একাত্তরের রনাঙ্গণের লড়াকু যোদ্ধা নূর হামিম রিজভী (৬৮) বীরপ্রতীক আর নেই। সোমবার বিকেল সাড়ে চারটায় হৃদরোগে আক্রান্ত হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মৃত্যুবরণ করেন (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)।
তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে বাধন ও প্রত্যয়কে রেখে যান। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সাত নম্বর সেক্টরে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে অংশ নেন এ অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা। মহান এ যোদ্ধার মৃত্যুতে বাঙালি আরেকজন শ্রেষ্ঠ সন্তানকে হারালো।
জানা যায়, গোদাগাড়ী উপজেলায় খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা আবু নূর হামিম রিজভী বীরপ্রতীক। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মমতাময়ী মায়ের নির্দেশে পৈত্রিক নিবাস পিরিজপুর ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার লালগোলা থানার ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নাম লেখান। ট্রেনিংয়ে পারদর্শিতার জন্য গ্রুপ কমান্ডারের দায়িত্ব পান। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে ৭ নভেম্বর ৪ নং সেক্টর ৭ নং সাবসেক্টর অধিনায়ক মেজর গিয়াস উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর নির্দেশে সহযোদ্ধাদের নিয়ে উপজেলার কসবা নামকস্থানে পাক হানাদার বাহিনীর দুটি জিপ এবং সৈন্যদের এ্যাম্বুসে ফেলে খতম করেন। এই দুঃসাহসিক এবং বীরত্বপূর্ণ অপারেশনের জন্য নূর হামিম রিজভী ‘বীরপ্রতীক’ পদকে ভূষিত হন।
