সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করতে আসা প্রফেসর শংকর দত্তের ওপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার সকল আসামি বেকসুর খালাস পেয়েছে।
খালাসপ্রাপ্তরা হলেন- নিয়াজ মোর্শেদ সোহাগ ওরফে পাসপোর্ট সোহাগ, মো. সোহেল, মিরাজ ও জহিরুল ইসলাম। রায় ঘোষণার সময় সকলেই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তারা বিএম কলেজে অধ্যায়নরত ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, বিএম কলেজের বদলি হওয়া অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ননী গোপাল দাসকে বহাল রাখার দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ছাত্রলীগের একাংশ বিক্ষোভ করে। তারা বদলি হয়ে ঐ কলেজের অধ্যক্ষ হিসাবে যোগদান করতে আসা শংকর দত্তকে প্রতিহত করার ঘোষণা দেন। ২০১৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অধ্যক্ষ শংকর চন্দ্র দত্ত বিএম কলেজে যোগ দিতে আসছে এমন খবরে বিক্ষোভকারীরা কলেজের সামনের রাস্তায় বেঞ্চ ফেলে ও টায়ারে অগ্নি সংযোগ করে সড়ক অবরোধ করে। অধ্যক্ষ শংকর চন্দ্র দত্ত কলেজ সংলগ্ন পেট্রোল পাম্প এলাকায় পৌঁছলে কর্ম পরিষদের নেতাদের বিক্ষোভকারীরা হামলা করে। তারা শারীরিকভাবে শিক্ষককে লাঞ্চিত করে। দৌড়ে পালিয়ে নিজেকে রক্ষা করার চেস্টা করেও ব্যর্থ হন অধ্যক্ষ শংকর চন্দ্র দত্ত। তাকে রাস্তায় ফেলে বেধরক মারধর করা হয়। পত্র-পত্রিকায় এ হামলার সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর তৎকালিন সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রয়াত শওকত হোসেন হিরন হামলাকারীদের ছবি দেখে পাসপোর্ট সোহাগসহ চার ছাত্রলীগ নেতাকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেন।
ঐ দিনই কোতয়ালী মডেল থানার এসআই আবু তাহের বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ আসামিদের সহেন্দভাজন উল্লেখ করে চার্জশীট প্রদান করেন।
স্বাক্ষ্য প্রমাণ শেষে বুধবার সন্ধ্যায় বরিশাল মহানগর হাকিম (মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট) মো. রফিকুল ইসলাম আসামিদের বেকসুর খালাস ঘোষণা করেন।
বিএম কলেজের অধ্যক্ষকে লাঞ্চনা মামলায় খালাসপ্রাপ্ত মো. সোহেল জানান, ঘটনার শিকার অধ্যক্ষ চন্দ্র দত্ত ঘটনার সময় ছিলেন না বলে স্বাক্ষী দিয়েছেন। একইভাবে অপর স্বাক্ষী পেট্টোল পাম্প কর্মচারী সুন্দর আলীও স্বাক্ষ্য প্রদানকালে আদালতকে জানিয়েছেন উল্লেখিত আসামিরা হামলার সময় উপস্থিত ছিলেন না।
