‘মালয়েশীয় বিমান ভূপাতিত করেছে রাশিয়া’

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ১৮:৩৬
ইউক্রেইনে একটি মালয়েশীয় যাত্রীবাহী বিমান গুলি করে বিধ্বস্ত করার ঘটনায় রুশ সেনারা সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি অনলাইন তদন্তকারী দল।
 
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বেলিংক্যাট নামের ওই দলটি ২০১৪ সালে পূর্ব ইউক্রেইনের ওই ভয়াবহ ঘটনায় রাশিয়ার ৫৩তম এন্টি-এয়ারক্রাফট ক্ষেপণাস্ত্র ব্রিগেডের দ্বিতীয় ব্যাটালিয়নের সেনারা জড়িত থাকতে পারে বলে মত দিয়েছে।
 
বেলিংক্যাটের ১১৫ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ওপেন সোর্স তথ্য ব্যবহারের মাধ্যমে বিমানটি গুলি করে নামানোর সঙ্গে জড়িত অথবা এ বিষয়ে জানে ৫৩তম ব্রিগেডের এমন বহু কর্মকর্তা ও সেনাকে সনাক্ত করেছে তারা।
 
তথ্যগুলো যাচাই-বাছাইয়ের পর বেলিংক্যাটের উপসংহার হচ্ছে, ব্রিগেডটির দ্বিতীয় ব্যাটালিয়নকে সম্ভবত রাশিয়া থেকে পূর্ব ইউক্রেইনে পাঠানো হয়েছিল।
অনেক সেনাকে তাদের নামের শুধুমাত্র প্রথম অংশ ও প্রথম অক্ষর দিয়ে চিহ্নিত করতে পেরেছে বেলিংক্যাট। ব্যাটালিয়ন কমান্ডারের নাম দিমিত্রি টি. বলে উল্লেখ করেছে তারা।
 
তবে ব্রিগেডের সার্বিক দায়িত্বে থাকা প্রধানের পুরো নাম উল্লেখ করতে পেরেছে, তার নাম সের্গেই মুচকায়েভ।প্রতিবেদনে বলা হয়, “রুশ-ইউক্রেইন সীমান্তে এবং ইউক্রেইনের ভিতরে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর সিদ্ধান্তটি রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতো উচ্চতর অবস্থান থেকে নেওয়া হয়েছিল।
 
“রাশিয়ার বাক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এমএইচ১৭ ফ্লাইটটিকে বিধ্বস্ত করেছিল, সম্ভাব্য এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমাদের সিদ্ধান্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে মূল দায় রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপর বর্তায়, পাশাপাশি স্বঘোষিত দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক গণপ্রজাতন্ত্রের সামরিক কমান্ডারাও এর অংশীদার।”
 
তদন্তে পাওয়া সব নাম ও সমর্থিত তথ্য কোনো কাটছাট ছাড়াই নেদারল্যান্ডসের তদন্তকারী দলের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বেলিংক্যাট। তদন্তকারী দলটি এ ঘটনার বিষয়ে তদন্ত এখনো চালিয়ে যাচ্ছে।
 
গেল বছর নেদারল্যান্ডসের এক তদন্ত প্রতিবেদনে বিমানটি রাশিয়ার নির্মিত বাক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়। পশ্চিমা দেশগুলো ও ইউক্রেইন মালয়েশীয় যাত্রীবাহী বিমান এমএইচ১৭ বিধ্বস্তের জন্য ইউক্রেইনের রুশপন্থি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে। অপরদিকে রাশিয়া ইউক্রেনীয় বাহিনীগুলোকে দায়ী করেছে।