শহীদ জোহা দিবস বৃহস্পতিবার

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ১৮:২১
১৮ ফেব্রুয়ারি ড. শহীদ শামসুজ্জোহা দিবস। ১৯৬৯ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনীর গুলিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটে শহীদ হন ড. জোহা। তিনিই প্রথম বাঙালী শহীদ বুদ্ধিজীবী। 
 
ড. জোহার আত্মদান সামরিক শাসক আইয়ুব শাহীর পতনকে ত্বরান্বিত করেছিল। চলমান গণআন্দোলন রূপ নিয়েছিল গণঅভুত্থ্যানে। ড. জোহা হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সর্বস্তরের জনতা আইয়ুব শাহীর সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠে।
 
ড. জোহা ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তৎকালীন প্রক্টর ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষক। আইয়ুব শাহীর শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের আগলে রেখেছিলেন তিনি। নিজ ছাত্রদের জীবন রক্ষায় অকুতোভয় এই শিক্ষক পাক হানাদার বাহিনীর বন্দুকের সামনে দাঁড়ান। ছাত্রদের রক্ষায় এগিয়ে আসায় পাক বাহিনী তাকে গুলি করে হত্যা করে। সেদিন থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এই দিনটি শিক্ষক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। প্রতিবছরের ন্যায় এবারো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ড. জোহার স্মরণে দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
 
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদ ড. জোহার মাজার ও জোহা স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ। সকাল ৭টায় আবাসিক হলসমূহসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সমিতি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদ ড. জোহার মাজার ও জোহা স্মৃতি ফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ। সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে ও ৭টা ৩০ মিনিটে যথাক্রমে রসায়ন বিভাগ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির জোহা স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ। সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে রাবি অফিসার সমিতি কার্যালয়ে আলোচনা সভা। সকাল ১০টায় সিনেট ভবনে জোহা স্মারক বক্তৃতা। এতে স্মারক বক্তা থাকবেন তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। বাদ জোহর রাবি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে কোরআনখানি ও বিশেষ মোনাজাত। বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে শহীদ শামসুজ্জোহা হলে আলোচনা সভা ও সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বালন। এ দিন শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য খোলা থাকবে।