যুক্তরাজ্যে প্রতি পাঁচ জন পুরুষের দুইজনই পারিবারিক সহিংসতার শিকার বলে জানালো দেশটিতে পুরুষের অধিকার নিয়ে কাজ করা গ্রুপ ‘প্যারিটি।চাঞ্চল্যকর এই তথ্য সমাজের প্রচলিত ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ধারণা করা হয়, ‘পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয় মূলত নারীরা’।
‘প্যারিটি’র গবেষণা প্রতিবেদনের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানায়, পুরুষরা তাদের সঙ্গীদের কাছে নির্যাতিত হয় এবং অধিকাংশ সময়ই পুলিশ বিষয়টি উপেক্ষা করে। ফলে বেশিভাগ সময় আক্রমণকারী মুক্ত অবস্থায় ঘুরে বেড়ায়।
পারিবারিক সহিংসতার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে প্যারিটি জানায়, স্ত্রী বা মেয়েবন্ধুর কাছে পুরুষদের নির্যাতিত হওয়ার সংখ্যা প্রচলিত ধারণার চেয়ে অনেক বেশি। পারিবারিক সহিংসতার ঘটনাগুলোয় বেশিরভাগ সময় দেখা যায় পুরুষ নির্যাতনকারী এবং নারী নির্যাতনের শিকার। কিন্তু আমরা যে প্রমাণ পেয়েছি তাতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে এটা বাস্তব চিত্র নয়।”
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানগত বুলেটিন এবং ব্রিটিশ ক্রাইম সার্ভের তথ্য-উপাত্তে দেখা যায়, ২০০৪-০৫ সাল, ২০০৮-০৯ সাল এবং গত বছর পারিবারিক সহিংসতার ঘটনাগুলোর মধ্যে ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে পুরুষরা নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
এছাড়া, ২০০৬-০৭ সালে ৪৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ২০০৭-০৮ সালে তা আরও বেড়ে ৪৫ দশমিক ৫ শতাংশ হয়। কিন্তু ২০০৮ -০৯ সালে পুরুষ নির্যাতনের হার কমে ৩৭ দশমিক ৭ শতাংশ হয়।
প্যারিটির দাবি, এই পরিসংখ্যানের পরও পারিবারিক সহিংসতার শিকার পুরুষদের সঙ্গে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ‘সেকেন্ড ক্লাস ভিকটিম’র মতো আচরণ করা হয়। পুলিশ ও কাউন্সিলের পক্ষ থেকে তাদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয় না।
