চলতি বছর বিশ্ব প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে প্রক্ষেপণ করলো অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি)। সংস্থাটির সর্বশেষ সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এ বছর প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশ হতে পারে। গত পাঁচ বছরে এ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সবচেয়ে কম।
এর আগের প্রতিবেদনে সংস্থাটি ৩ দশমিক ৩ হারে বিশ্ব প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলো। অর্থনীতির হতাশাজনক পরিসংখ্যান, দুর্বল চাহিদা, স্বল্প বিনিয়োগ ও যথেষ্ট অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বিদ্যমান থাকায় প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে নির্ধারণ করে সংস্থাটি। ৩৪ জাতিভূক্ত এ সংস্থাটি আরো উল্লেখ করেছে, বিশ্বজুড়ে আর্থিক অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি রয়েই গেছে। তেলের নিম্নমূল্য ও স্বল্প সুদহার সত্ত্বেও প্রধান প্রধান দেশগুলোয় প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর থাকবে। এদিকে গত বছর (২০১৫) বিশ্বব্যাপী বানিজ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ২ শতাংশ। প্রবৃদ্ধি বাড়াতে ও আর্থিক ঝুঁকি কমাতে আর্থিক ও নীতি-কাঠামোর ব্যবহার জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন সংস্থাটি।
ওইসিডির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিরাজমান পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরো অঞ্চল ও নিত্যপন্যের রফতানি নির্ভর দেশগুলোকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। গত নভেম্বরে ওইসিডির প্রতিবেদনে প্রবৃদ্ধির হিসেব দেয়ার পর নিত্যপন্যের দাম কমেছে ব্যাপক হারে। তেলের দাম কমেছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। গেলো জানুয়ারি মাসেও চীনের ভোক্তা পর্যায়ে আমদানির পরিমান কমেছে ব্যাপক হারে।
চলতি বছরের পাশাপাশি ২০১৭ সালের পূর্বাভাসও কমিয়েছে ওইসিডি। সংস্থাটির মতে, ২০১৭ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। এর আগে নভেম্বরের পূর্বাভাসে ওইসিডি ২০১৭ সালে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির আভাস দিয়েছিল।
ওইসিডি বলেছে, বিভিন্ন দেশে এখনো সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি বহাল রয়েছে। এসব নীতির সংস্কার হচ্ছে শ্লথ গতিতে। সংস্কার ত্বরান্বিত করতে হবে। পাশাপাশি চাহিদা জোরদার করতে জোরালো ও সম্মিলিত ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ২ শতাংশ, ২০১৬ সাল নাগাদ এটি ২ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে। ইউরোপ জুড়ে প্রবৃদ্ধি হতে পারে ১ দশমিক ৪ শতাংশ হারে যা পরবর্তী বছরে হতে পারে ১ দশমিক ৭ শতাংশ। জাপানের প্রবৃদ্ধি হতে পারে শুন্য দশমিক ৮ শতাংশ, এ দেশটির প্রবৃদ্ধি পরবর্তী বছরে আরো কমে গিয়ে দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। অন্যদিকে পূর্বাভাস অনুযায়ী এ বছর চীনের প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৬ ভাগ হতে পারে, যা পরবর্তী বছরে কমে ৬ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে। এদিকে ভারতের প্রবৃদ্ধি এ বছর ৭ দশমিক ৪ হতে পারে যা পরবর্তী বছরে কমে ৭ দশমিক ৩ হতে পারে বলে উল্লেখ করেছে ওইসিডি।
