আলোচিত ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা অর্থ পাচার মামলার বিচার কার্যক্রম চলতে আর বাধা নেই। চলতি মাসে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এ মামলার তদন্তকরীর কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা জেরা করেন। একই সঙ্গে এ মামলায় দুদকের সাক্ষী এম শাহজাদ আলী ও তার স্ত্রী তাহমিনা আলীকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্তি হিসেবে যে রায় দিয়েছিলেন তা বহাল রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এ মামলায় দুদকের সাক্ষী এম শাহজাদ আলী ও তাহমিনা আলী বিপিএল নামের একটি কোম্পানির কর্নধার এবং নেদারল্যান্ড ভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের এজেন্ট ছিলেন। বিপিএল কোম্পানি বাংলাদেশ রেলওয়ের সিগন্যালিংয়ের কাজ করত। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে গিয়াস উদ্দিন আল মামুন কোম্পানির কর্নধার এম শাহজাদ আলী ও তাহমিনা আলীর কাছ থেকে ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ দিলেই সিগন্যালিংয়ের কাজ পাইয়ে দেয়া হবে বলে জানান মামুন।
মামুনের ঘুষ দাবির প্রেক্ষিতে এম শাহজাদ আলী ও তাহমিনা আলী তাদের একাউন্ট থেকে বিভিন্ন সময়ে ৪ লাখ ১৮ হাজার ৬৫৩ ব্রিটিশ পাউন্ড, বাংলাদেশি ৬ কোটি টাকার বেশি ঘুষ হিসেবে প্রধান করেন। তারা ইংল্যান্ডের নেট ওয়েস্ট ব্যাংকে টাকা পাঠায়।
পরবর্তীতে এ অর্থ পাচার অভিযোগে ২০১১ সালে ২২ সেপ্টেম্বর মামুনের বিরুদ্ধে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করে দুদক।
২০১২ সালে ২৬ এপ্রিল এ মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়। ইতিমধ্যে ৮জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত। এরই ধারাবাহিকতায় মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা ইব্রাহিমের জেরা চলছিল। এ অবস্থায় অর্থ পাচার মামলায় এম শাহজাদ আলী ও তাহমিনা আলীকে ক্যান্টনমেন্ট থানায় কেন সাক্ষী করা হয়েছে, তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়।
আবেদন বলা হয়, যেহেতু তাদের একাউন্ট থেকে মামুনকে টাকা দেয়া হয়েছে। সেহেতু তাদেরকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
হাইকোর্ট এক রায়ে তাদেরকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে এবং তাদের সাক্ষ্য বাতিল করে দেয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে দুদক।
আজ শুনানি শেষে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের সাক্ষ্য বাতিলের আদেশ খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে আদালত বলেন, তাদের সাক্ষ্য দুদক ও আসামি উভয়পক্ষ মামলায় ব্যবহার করতে পারবে। এছাড়া হাইকোর্ট তাদের আসামি হিসেবে বহাল রাখেন।
দুদকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান। মামুনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম খোকন।
