আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পাকিস্তানের নগ্ন হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রাম সম্পর্কে পাকিস্তানের কটূক্তিপূর্ণ বক্তব্য এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্যের বিরুদ্ধে সমগ্র দেশবাসী এখন জেগে উঠেছে। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর গাবতলী থেকে যাত্রাবাড়ি পর্যন্ত দীর্ঘ ১৫ কিলোমিটার এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচিতে লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিশ্বকে দেখিয়ে দেয়া হবে যে, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ এখনো ঐক্যবদ্ধ।
গতকাল বৃহস্পতিবার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিভিন্ন পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ‘নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সকল পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মানববন্ধন কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, এটা শুধু ১৪ দলের নয়, গোটা জাতির পক্ষে মানববন্ধন। স্বাধীন বাংলাদেশে একাত্তরের পরাজিত শত্রুদের হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পাকিস্তানের অবৈধ হস্তক্ষেপের বিষয়টি জাতিসংঘ ও সার্কে অভিযোগ করার জন্য নেতৃবৃন্দ সরকারের প্রতি দাবি জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, পাকিস্তান ও খালেদা জিয়ার দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রের জবাব দীর্ঘ ১৫ কিলোমিটার মানবন্ধনের মাধ্যমে দেয়া হবে। বাংলাদেশ বিরোধী পাকিস্তানের ষড়যন্ত্র রুখে দেয়ার এখনই সময়। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মানববন্ধনে সর্বস্তরের মানুষকে শরিক হবার আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, এটি বাঙালির কর্মসূচি। এটি একটি বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি নয়। তাই সবাই পরিবার-স্বজনদের সঙ্গে এনে মানববন্ধন সফল করুন। পেশাজীবীদের নিজ নিজ পেশার পোশাক পরে মানববন্ধনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে এ ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি জেলা-উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ে পালন করা হবে।
বৈঠকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, পাকিস্তানের অপকর্ম ও গণহত্যাকে আড়াল করার জন্য তারা শুরু থেকেই মিথ্যাচার করে এসেছে। আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে, স্বাধীন বাংলাদেশের ওপর বিদেশি রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ আমরা বরদাশত করব না।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, মহান স্বাধীনতা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী সকলের ১৫ ফেব্রুয়ারির মানববন্ধনে অংশ নেয়া উচিত। সাংবাদিক সমাজের নেতারা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে অংশ নেবেন বলে তিনি জানান। জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, ১৫ ফেব্রুয়ারি মানববন্ধন রাজনৈতিক নয়, রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সবাই এতে অংশ নেবেন। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হাসান ইমাম বলেন, অভ্যন্তরীণ হস্তক্ষেপের বিষয়টি সার্কের মাধ্যমে পাকিস্তানকে সতর্ক করতে হবে। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বলেন, পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ সব সীমা অতিক্রম করেছে। প্রকৌশলী আব্দুস সবুর বলেন, পাকিস্তান ও খালেদার বক্তব্য একই সূত্রে গাঁথা। তিনি বলেন, মানববন্ধন কর্মসূচিতে প্রকৌশলীরা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে অংশ নিবেন। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) হেলাল মোর্শেদ খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার অজ্ঞতারই প্রকাশ পেয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের লাখ লাখ মানুষ মানববন্ধনে অংশ নেবে বলে তিনি জানান। বাংলাদেশ সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব ওমর ফারুক বলেন, পাকিস্তানের আচরণ সীমা লঙ্ঘন করেছে। বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘে অভিযোগ করতে হবে। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস বলেন, একাত্তরের মতো এখনো পাকিস্তানের মিত্র বিএনপি-জামায়াত। তাদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নেতাকর্মীরা শাহবাগ-শিশুপার্ক এলাকায় থাকবে বলে তিনি জানান। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন মেহেদী বলেন, যখনই যুদ্ধাপরাধীদের রায় কার্যকর শুরু হয়েছে, তখন থেকেই পাকিস্তান নতুন করে বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তিনি বলেন, আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে প্রেসক্লাব পর্যন্ত এলাকায় মানববন্ধনে অংশ নেবেন। স্বাচিপের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজিজ বলেন, সর্বক্ষেত্রে পাকিস্তানের পণ্য বর্জন করতে হবে। শাহবাগ থেকে সোনরগাঁও হোটেল পর্যন্ত চিকিত্সক সমাজের নেতাকর্মীরা মানববন্ধনে অংশ নেবেন বলে তিনি জানান।
বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহমেদ মুক্তা, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাস গুপ্ত, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বিএম মোজাম্মেল হক, দফতর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য এসএম কামাল হোসেন, জাতীয় পার্টির (জেপি) সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল খায়ের সিদ্দিকী আবু, দপ্তর সম্পাদক এম সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
সংশোধনী
গতকাল দৈনিক ইত্তেফাকের দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের ছাপা ছবিটি ঢাকা ডেন্টাল কলেজের লেডিস হোস্টেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের। অসাবধানতাবশত: একই দিনে মন্ত্রীর অন্য একটি অনুষ্ঠানের ছবির বিবরণী মুদ্রিত ছবির ক্যাপশনে ছাপা হয়েছে। অনিচ্ছাকৃত এ ভুলের জন্য দুঃখিত।-বার্তা সম্পাদক
