কোকা-কোলার বৈশ্বিক ফাইভ-বাই-টোয়েন্টি কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায় শুরু

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ১৮:০৫
কোকা-কোলা কোম্পানি বৈশ্বিক ফাইভ-বাই-টোয়েন্টি কর্মসূচির আওতায় বিশ্বব্যাপী ৫০ লাখ নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। সে অনুযায়ী বাংলাদেশে নেয়া উইমেন বিজনেস সেন্টার (ডব্লিউবিসি) কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হচ্ছে। এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা খুলনা ও বাগেরহাটে।
 
বাংলাদেশে বর্তমানে কোকা-কোলার এই কর্মসূচির প্রথম পর্যায় চলছে জামালপুরে, যা শুরু হয়েছিল ২০১৫ সালে। এর আওতায় গত বছরে ১০টি উইমেন বিজনেস সেন্টার (ডব্লিউবিসি) থেকে ১০ হাজার ১২৫ জন নারী কৃষি উৎপাদন, মার্কেটিং সার্ভিস বা বিপণন সেবা, মোবাইল ও কম্পিউটার সার্ভিস এবং মৌলিক স্বাস্থ্যসেবার ওপর প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। 
 
বিজনেস সেন্টার (ডব্লিউবিসি) প্রকল্পটি কোকা-কোলার বৈশ্বিক ফাইভ-বাই-টোয়েন্টি কর্মসূচির অংশ হলেও এটি গ্রহণ করা হয়েছে বাংলাদেশের স্থানীয় চাহিদা, প্রয়োজন ও প্রেক্ষাপট অনুযায়ী। এই কর্মসূচিতে বাংলাদেশের নারীরা বাজারে যেসব সমস্যা বা বাধার মুখে পড়েন সেগুলো মোকাবিলার ওপরই জোর দেয়া হয়েছে। তাদের ব্যবসায়িক দক্ষতা অর্জন, পণ্য বিপণন বা বাজার সংক্রান্ত তথ্য জানা, কৃষি উৎপাদন ও বীজ-সার প্রাপ্তি, মোবাইল ব্যাংকিং, মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা এবং নেটওয়ার্কিং সুবিধা প্রভৃতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান করা হয়। এক্ষেত্রে কর্মসূচির অধীন প্রত্যেক গ্রামে ৫ জন উদ্যোক্তা নারীর একটি দল প্রতিটি উইমেন বিজনেস সেন্টার (ডব্লিউবিসি) পরিচালনা করে থাকেন। ডব্লিউবিসির স্থাপনের জন্য তাদের প্রারম্ভিক মূলধন, প্রয়োজনীয় সম্পদ ও উপরোক্ত বিষয়গুলোর ওপর দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। বাংলাদেশে এই কার্যক্রম বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছে অলাভজনক সংগঠন কনসার্ন ইউনিভার্সাল।
 
ডব্লিউবিসি কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এসব নারী উদ্যোক্তারা গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে প্রমিজিং চেইঞ্জ এজেন্ট বা পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতিশীল এজেন্ট হিসেবে কাজ করে থাকেন। তারা নিজেদের গ্রামের পাশাপাশি পাশ্ববর্তী গ্রামগুলোর নারীদের নিয়ে এ ধরনের আরো অনেকগুলো গ্রুপ তৈরি করে উপার্জনমুখী দক্ষতা অর্জনের প্রশিক্ষণ এবং এসব নতুন নারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা প্রদান করা যাতে তারা নিজেরাই দক্ষতার সঙ্গে আয় বাড়াতে পারেন। এভাবে সক্রিয় নারীদের গ্রুপগুলো তাদের সফলতার প্রমাণ রেখে চলেছে।
 
কোকা-কোলার অপারেশন্স অ্যান্ড কাস্টমার লিডারশিপের ভাইস প্রেসিডেন্ট সুমন্ত দত্ত বলেন, কোকা-কোলা তার ভ্যালু চেইনে বিশ্বব্যাপী ৫ মিলিয়ন বা ৫০ লাখ নারী উদ্যোক্তার অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিতে ফাইভ-বাই-টোয়েন্টি নামের এই কর্মসূচি চালু করে। নারী উদ্যোক্তারা সফল হতে গিয়ে বাজারে যেসব সাধারণ বাধা বা সমস্যার মুখোমুখী হন সেগুলো যাতে তারা মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে পারেন এমন প্রশিক্ষণই তাদের দেই আমরা। এতে তাদের দক্ষতার যেমন উন্নতি ঘটে তেমনি উদ্যোক্তা হয়ে উঠার সক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশে কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ের সাফল্যই আমাদের দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে দারুণভাবে আস্থাশীল ও অনুপ্রাণিত করেছে। এর ফলে বাংলাদেশের নারীদের মধ্যে কর্মউদ্দীপনা, সাহস ও সহন ক্ষমতা  তৈরি হচ্ছে বলে আমি মনে করি।
 
কোকা-কোলার পাবলিক অ্যাফেয়ার্স ও কমিউনিকশন্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইশতিয়াক আমজাদ বলেন, ‘বাংলাদেশের মোট কর্মজীবী  ৩৬ শতাংশ হলো নারী, যারা দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ দেশের নারী কর্মজীবীদের তুলনায় বেশ ভালো করছেন। কিন্তু নারী কর্মীদের কর্মক্ষেত্র ও পরিবারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা এবং অর্থায়ন বা ঋণসুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অব্যাহতভাবে কঠিন বাধা বা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। এর ওপর প্রশিক্ষণের অভাব ও আস্থাহীনতার সংকট তো আছেই। সে জন্য কোকা-কোলা বিশ্বজুড়ে পিছিয়ে পড়া ও বাধার মুখে থাকা নারী উদ্যোক্তাদের সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তুলতে ফাইভ-বাই-টোয়েন্টি মডেল গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে আমরা বাংলাদেশের স্থানীয় প্রেক্ষাপট ও চাহিদা অনুযায়ী উইমেন বিজনেস সেন্টার (ডব্লিউবিসি) কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। এই ডব্লিউবিসির মাধ্যমে আমরা এদেশের গ্রামাঞ্চলের নারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করে চলেছি। ডব্লিউবিসি কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে ব্যাপকভাবে সফল হওয়ায় আমরা এখন দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম শুরুর চ্যালেঞ্জ গ্রহণে প্রস্তুত।’
 
কনসার্ন ইউনিভার্সালের ইন্টারন্যাশনাল প্রোগ্রাম ও পলিসি ম্যানেজার জেমস ট্রেজার-ইভান্স বলেন, ‘উইমেন বিজনেস সেন্টারের (ডব্লিইবিসি) মতো একটি উচ্চাভিলাসী প্রকল্প বাস্তবায়নে কনসার্ন ইউনিভার্সালের সঙ্গে একটি সফল ও ফলপ্রসূ অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার জন্য আমি কোকা-কোলা বাংলাদেশের প্রতি খুবই কৃতজ্ঞ। বেসরকারি সংস্থাগুলো (এনজিও) সাধারণত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডই পরিচালনা করে থাকে। কোনো প্রকল্পকে টেকসই করে তুলতে সচরাচর তাদের হাতে প্রয়োজনীয় সম্পদ ও উপায় থাকে না। এই অবস্থায় নারী উদ্যোক্তাদের সাধারণ সমস্যার সমাধানে একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও একটি অলাভজনক সংগঠনের যুগলবন্দীতে তথা অংশীদারিত্বে নেয়া কর্মসূচির প্রথম পর্যায় দারুণভাবে সফল হয়েছে। এই কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়েও ব্যাপক সফলতা আসবে বলে আমরা আশা করি।’