ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার রিয়াজ উদ্দিন ফকির এবং ওয়াজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
এ দুই আসামির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইনে হত্যা, গণহত্যা, আটক, অপহরণ, নির্যাতন ও ধর্ষণের পাঁচটি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হচ্ছে বলে তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান জানিয়েছেন। আসামিদের মধ্যে রিয়াজ উদ্দিন গ্রেপ্তার হলেও ওয়াজ উদ্দিন পলাতক। তদন্ত সংস্থা বলছে, একাত্তরে রিয়াজ ছিলেন আলবদর সদস্য, আর ওয়াজ ছিলেন রাজাকার।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ২২ অগাস্ট থেকে ২১ নভেম্বরের মধ্যে ফুলবাড়িয়া উপজেলার বেবি টেক্সি স্ট্যান্ড, রাঙ্গামাটিয়া ঈদগাহ সংলগ্ন বানা নদী, দিব্যানন্দ ফাজিল মাদরাসা, ফুলবাড়িয়া ঋষিপাড়া, আছিম বাজার ও ভালুকজান গ্রামে আসামিরা ওইসব মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটনা বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকছে। এ মামলার আরেক আসামি আমজাদ আলী গ্রেপ্তারের পর মারা যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ আনছে না তদন্ত সংস্থা।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে হান্নান খান বলেন, ‘আজই আমরা তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউটরের কাছে জমা দেব।
তিনি বলেন, তিন আসামির সবাই জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। এদের মধ্যে আমজাদ আলী সড়ক দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে মারা যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়নি। পাঁচ খণ্ডে ৩০০ পৃষ্ঠার এই তদন্ত প্রতিবেদনে বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণ, দলিল ও নথিপত্র যুক্ত করা হয়েছে বলে প্রধান সমন্বয়ক জানান।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান ২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এক বছর চার মাস সাত দিন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত করেন। তদন্তে ৬০ জনের বেশি ব্যক্তির জবানবন্দি নেয়া হলেও মোট ৩৬ জনকে প্রসিকিউশনের পক্ষে সাক্ষী করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
