বাংলাদেশ থেকে বালু, ওষুধ ও চাল আমদানিতে আগ্রহী মালদ্বীপ

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ১৮:৫৪
বাংলাদেশ থেকে বালু, ওষুধ ও চালসহ সেদেশের জন্য প্রয়োজনীয় সকল পণ্য আমদানি করতে চায় মালদ্বীপ। সোমবার বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাতকালে এ কথা বলেন ঢাকায় নিযুক্ত মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মেদ অসিম।
 
এসময় তোফায়েল আহমেদ মালদ্বীপ ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য আরো বাড়ানোর ওপর ওপর গুরত্ব আরোপ করে বলেন, বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ থেকে ওষুধ ও চাল আমদানি করলে মালদ্বীপ লাভবান হবে। 
 
ইতোমধ্যে বাংলাদেশ থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল শ্রীলংকায় রপ্তানি করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নেপালে ভূমিকম্পের সময়ও বাংলাদেশ অনুদান হিসেবে ১০ হাজার মেট্রিক টন চাল সেদেশে প্রেরণ করেছে।
 
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মালদ্বীপ বাংলাদেশ বন্ধু রাষ্ট্র। সেখানে বাংলাদেশের প্রায় ৬৭ হাজার মানুষ বসবাস করছে। মালদ্বীপে অবস্থানরত ৬০ জন বাংলাদেশী চিকিৎসক সুনামের সাথে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করছে। মালদ্বীপের অনেক ছাত্র-ছাত্রী বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজ এবং বিশ^বিদ্যালয়ে অধ্যায়ণরত রয়েছে।
 
তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ গত অর্থ বছরে (২০১৪-১৫) মালদ্বীপে ৫ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পন্য রপ্তানি করেছে। একই সময়ে বাংলাদেশ ১ দশমিক ১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যমানের পণ্য মালদ্বীপ থেকে আমদানি করেছে । চলমান বাণিজ্য বৃদ্ধি করলে উভয় দেশই উপকৃত হবে বলে তিনি জানান।
 
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন ওষুধ তুলনামূলক কম দামে সরবরাহ করতে সক্ষম। উন্নত বিশ^সহ পৃথিবীর প্রায় ১০৭টি দেশে বাংলাদেশ ঔষধ রপ্তানি করছে। মালদ্বীপও এ সুযোগ গ্রহণ করতে পারে।
 
মালদ্বীপে বাংলাদেশর তৈরী ইলেক্ট্রনিক পণ্য, টয়লেটারিজ, ঔষধ, ক্রোকারিজ, শুকনা খাবার, কাপড়, শিশুদের পোশাক, শাবান, অলংকার, প্লাস্টিক সামগ্রী, চামড়াজাত পণ্য প্রভৃতি পণ্যের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। উভয় দেশের ব্যবসায়ী এবং সরকারি পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে এ বাণিজ্য অনেক বৃদ্ধি করা সম্ভব। উল্লেখ্য,বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১৫ সালের ১৭ নভেম্বর উভয় দেশের কর্মকর্তা ও বিশেষঙ্গদের সমন্বয়ে ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠন করা হয়েছে।