তথ্য না দিলে বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ০৫:৫৯
রাজধানীতে অপরাধী (জঙ্গী) শনাক্তের কাজ সহজ করতে গত চার মাস আগে থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করে। এ নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হলেও আশানুরূপ তথ্য পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি নগরীর দুইটি বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়ায় কিছুটা সমালোচনার মুখে পড়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এই প্রেক্ষাপটে আজ বুধবার ডিএমপি থেকে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমকে জোরদার করতে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হচ্ছে। বেঁধে দেয়া হচ্ছে সময়।
 
ঢাকা মেট্রোপলিন পুলিশ কামিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া  জানিয়েছেন, গত চার মাসেও যেসব বাড়ির মালিক স্ব স্ব এলাকার থানায় বাড়ির ভাড়াটিয়াদের ব্যাপারে তথ্য প্রদান করেননি, তাদেরকে একটা সময় বেঁধে দেয়া হচ্ছে। আর এ সময়ের মধ্যে যারা তথ্য প্রদান না করবেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে থানার দায়িত্ব প্রাপ্ত পুলিশ সদস্য বা কর্মকর্তাদের কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কারণ তথ্যগুলো থাকলে অপরাধী শনাক্ত করা সহজ হবে এবং অপরাধীরা ভাড়া বাসায় থেকে অপরাধ করতে সাহস পাবে না।
 
ডিএমপির একজন কর্মকর্তা বলেন, বিভিন্ন সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য কর্তৃক গ্রেফতারকৃত অপরাধীরা জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, তারা সন্ত্রাসী বা জঙ্গি কর্মকাণ্ডের জন্য সুবিধানুযায়ী ছদ্মনামে বিভিন্ন এলাকায় বাসাভাড়া নিয়ে থাকে। পরে সন্ত্রাসী বা জঙ্গী কর্মকাণ্ড করে বাড়ির ভাড়া পরিশোধ না করেই পালিয়ে যায়। এ প্রেক্ষাপটে ডিএমপি ২০০৯ সালের ২৩ এপ্রিল ভাড়াটিয়াদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু পরবর্তীতে এ কার্যক্রমে তেমন সাড়া মেলেনি। গত বছরে নগরীর বেশ কয়েকটি বাড়িতে জঙ্গী আস্তানার সন্ধান পায় ডিএমপি। তখন আবার নতুন উদ্যোগে কাজ শুরু হয়। গত বছর নভেম্বর থেকে ডিএমপি কমিশনার নগরীর চার বিভাগের ডিসিদের কাছে ৫০ হাজার করে ফর্ম বিতরণ করে এক কার্যক্রম শুরু করেন।  চালানো হয় ব্যাপাক প্রচারণা।
 
ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ) কৃষ্ণ পদ রায় বলেন, ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহের জন্য মহানগর সদর দফতর থেকে থানায় থানায় পাঠানো ছক আকারের ফরম বাড়ির মালিকের কাছে পাঠানো হয়। এটি চলমান প্রক্রিয়া। তবে বিষয়টি বেগবান করতেই একটি সময় নির্ধারণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
 
ডিএমপি দক্ষিণ বিভাগের একজন ওসি বলেন, বাড়ি ও অফিস ভবনে অবস্থানরত ভাড়াটিয়াদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পুলিশকে জানাতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নির্ধারিত ফরম পৌঁছে দেয়া হলেও অধিকাংশ বাড়ির মালিকই ভাড়াটিয়াদের দিয়ে সেগুলো পূরণ করাননি। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ যে এলাকাগুলোতে বসবাস করে সেখানে এ সমস্যা বেশি প্রকট।
 
তবে অনেক এলাকার বাড়ির মালিকরা অভিযোগ করেছেন, পুলিশের পক্ষ থেকে তারা কোনো ফরমই পাননি। কোথায় কীভাবে এসব ফরম পূরণ করতে হবে তা জানানো হয়নি তাদের।
 
বাড়িওয়ালের যেসব তথ্য পুলিশের কাছে দিতে হবে সেগুলো হলো ঃ
 

 ভাড়া ফ্ল্যাট, তলা-বাসার বিবরণ ও ঠিকানা, পরিবারের প্রধানের নাম ও স্থায়ী ঠিকানা (টেলিফোন নম্বরসহ), জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, পরিবারের অন্য সদস্যদের নাম ও পরিবার প্রধানের সঙ্গে সম্পর্ক, বর্তমান আবাসনে আসার তারিখ এবং সম্ভাব্য অবস্থানকাল, সদ্য ছেড়ে আসা আবাসনের ঠিকানা (আবাসন মালিকের ফোন নম্বরসহ), পরিবারের প্রধানের পেশা ও বর্তমান কর্মক্ষেত্রের ঠিকানা (টেলিফোন নম্বর যদি থাকে), ভাড়াটিয়া পরিবার প্রধানকে শনাক্তকারী দুই ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা (ফোন নম্বরসহ) ও ভাড়াটিয়া পরিবার প্রধানদের পূর্ণ স্বাক্ষর। ফরমের আগের অংশে বাড়ি মালিকের নাম, স্থায়ী ঠিকানা (টেলিফোন নম্বরসহ), জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর বাড়ি মালিকের বর্তমান আবাসস্থল (ঠিকানা ও ফোন নম্বরসহ), বাড়ির  তত্ত্বাবধায়কের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর এবং স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা।