ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেন করতে ছয় বছরের কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে ১১ বছর করার সিদ্ধান্তের পর পরিকল্পনামন্ত্রী তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন রসিকতায়। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অগ্রাধিকারে থাকা এই প্রকল্পের মেয়াদের পাশাপাশি ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন পায়।
তৃতীয় দফা সংশোধনের পর এ প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৮১৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৬২৭ কোটি টাকা নতুন করে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। নতুন করে দুই বছর মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।
২০০৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর একনেক সভার চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া এ প্রকল্পের কাজ ২০০৬ সালের জানুয়ারিতে শুরু করে ২০১২ সালের জুন মাসে শেষ করার কথা ছিল। এরপর দুই দফা মেয়াদ বাড়িয়েও তা শেষ করতে না পেরে তৃতীয় এই সংশোধনী। গত জানুয়ারি পর্যন্ত এ প্রকল্প বাস্তবায়নে বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ৮১ শতাংশ, এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ২ হাজার ৫৪৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। প্রায় এক দশকেও কাজ শেষ না হওয়ায় ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন মহলে অসন্তোষও রয়েছে।
একনেক সভার পর সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল ছয় বছরের প্রকল্প শেষ করতে কেন ১১ বছর লাগছে। উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে গড় আয়ু বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদও বেড়েছে।’
ব্যয় বাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, এ প্রকল্পের জন্য নতুন করে জমি অধিগ্রহণ করতে হয়েছে। কাজ শুরু করার সময় যে ‘রেট শিডিউল’ ধরা হয়েছিল, পরে তা অনেক বেড়ে গেছে। কোনও কোথাও ‘ডাইভারশন রোড’ করতে হচ্ছে। এসব কারণেই প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে।
প্রকল্পটির মূল ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা। সে হিসাবে প্রকল্পের ব্যয় মূল থেকে বাড়ছে ৭৬ শতাংশ। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন সওজের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান।
