২০ দলীয় জোটে বেশিরভাগ দলের ঠিকানা বাসাবাড়ি

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ০০:৩২
বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিকদলগুলোর হাঁকডাক থাকলেও কর্মকাণ্ডে গতিহীন হয়ে পড়েছে। মিছিল-সমাবেশসহ কর্মসূচি পালন থেকে বিরত আছে ২০ দলের অন্তত ১৬টি দল। এ জোটের নয়টি দলের নিবন্ধন আছে নির্বাচন কমিশনে। তবে ক্রমশ তারাও দুর্বল হয়ে পড়ছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), লেবার পার্টি ছাড়া কারো তত্পরতা চোখে পড়ে না। এই চারটি দলের কার্যক্রম মূলত অডিটোরিয়ামের চার দেয়ালে গণ্ডিবদ্ধ হয়ে পড়েছে আলোচনা সভা-প্রতিবাদ সভা সেমিনার জাতীয় কর্মসূচিতে। তবে জামায়াত প্রায়শ বিক্ষোভের নামে ঝটিকা মিছিল করে থাকে। বিএনপি চলছে সাংবাদিক সম্মেলন এবং বিভিন্ন দিবসের আলোচনা সভা কেন্দ্রিক। এখন ব্যস্ত দলটির জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে।
 
জোটের শরিক অধিকাংশ দলের পূর্ণাঙ্গ কার্যালয় নেই। কারো কেন্দ্রীয় কার্যালয় থাকলেও, মাসের পর মাস খোলা হয় না তা। কেউ রাজনৈতিক কাজ চালান নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকেই। নিজের বাসাতেই কেউ কেউ সাইনবোর্ড টানিয়ে নিয়েছেন। আবার একই ভবন থেকে এক অফিস ব্যবহার করছেন একাধিক দল। এর অন্যতম কারণ রাজনীতি না থাকায় দলগুলোর আয় কমে গেছে। অফিস ভাড়া দেয়ার মতো সাধ্য নেই অনেক দলের। কোনো কোনো দলকে চলতে হচ্ছে জোটের বিত্তবান দলের দাক্ষিণ্যে।
 
জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতের অফিস বন্ধ ২০১১ সাল থেকেই। সবচেয়ে দুঃসময় পার করতে হচ্ছে এই দলটিকে। তাদের প্রায় সব নেতা কারাগারে, না হয় আত্মগোপনে। দলটির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে মূলত আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে।
 
পল্টন কালভার্ট রোডের একটি ভবনের তিনটি আলাদা কক্ষ বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, জমিয়াতে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি’র (এনডিপি) কার্যালয়। এর মধ্যে আটমাস ধরে বন্ধ জমিয়াতে উলামায়ে ইসলামের কার্যক্রম। অন্যরা কখনো আসেন কখনো আসেন না। মাঝে মাঝে অফিসে আসেন এনডিপির দফতর সম্পাদক। ৩৭/২ কালভার্ট রোডের ফাইনাজ অ্যাপার্টমেন্ট নামের অন্য একটি ভবন থেকে পরিচালিত হচ্ছে জোটের বাংলাদেশ লেবার পার্টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির কর্মকাণ্ড। নিজ বাসা থেকে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন খেলাফত মজলিশের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মাদ ইসহাক। ১৬ বিজয় নগরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সাইনবোর্ড থাকলেও সেখানে কোনো কার্যালয় নেই। জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) এবং গরীবে নেওয়াজের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ পিপলস লীগের আলাদা অফিস নেই। পরিচালিত হয় নেতাদের বাসা থেকে। তোপখানা রোডের বাণিজ্যিক ভবন মেহরাব প্লাজার নিচতলার একটি কক্ষে ন্যাপ ভাসানীর অফিস। ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান মো. আজহারুল ইসলাম তার এই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকেই দলের অফিস করেছেন। আসাদ গেটে সাইনবোর্ডবিহীন পারিবারিক ভবনে করা হয়েছে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার কার্যালয়। ৮৫ নয়াপল্টনের একটি ভবনের ৬ তলায় দুটি কক্ষে কল্যাণ পার্টি আর বাংলাদেশ ন্যাপের কার্যালয়। কল্যাণ পার্টির অফিস দীর্ঘদিন তালা ঝুলানো। বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যানের ইন্তেকালের পর অস্তিত্বহীনতায় ভুগছে দলটি। পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সাইনবোর্ড আছে ১২৪/১, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজায়। সাম্যবাদী দলের (একাংশ) ওয়ারীতে কেন্দ্রীয় অফিসে সাইনবোর্ড থাকলেও অস্তিত্ব নেই। তেজগাঁওয়ের এফডিসির পাশে একটি বহুতল ভবনে লিবারের ডেমোক্রেটিক পার্টি- এলডিপির অফিস থাকলেও কার্যক্রম নেই দীর্ঘ দিন ধরে।
 
বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বেড়ে ১৮ দলীয় জোট হয়। পরে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) ও সাম্যবাদী দলের একাংশ এই জোটে যোগ দিলে তা ২০ দলীয় জোটে পরিণত হয়। গত পৌর নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে জোটে থাকা ইসলামী ঐক্যজোট ২০ দল ছেড়ে চলে যায়। এর পরই একই দলের সাবেক সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুর রাকিব ও অধ্যাপক আব্দুর করিমে নেতৃত্বে ইসলামী ঐক্যজোটের অপর অংশ বিএনপির সঙ্গে থাকার ঘোষণা দেন। ইসলামী ঐক্যজোটের (মুফতি আমিনী) নিবন্ধন এবং লালবাগে অফিস থাকলেও আবদুর রাকিবের তা নেই।
 

জোটের একটি শরিক দলের প্রধান ইত্তেফাককে বলেন, বড় অফিস নিয়ে ‘মেনটেইন’ করার মতো অবস্থা বিএনপি এবং জামায়াত ছাড়া কোনো দলের নেই। যারা কোনো অফিসের কক্ষ ভাড়া নিয়ে চেয়ারটেবিল সাজিয়ে রেখেছেন তাদের আয় আসে ‘অন্যজায়গা’ থেকে। পকেটের পয়সায় কেউ ভাড়া দেয় না। তিনি বলেন, ছোট দলগুলোর নেতারা বিরোধীদলে থাকার কারণে সুবিধা পাচ্ছেন না। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড না থাকায় বিভিন্ন মাধ্যমে যে আয় রোজগার হতো তা কমে গেছে। আর অফিসের কোনো প্রয়োজনও নেই এখন।