মঙ্গলবার পর্দা নামছে এসএ গেমসের

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ১৬:৩৩
পর্দা নামছে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়াযজ্ঞ সাউথ এশিয়ান গেমসের। মঙ্গলবার ভারতের গৌহাটিতে পর্দা নামবে ১২তম এসএ গেমসের।গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারতের আসাম ও মেঘালয় রাজ্যের গৌহাটি এবং শিলংয়ে পর্দা উঠেছিল ‘দক্ষিণ এশিয়ার অলিম্পিক গেমস’ খ্যাত সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমস-এর  আসর।
 
তবে এবারের ক্রীড়া আসরে প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির মেলবন্ধন ঘটাতে পারেনি বাংলাদেশ। ২০১০ ঢাকা এসএ গেমসে বাংলাদেশ ১৮ স্বর্ণ, ২৪ রৌপ্য ও ৫৫ তামা পদক পেয়েছিল। কিন্ত এবার তারা গতবারের ১৮ স্বর্ণের অর্ধেকও জেতেনি!
 
রবিবার পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্জন ছিল মাত্র ৪ সোনা। আর এই সোনার ৩টিই জিতেছেন নারী ক্রীড়াবিদরা। ভারোত্তলনে মাবিয়া আক্তার সিমান্ত জেতেন প্রথম স্বর্ণটি। তারপর জলকন্যা মাহফুজা আক্তার শিলা সাঁতারে একাই জেতেন ২টি স্বর্ণ। আর পুরুষদের মধ্যে একমাত্র স্বর্ণজয় করেন পিস্তল শুটিংয়ে শাকিল আহমেদ।
 
এ্যাথলেটিক্স, কাবাডি, ফুটবল এই তিন ডিসিপ্লিন থেকে একটি সোনাও জেতেনি বাংলাদেশ। অথচ এই তিনটি খেলা নিয়ে বাংলাদেশী ক্রীড়াপ্রেমীদের আগ্রহ ছিল বেশি। বিশেষ করে ফুটবলে স্বর্ণ না পেলেও অন্তত রৌপ্য জেতা উচিত ছিল বলে মনে করেন অনেকেই। মহিলা ও পুরুষ উভয় দলই তামা জিতেছে। উভয় দলই হারে ভারতের কাছে।
 
মহিলা দলের হার ছিল বেশি হতাশার। কেননা তারা ওই ম্যাচে ড্র করলেই ভারতকে টপকে ফাইনালে উঠতে পারতো। কিন্তু ম্যাচে তারা হেরে যায় বড় ব্যবধানে। আর পুরুষ দল তো দুর্বল ভুটানের সঙ্গে শুরুতেই ড্র করে সমালোচিত হয়। পড়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে কোনমতে সেমিতে উঠলেও বাজে খেলে ভারতের কাছে হেরে বিদায় নেয়।
 
গত আসরে বাংলাদেশের ১৮ স্বর্ণপদকের মধ্যে কারাতে ডিসিপ্লিনে চারটি, গলফে দুটি ও ক্রিকেটে একটিসহ মোট ৭টি স্বর্ণপদক এসেছিল। এবারের আসরে ওই ইভেন্টগুলো না থাকায় পদক সম্ভাবনার দিক থেকে অনেক পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ।
 
এসএ গেমসকে সামনে রেখে গত বছরের আগস্ট থেকে বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের (বিওএ) উদ্যোগে বিভিন্ন ফেডারেশন তাদের প্রস্তুতিপর্ব শুরু করে। এবারের আসরে আরচারি, এ্যাথলেটিক্স, বক্সিং, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, কাবাডি শুটিং, সুইমিং, ভলিবল, তায়কোয়ানদো, ভারোত্তোলন, কুস্তি, সাইক্লিং, বাস্কেটবল, হ্যান্ডবল, ফুটবল, জুডো, টেনিস, হকি, খো খো, উশু ও স্কোয়াশসহ ২২টি ডিসিপ্লিনে অংশ নেয় বাংলাদেশ।
 
এ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ২২৩ পুরুষ এবং ১৪৭ মহিলা খেলোয়াড়, ৬০ কোচ, ৩৯ ম্যানেজার এবং অন্যান্য কর্মকর্তাসহ মোট ৪৬৯ সদস্যের দল অংশগ্রহণ করে। এই কন্টিনজেন্টের সঙ্গে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে ১১ বিদেশী প্রশিক্ষকও ছিলেন। তাছাড়া বাংলাদেশ অলিম্পিক এ্যাসোসিয়েশন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, হেড কোয়ার্টার্স অফিসিয়াল এবং টিম ডাক্তারসহ সর্বমোট ৫২০ সদস্য বিশিষ্ট বাংলাদেশ দল গঠন করা হয়।
 
গত আসরে শ্রীলঙ্কা ছিল চতুর্থ আর বাংলাদেশ ছিল তৃতীয় স্থানে। এবার বাংলাদেশকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে লঙ্কানরা। উত্থান ঘটেছে আফগানিস্তানেরও। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি সোমবার পদক তালিকায় সোনাজয়ের দিক থেকে পেছনে ফিলে দিয়েছে বাংলাদেশকে। তারা এখন চার নম্বরে। বাংলাদেশ আছে পাঁচ নম্বরে।