১৩ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানতে চায় হাইকোর্ট

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ১৮:২৩
 
টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে চারজন নিহতের ঘটনায় দায়িত্ব-কর্তব্যে চরম অবহেলা ও গাফিলতি এবং অদক্ষতার অভিযোগে জেলার তত্কালীন ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার সঞ্জয় সরকারসহ চিহ্নিত ১৩ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। আগামী ৭ মার্চের মধ্যে এ বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে পুলিশের আইজি ও ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজিকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। পৃথক দুটি তদন্ত উপস্থাপনের পর বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের ডিভিশন বেঞ্চ সোমবার এই আদেশ দেন।
 
‘ছেলের সামনে মাকে ধর্ষণের’ অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত ১৮ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা সদরে বিক্ষুব্ধ জনতা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষে চারজন নিহত হন। এ ঘটনায় বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির পক্ষে অ্যাডভোকেট সালমা আলী ২১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন। রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দুই মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে পুলিশের আইজি ও ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজিকে নির্দেশ দেয়। আদালতের আদেশ মোতাবেক পুলিশের পক্ষ থেকে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ডিসেম্বর মাসে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়। আজ ওই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। প্রতিবেদনে ১৩ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনিদ্দিষ্টভাবে তাদের দায়িত্ব-কর্তব্যে যে অবহেলা ও গাফিলতির চিত্র রয়েছে তা আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
 
সংঘর্ষের ঘটনার সময়কার টাঙ্গাইলের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার ছিলেন সঞ্জয় সরকার। তদন্ত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে দ্বায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে ব্যর্থতার পরিচয়, কর্তব্যকর্মে অবহেলা এবং অদক্ষতার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে টাঙ্গাইল জেলা থেকে প্রত্যাহার করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। টাঙ্গাইলের (উত্তর) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে নিজ দ্বায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে উদাসীনতা ও অদক্ষতার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে কম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে বদলি করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে বলে সুপারিশ করা হয়েছে।
 
জেলা বিশেষ শাখার কালিহাতী থানার ডিএসবি জোনের ওয়াচার কনস্টেবল মো. মাহতাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের মাধ্যমে কর্তব্যকর্মে নিষ্ঠা, সততা ও চরম গাফিলতির পরিচয় প্রদানের অভিযোগ এনে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্তপূর্বক বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের কথা বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়েছে, কালিহাতী থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. শহীদুল ইসলামের (বর্তমানে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত) বিরুদ্ধে উদাসীনতা, অদক্ষতা, গাফিলতি ও অবহেলার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্তপূর্বক বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। একই থানার এসআই মো. আবুল বাশার, মো. ছলিম উদ্দিন, কনস্টেবল মো. আমিনুল ইসলাম, জিয়াউল হক ও তমাল চন্দ্র দেবের বিরুদ্ধে অদক্ষতা, উদাসীনতা, অসদাচরণ, নিষ্ঠা, সততা ও কর্তব্যকর্মে চরম গাফিলতির অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাদেরকেও সাময়িকভাবে বরখাস্তপূর্বক কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথঅ বলঅ হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।
 
ঘাটাইল থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. মোখলেছুর রহমানের (বর্তমানে খুলনা রেঞ্জে সংযুক্ত) বিরুদ্ধে অদক্ষতা, অবহেলা, উদাসীনতা ও অসদাচরণের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্তপূর্বক যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে। একই থানার এএসআই মো. হারুন-অর রশিদের বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও অদক্ষতার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দূরবর্তী কম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে বদলিপূর্বক যথাবিহিত ব্যবস্থা এবং এসআই মো. ওমর ফারুক ও এসআই মুনসুর আলীর বিরুদ্ধে কর্তব্যকর্মে অবহেলা, অদক্ষতা, উদাসীনতা ও অসদাচরণের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাদেরকে সাময়িক বরখাস্তপূর্বক অন্যত্র সংযুক্ত করাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের কথা বলেছে তদন্ত প্রতিবেদনে।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম ফিরোজ।