মুষ্টির চালে ৪২০ আদিবাসী পরিবারের দুর্দিন জয়

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ১৮:১৮
মুষ্টির চালে জমানো অর্থে দুর্দিন কাটিয়ে উঠেছেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ি উপজেলার অজপাড়াগাঁয়ের ৪২০টি আদিবাসী পরিবার।
 
প্রতিদিন তিনবেলা ভাত রান্নার জন্য হাঁড়িতে চাল ভেজানোর আগে সেখান থেকে মাটির পাতিলে এক মুষ্টি চাল সরিয়ে রাখেন তারা। ৩০ দিনের জমানো চাল বিক্রি করা হয় এক সঙ্গে। বিক্রিত চালের টাকা ব্যাংকে নিজের হিসেবে জমা রাখেন তারা। এ জমানো অর্থ তারা দুর্দিনে ব্যয় করেন। উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের তিলাইপাড়া ও কামারডাঙ্গাসহ ২১টি গ্রামের ৪২০টি পরিবারকে চৈত্র-কার্তিকের দুর্দিনে এখন কারও কাছে হাত পাততে হয় না।
 
জানা যায়, উপজেলার ২১টি গ্রামের ৪২০টি পরিবারের নারীদের নিয়ে শুরু হয় মুষ্টির চাল উত্তোলন। তখন থেকে এ পর্যন্ত ৮ হাজার ১৫৩ কেজি চাল জমা হয়েছে। এরমধ্যে ৫ হাজার ৯৫১ কেজি চাল ৩২ হাজার ৪৯ টাকায় বিক্রি করে ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছে এবং আপদকালীনের জন্য ১ হাজার ৩৯৫ কেজি চাল মজুদ রাখা হয়েছে।
 
তিলাইপাড়া গ্রামের আদিবাসী গৃহবধূ সনতি কিসকু (৩৫) ও সুমি হাসদা (২৭) বলেন, আগে গ্রামের নারী-পুরুষই মাঠে, খেতখামারে শ্রম বিক্রি করে কোনমত খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতো। অভাবে পড়লে গ্রামের মহাজনদের কাছ থেকে আগাম চড়া সুদে ধারদেনা করতে হতো। একইভাবে অভাবের কারণে গৃহস্থদের কাছে স্বল্পমূল্যে আগাম শ্রমও বিক্রি করে দিতে হতো। সময় মতো ধারদেনা শোধ করতে এবং শ্রম দিতে না পারলে নানামূখি নির্যাতনের শিকারও হতে হতো। এখন প্রতি মাসে মুষ্টির চাল নিয়ে গ্রামে গ্রামে বসে মাসিক সভা এবং চাল জমাদান। জমাকৃত চাল সংরক্ষণের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে গোলাঘর। সেখানেই মজুদ রাখা হয় মুষ্টির সব চাল।
 
 
আর এই চাল সংগ্রহে সহযোগিতা করছে নর্দান ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এনডিএফ) নামের বেসরকারি সংস্থা। সংস্থার ফুলবাড়ি ইউনিট ম্যানেজার মাসুদুর রহমান মাসুদ বলেন, আদিবাসী পরিবারগুলো আগে আগাম শ্রম বিক্রি, মহাজনী শোষণের হাত থেকে রক্ষা এবং তাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সংস্থার পক্ষ থেকে তাদেরকে সংগঠিত করে মুষ্টির চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করা হয়।  এখন নারীদের পাশাপাশি পুরুষরাও এই কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করছেন। এ কারণে মুষ্টির চাল দিয়েই আদিবাসী পরিবারগুলো দুর্দিনকে জয় করেছেন।