুত প্রদানের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) ও সৈয়দ সাইফুদ্দিন কামাল নামের এক ব্যক্তি। আবেদনে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন তুলে ধরে বলা হয়, গত ২১ জানুয়ারি আরাফাত নামের এক ব্যক্তি বাসে উঠতে গিয়ে পা পিছলে নিচে পড়ে যান ও গুরুতর আহত হন। তাঁকে নিকটস্থ তিনটি হাসপাতালে নেয়া হলে তাঁকে চিকিত্সাসেবা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। এরপর পুলিশের সাহায্য নিয়ে তাঁকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে তিনি মারা যান।
আবেদনে বলা হয়, এ ধরনের দুর্ঘটনায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে প্রতিদিনই চিকিত্সা সেবা না পেয়ে মারা যাচ্ছেন সাধারণ নাগরিকরা। এ বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা প্রয়োজন। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোতাহার হোসেন সাজু। শুনানি শেষে হাইকোর্ট অন্তবর্তিকালীন আদেশের পাশাপাশি রুল জারি করে। রুলে সড়ক দুর্ঘটনায় মর্মান্তিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির জরুরি চিকিত্সা সেবা কেন দেয়া হবে না তা জানতে চেয়েছে আদালত।
