দক্ষিণ আমেরিকার জনপ্রিয় ফুটবল টুর্নামেন্ট কোপা আমেরিকার শতবর্ষপূতি হচ্ছে চলতি বছর। একারণে এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে একটু বেশি মাতামাতি শুরু হয়েছে। তার উপর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চিলির সাথে একই গ্রুপে দ্রুত দেখা হয়ে যাচ্ছে গতবারের আরেক ফাইনালিস্ট আর্জেন্টিনার। আর তাই লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার সামনে দারুণ এক সুযোগ এসেছে গত মৌসুমের ফাইনালের মধুর প্রতিশোধের।
গত বছর জুনে টুর্নামেন্টের ফাইনালে স্বাগতিক চিলির কাছে পরাজিত হয়ে বিশ্বকাপের পরে আরেকবার বড় কোন টুর্নামেন্টে শিরোপা ছাড়াই ঘরে ফিরতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। সেই সুযোগকে এবার আর হাতছাড়া করতে চায়না মেসির দল। রবিবার অনুষ্ঠিত ড্র অনুযায়ী এবার গ্রুপ ডি’তে চিলি ছাড়াও আর্জেন্টিনার অপর প্রতিপক্ষ হচ্ছে পানামা ও বলিভিয়া।
বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট হিসেবে পরিচিত কোপা আমেরিকার শততম আয়োজন এবারই প্রথমবারের মত দক্ষিণ আমেরিকার বাইরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ৩-২৬ জুন পর্যন্ত ১৬ দলের এই টুর্নামেন্টটি যুক্তরাষ্ট্রের দশটি শহরে অনুষ্ঠিত হবে। দলগুলোর মধ্যে রয়েছে- দক্ষিণ আমেরিকার দশটি ও কনকাকাফ অঞ্চলের ছয়টি দল। ৩ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার সান্টা ক্লারার লেভাইস স্টেডিয়ামে কলম্বিয়া বনাম স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ম্যাচের মধ্য দিয়ে এবারের আসরের পর্দা উঠবে।
গ্রুপ-এ তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ হিসেবে ২০১৪ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট কলম্বিয়া ছাড়াও আরো রয়েছে কোস্টারিকা ও ২০১৫ কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালিস্ট প্যারাগুয়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের কোচ ইয়র্গেন ক্লিন্সম্যান বলেছেন, এটা সত্যিই কঠিন গ্রুপ, তবে অসম্ভব বলে কিছুই নেই। এটাই কোপা আমেরিকা, এখানে এমনই হবে। দক্ষিণ আমেরিকার সেরা দলগুলোই এখানে খেলে থাকে। সে কারণেই কোন দলকেই খাটো করে দেখার কিছু নেই।
পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের সামনে অবশ্য গ্রুপ পর্বের বাঁধা পেরুনো খুব একটা কঠিন হবে না বলেই অনুমেয়। গ্রুপ-বি’তে তাদের প্রতিপক্ষ ইকুয়েডর, হাইতি ও পেরু। ইকুয়েডরের বিপক্ষে রোস বোলে ৪ জুন কোপা আমেরিকা মিশন শুরু করবে ব্রাজিল।
জ্যামাইকা, ভেনিজুয়েলাকে টপকে গ্রুপ-সি থেকে কনকাকাফ গোল্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন মেক্সিকো ও লুইস সুয়ারেজের উরুগুয়েই সামনে এগিয়ে যাবে বলে সকলে আশাবাদী।
পুরো টুর্নামেন্টে যাদের ওপর সকলের নজড় থাকবে তাদের মধ্যে অন্যতম বার্সেলোনা ট্রায়ো লিয়নেল মেসি, নেইমার ও লুইস সুয়ারেজ। এছাড়া নিজ নিজ দেশের হয়ে পারফর্ম করতে মুখিয়ে আছেন রিয়াল মাদ্রিদের হামেস রদ্রিগেজ ও আর্সেনালের এ্যালেক্সি সানচেজ।
আগামী ৩১ মে থেকে ৩ জুনের মধ্যে আর্জেন্টাইন তারকা মেসিকে স্পেনের কর ফাঁকির শুনানিতে অংশ নিতে হবে। ৬ জুন গ্রুপ ডি’তে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে। আইনি জটিলতা কাটিয়ে মেসি যদি শেষ পর্যন্ত মাঠে নামেন তবে এটা হবে ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের টানা তিনটি বড় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ। ২৪ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমারের জন্য অবশ্য এই দায়িত্ব আরো খানিকটা বেশি। ২০১৩ সালের কনফেডারেশন কাপ, ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ও গত বছরের কোপা আমেরিকা শেষে এটি নেইমারের চতুর্থ বড় কোন আসরে অংশগ্রহণ। একইসাথে আগস্টে রিও ডি জেনিরোর অলিম্পিকে অংশগ্রহণের জন্য মুখিয়ে আছেন নেইমার। তবে তাদের তুলনায় উরুগুয়ের স্ট্রাইকার সুয়ারেজ কিছুটা নির্ভার হয়েই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাচ্ছেন। বহিস্কারাদেশের কারণে সর্বশেষ কোপা আমেরিকা খেলা হয়নি সুয়ারেজের।-বাসস।
