বিশ্বের প্রথম মডিউলার ফোন ফোনব্লকস। ২০১৩ সালে উন্মোচন করা হয় ডিভাইসটি। কিন্তু সাধারণের হাতে প্রথম মডিউলার স্মার্টফোন তুলে দেয় ফেয়ারফোন। গত বছরেরে শেষেই বাজারে আসে ফেয়ারফোন ২।
এবার এলজি নিয়ে এলো তাদের ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস, জি৫। এটিও মডিউলার মডিউলার স্মার্টফোন। মানে এই স্মার্টফোনের বিভিন্ন অংশ ইচ্ছেমতো খুলে পরিবর্তন করে মোবাইলের খোলনলচে পালটে ফেলা যাবে।
স্পেনের বার্সেলোনায় চলছে ‘মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস (এমডব্লিউসি) ২০১৬’। স্মার্টফোনের এই মহোৎসবে জি৫ স্মার্টফোনটি দেখিয়েছে এলজি। এতে বিপুল হৈ চৈ তৈরি হয়।
জি৫ এর বিশেষত্ব হল এতে দু’রকমের ক্যামেরা সেটআপ রয়েছে। দু’টি একত্রে ব্যবহার করা যায়, আবার প্রয়োজন পড়লে কোনও একটি সেটআপ বদলে অন্যটি ব্যবহার করা যায়।
মডিউলার ফোনের মূল বৈশিষ্ট্য হল এই ধরনের ফোনের বিভিন্ন ‘মডিউল’ (ব্যাটারি, ক্যামেরা, ব্লু-টুথ, ওয়াইফাই, ভিডিও জ্যাক, অডিও জ্যাক, জিপিএস, জাইরোস্কোপ ইত্যাদি) অদল-বদল করা যায় ইচ্ছেমতো।
এলজি জি৫ স্মার্টফোনে দু’রকম ক্যামেরা থাকছে। একটি রিয়ার ক্যামেরা হবে স্ট্যান্ডার্ড ১৬ মেগাপিক্সেল ও অন্যটি হবে ৮ মেগাপিক্সেল ওয়াইড অ্যাঙ্গেল। প্রথমটিতে রয়েছে স্ট্যান্ডার্ড ৭৮ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেল লেন্স। অন্যটিতে রয়েছে ১৩৫ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেল লেন্স, যা অন্য কোনো স্মার্টফোন ক্যামেরায় এই মুহূর্তে নেই। ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্সের সুবিধে হল অনেকটা চওড়া ফ্রেমের ছবি সহজেই তোলা যাবে, যেমন গ্রুপ ফটো, পাহাড়ের রেঞ্জ, সমুদ্রতট বা আড়াআড়ি তোলা রাস্তা।
তবে এর জন্য আগেভাগে পাল্টে নিতে হবে ক্যামেরা মডিউল। ফ্রন্ট ক্যামেরাটি কিন্তু দু’ক্ষেত্রেই একই থাকবে, অর্থাৎ ৮ মেগাপিক্সেল।
প্রফেশনাল ফটোগ্রাফাররা যেমন ‘প্রাইম লেন্স’ বা ‘ম্যাক্রো লেন্স’ ব্যবহার করেন, ব্যাপারটা অনেকটা সেরকম। এছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি ডিভাইস রয়েছে যা ‘মডিউলার’ পদ্ধতিতে সহজেই ব্যবহার করা যাবে জি৫ স্মার্টফোনের সঙ্গে।
ডিভাইসটিতে রয়েছে এলজি ৩৬০ ভিআর বা ভার্চুয়াল রিয়ালিটি হেডসেট, হাই-ফাই প্লাস ও বিঅ্যান্ডও প্লে মডিউল যাতে থাকছে ১২০০ এমএএইচ ব্যাটারি এবং ৩২ বিট হাই ডেফিনিশন অডিও প্লেব্যাক। ফোনটির ব্যাটারির মাধ্যমে যুক্ত করা যাবে ক্যাম প্লাস যাতে থাকবে অটোফোকাস, এক্সপোজার লক ইত্যাদি সুবিধা।
জি৫ স্মার্টফোনে ২৫৬০x১৪৪০ পিক্সেল রেজ্যুলেশনের ৫.৩ ইঞ্চি আইপিএস কিউএইচডি ডিসপ্লে রয়েছে। এতে অলওয়েজ অন ডিসপ্লে থাকবে, যা চার্জ কমে গেলেও নোটিফিকেশন, সময় ও অন্যান্য তথ্য দেখার সুবিধা দেবে।
অ্যান্ড্রয়েড ৬.০ মার্শমালো চালিতে এই ফোনে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮২০ প্রসেসর রয়েছে। ৪ জিবি র্যামের ডিভাইসটিতে ৩২ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ ও মাইক্রো এসডি কম্প্যাটিবল সুবিধা মিলবে।
এছাড়াও এতে ২৮০০ এমএএইচ ব্যাটারি এবং ‘কুইক চার্জ ৩.০’ ভার্সন এবং ফোরজি সাপোর্ট, ওয়াই ফাই ও ব্লু-টুথ ইত্যাদি সুবিধা থাকছে।
এলজির পক্ষ থেকে জি৫ এর দামের কোনও তথ্য এখনো পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়নি।
