সেনা, নৌ এবং বিমান বাহিনীর নারীদের যুদ্ধক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করার অনুমতি দিতে যাচ্ছে ভারত সরকার। মঙ্গলবার বাজেট অধিবেশনের আগে পার্লামেন্টের উভয়কক্ষে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জী এ ঘোষণা দেন।
সারাবিশ্বে এ পেশা যখন পুরুষ নিয়ন্ত্রিত সেখানে লিঙ্গ সমতা আনার ক্ষেত্রে দেশটির এমন উদ্যোগ বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রণব মুখার্জী ঘোষণায় বলেন, সরকার সশস্ত্র বাহিনীতে যুদ্ধের জন্য ভবিষ্যতে নারীদের নিয়োগ দিবে। তিনি বলেন, আমার সরকার নারীদের স্বল্প মেয়াদী কমিশন অফিসার এবং বিমান বাহিনীতে ফাইটার পাইলট হিসেবে নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে। তবে ভবিষ্যতে নারীদের সব বাহিনীতে যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য নিয়োগ দেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, নারী শক্তিই আমাদের দেশের প্রধান শক্তি। এই শক্তিকে অস্বীকার করা যাবে না। বিশ্বের অন্যতম বড় সামরিক বাহিনী রয়েছে ভারতের। কিন্তু নারীদের ধরা পড়ার ঝুঁকি এবং সশস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রের কঠিন চাপের সাথে তারা শারিরীক ও মানসিকভাবে মোকাবেলা করতে পারবে কিনা সেটি সংশয় ছিল। তাই এমন উদ্যোগের বিষয়ে প্রতিরোধ আসা অবশ্যম্ভাবী ছিল।
এদিকে প্রেসিডেন্টের এমন বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে নারী অধিকার কর্মীরা। তবে তারা জানিয়েছেন, সশস্ত্র বাহিনীতে লিঙ্গ সমতা আনা একটি ধীর প্রক্রিয়া হবে।
ওদিকে অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যেই নারীরা যুদ্ধক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করে থাকে। ১৯৯২ সালে সশস্ত্র বাহিনীতে চিকিৎসা সেবার বাইরে প্রথম নারীদের নিয়োগ দেয়া হয়। দেশটির ১০ লাখের বেশি সেনা কর্মকর্তার মধ্যে এখনো মাত্র আড়াই শতাংশ নারী। তারা প্রশাসক, গোয়েন্দা কর্মকর্তা, চিকিৎসক, সেবিকা অথবা দন্ত চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত। তবে গত অক্টোবরে যুদ্ধক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণের বিষয়ে প্রথম পদক্ষেপটি গ্রহণ করা হয়। ২০১৭ সালের জুন থেকে ভারতীয় নারীদেরকে যুদ্ধবিমান চালানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আলজাজিরা।
