ভারতে যত্রতত্র প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে এক অভিনব পন্থা গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রকাশ্যে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিলে সেটি হয়ে ভিডিও করে সামাজিক গণমাধ্যমের ওয়েবসাইট ইউটিউবে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।
মিষ্টি কথায় কাজ না হওয়ায় ভারতের উত্তর প্রদেশের সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (ইউপিএসআরটিসি) এভাবেই যত্রতত্র মূত্র ত্যাগকারীদের বাগে আনার উদ্যোগ নিয়েছে বলে টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবর। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, বিব্রতকর পরিণতির কথা মাথায় রেখে হলেও কাণ্ডজ্ঞানহীন ওই আচরণ আর কেউ করবেন না। রাজ্যের সব বাস স্টেশনের খোলা জায়গায় ইতোমধ্যে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা বসানো হয়েছে। বলা হচ্ছে, কেউ সেখানে মূত্রত্যাগে দাঁড়ালেই ধরা পড়বেন ক্যামেরায়। সেই ছবি ঝড়িয়ে যাবে ইউটিউবে।
কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, খোলা জায়গায় মূত্রত্যাগের স্বাস্থ্য ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ‘পরিচ্ছন্ন ভারত’ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ। ইউপিএসআরটিসির বেরিলি অঞ্চলের ব্যবস্থাপক প্রভাকর মিশ্র বলেন, যারা পাবলিক টয়লেট বাদ দিয়ে খোলা জায়গায় মূত্রত্যাগ করেন, তাদের মনোভাব বদলানোই আমাদের লক্ষ্য। তাদের ওই অভ্যাস সবার জন্যই বিব্রতকর। খোলা জায়গায় মূত্রত্যাগ ঠেকাতে গত বছর ঢাকাতেও অভিনব এক উদ্যোগ নিয়েছিল বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয়, যা নিয়ে সে সময় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়।
এর আগে বাংলাদেশে প্রকৃতির ডাকে ‘নিরুপায়’ যারা ‘নিষেধ’ লেখা দেখেও ফুটপাতে দাঁড়িয়ে যান, তাদের নিবৃত্ত করতে ধর্ম মন্ত্রণালয় ‘এখানে প্রস্রাব করা নিষেধ’ বাক্যটি আরবি হরফে লেখার উদ্যোগ নিয়েছিল। এ বিষয়ে দুই মিনিটের একটি তথ্যচিত্র তৈরি করে ইউটিউবেও প্রকাশ করা হয়েছিল সে সময়। অভিনব এ উদ্যোগকে সেই ভিডিওতে বলা হয়েছিল ‘এ স্মার্ট সলিউশন টু আ ফাউল প্রবলেম’। অবশ্য সেই চেষ্টায় খুব বেশি দিন কাজ হয়নি। মাস দুয়েক পরই আরবিতে লেখা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ‘কাজ সারার’ খবর এসেছিল সংবাদ মাধ্যমে। টাইমস অব ইন্ডিয়া।
