বাংলাদেশে লাগাতার মানবাধিকার লঙ্ঘন, স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক সংঘাতের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সেন্ট্রাল লন্ডনে সংস্থার আন্তর্জাতিক সদর দফতরে মঙ্গলবার বৈশ্বিক বার্ষিক প্রতিবেদন ২০১৫-১৬ প্রকাশ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মকর্তারা এই উদ্বেগ জানান। বিষয়ক ব্রিফিংয়ে অ্যামনেস্টির বাংলাদেশ-বিষয়ক রিসার্চ ফেলো আব্বাস ফায়েজ বলেন, দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাগাতার ভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে অথচ সরকারের পক্ষ থেকে এর কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় না এবং তাদেরকে ন্যায়বিচারের আওতায় এনে বিচারের দৃষ্টান্ত নেই। ফলে তারা 'ডেইলি বেসিসে' মানবাধিকার লংঘন করছে।
তিনি ইত্তেফাকের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশ কিংবা অন্য সংস্থার সদস্যদের অপরাধের বিচারের কথা বলা হলেও তার কোনো প্রমাণ আমরা পায়নি। তিনি আরও বলেন সম্প্রতি ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে কয়েক ডজন মামলা দায়েরে আমরা বেশি উদ্বিগ্ন। এটা সকল গণমাধ্যমকে ভীতি প্রদর্শনের সামিল এবং স্বাধীন মতপ্রকাশের জন্য হুমকি। মাহফুজ আনাম জনসমক্ষে তার ভুল শিকার করে তিনি কোনো অন্যায় করেননি উল্লেখ করে আব্বাস বলেন, তার বিরুদ্ধে হয়রানি মূলক মামলা করার আগে সরকারকে সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফএই'র বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া জরুরি। ১/১১'র সময়ে রাজনীতিক, সাংবাদিক, সংবাদ মাধ্যম সহ সকল ক্ষেত্রেই এই সংস্থার বিরুদ্ধে যে সংবিধান লংঘন করে হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে তার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। তাদেরকে ন্যায় বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন অপরাধের নায়ককে বিচারের আওতায় না এনে অনুসঙ্গের বিচার করা ন্যায়ানুগ নয়।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের নিবন্ধন বাতিলে সংসদীয় কমিটির সুপারিশ, ব্লগার হত্যাকাণ্ড ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে চরম লংঘন হিসাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের কাছে ৮৫টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেন্ডিং রয়েছে। এর তদন্ত শেষে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন, এর মধ্যে সাংবাদিক, ব্লগার, প্রকাশক, অনিয়মিত লেখক, ফেইস বুক বা ইন্টারনেট কর্মী রয়েছে। এসব অভিযোগ কারীরা ব্যক্তিগতভাবে আমাদেরকে তাদের উপর অত্যাচার-নির্যাতনের কথা জানিয়েছেন। সংস্থার পক্ষ থেকে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণ পাওয়া সাপেক্ষে তা প্রকাশ করা হবে।
অ্যামনেস্টির দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াবিষয়ক পরিচালক চামপা প্যাটেল বলেন, দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক প্রতিবেদনে বলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ হচ্ছে সাংবাদিক ও ব্লগারদের জন্য সবচেয়ে বিপদজনক স্থান। আর নারীদের জন্য আফগানিস্তান হচ্ছে এক ভয়ংকর দেশ। আব্বাস বলেন, বাংলাদেশে মাইনরিটি সম্প্রদায় সকল সরকারের সময়েই ভিকটিম। তারা মূলত কোনকালেই নিরাপদ ছিল না। কারণ তাদের এই অত্যাচার-নির্যাতনের পিছনে 'রাষ্ট্রই এক্টর' হিসাবে কাজ করছে। সংস্থার পক্ষ থেকে যে কয়টি ঘটনার তদন্ত করা হয়েছে তার সব কয়টির সাথেই সব সময়ে সরকারের লোকজন জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আব্বাস ফয়েজ বাংলাদেশে শিশু হত্যা, নির্যাতন-গুমের বিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন পুলিশ ৫৪ ধারাকে ব্যবহার করে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করছে।
অপরাধ ও অপরাধীকে দমনে তারা মনোযোগী নয় বলে অবস্থা দৃষ্টে মনে হয়। ফলে ভয়ংকর অপরাধের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। এটা আরো উদ্বেগের বিষয়। কারণ অপরাধের ঘটনা বাড়লে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও তত বেড়ে।
তিনি আরো বলেন ২০১৩ সালে যে সকল মাইনরিটি সম্প্রদায় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তারা আজ বিচার পায়নি। সরকারকে এ বিষয় উদ্যোগ নিতে হবে।
