আঙ্কারায় পার্লামেন্ট ভবন এবং সেনা সদর দপ্তরের কাছে ঘটানো বুধবারের বিস্ফোরণে ২৮ জন নিহত এবং অর্ধশতাধিক আহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ তুরস্ক ইরাকে পিকেকে জঙ্গিদের অবস্থানে বোমাবর্ষণ শুরু করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার তুর্কি প্রধানমন্ত্রী আহমেদ দাভুতোগলু নিজেই এই তথ্য জানিয়েছেন। জানা গেছে উত্তর ইরাকে কিছু নির্দিষ্ট অবস্থানে বিমান হামলা চালানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, পিকেকের প্রথম সারির কিছু যোদ্ধাসহ ৬০ থেকে ৭০ জন ওই হামলায় প্রাণ হারিয়েছে। তবে নিরপেক্ষ কোনো সূত্র এই হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেনি। খবর সিএনএন ও বিবিসির।
বুধবারের ওই হামলার জন্য কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গি সংগঠন পিকেকে’র উপর দায় চাপিয়েছে তুরস্ক। যদিও পিকেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তুরস্কের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, পিকেকের শীর্ষনেতাদের হত্যা করতে উত্তর ইরাকে তাদের অবস্থানে বিমান হামলা চালানো হচ্ছে। কারণ ইরাকের এই অঞ্চলটিকে ঘিরে মূলত পিকেকে জঙ্গিরা তাদের তত্পরতা চালায়। তাছাড়া দেশটির কুর্দি জনগোষ্টির বেশিরভাগের বাস এই অঞ্চলে।
এর আগে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোগান বলেন আঙ্কারায় বোমা বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আরও সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা হবে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী আহমেদ দাভুতোগলু, বলেন কুর্দি জঙ্গি গোষ্ঠি পিকেকে’র সহায়তায় ওয়াইপিজি নামে সিরীয় কুর্দী জঙ্গি এই হামলা চালিয়েছে। বোমা হামলাকারীর নাম সালিহ নেসার এবং তিনি সিরীয় নাগরিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিবিসির মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সম্পাদক সেবাস্টিয়ান আশার বলছেন পরিস্থিতি বেশ জটিল হয়ে উঠেছে। কারণ ওয়াইপিজির পেছনে আমেরিকার সমর্থন রয়েছে এবং সিরিয়ায় আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ওয়াইপিজিকে আমেরিকা গুরুত্বপূর্ণ গোষ্টি বলে মনে করে।
