রেল নেটওয়ার্কে আসবে কুয়াকাটা মংলা পায়রা

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ০০:২৯
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে কুয়াকাটা, মংলা, পায়রা সমুদ্রবন্দর। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চার বিদ্যুত্ কেন্দ্র, গ্রামে বিদ্যুতায়ন, সেতু ও রেল লাইনসহ বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময় প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।
 
আমাদের গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ৯০টি গ্রামের ৬ হাজার পরিবারে বিদ্যুত্ সংযোগ উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। বর্তমানে দেশে ১৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদিত হচ্ছে। ২০১৬ সালের মধ্যেই বিদ্যুত্ উত্পাদন ১৬ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হবে। ২০২১ সালে ২৪ হাজার মেগাওয়াট, ২০৩১ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট ও ২০৪১ সালে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদিত হবে।
 
তিনি উল্লেখ করেন, বিদ্যুত্, সেতু, রেল, সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে আমরা মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আমরা ৫৩৭টি সেতু তৈরি করেছি। পদ্মা সেতুর কাজ চলছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে আমরা সড়ক করে দেব। আমরা প্রতিটি ঘরে আলো দেব। কেউ অন্ধকারে থাকবে না।
 
প্রথমে প্রধানমন্ত্রী নিজ নির্বাচনী এলাকা গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলায় ৯০টি গ্রামের ৬ হাজার পরিবারকে বিদ্যুত্ সংযোগ প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি কোটালীপাড়া বাসীর কাছে কৃতজ্ঞ। সব এমপির নিজের এলাকা দেখতে হয়। আমি কোটালীপাড়ার এমপি; কিন্তু আমাকে সারা বাংলাদেশের ৩শ আসন দেখতে হয়। তারপরও আমি কোটালীপাড়ার মানুষের সহযোগিতা পাই। আমি বাবা মা ভাই- সব হারিয়েছি। এলাবাসী আমার বাবা মা ভাই।
 
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা পটুয়াখালী জেলায় পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে নবনির্মিত শেখ কামাল সেতু ও শেখ জামাল সেতু, সিলেট সড়ক জোনে ইস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের (ইবিবিআইপি) আওতায় নবনির্মিত ১৬টি সেতু উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন স্থাপনার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন, নারায়ণগঞ্জ শহরের পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত সোনাকান্দা পানি শোধনাগারেরও উদ্বোধন করেন। এছাড়াও তিনি জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন স্থাপনার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেন।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশের রেল লাইন সম্প্রসারণ বন্ধ করে দেয়। রেল সংকোচন নীতি গ্রহণ করে দেশের বিভিন্ন রেল লাইনে রেল চলাচল বন্ধ করে দেয়। আমরা সারাদেশে রেল যোগাযোগ গড়ে তুলতে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আমরা যমুনা সেতুতে রেল লাইন সংযোগ করে টাঙ্গাইলে রেল নিয়ে গেছি। আমরা বরিশালে রেল লাইন স্থাপন করে বরিশালে রেল নিয়ে যাব। রেলে কম খরচে সহজে পণ্য পরিবহন করা যায়। রেল ভ্রমণ আরাম দায়ক ও নিরাপদ। তাই আমরা কুয়াকাটা, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত রেল নিয়ে যাব।
 
এ অনুষ্ঠানে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. খলিলুর রহমান, গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান, কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস.এম হুমায়ূন কবীর বক্তব্য রাখেন।
 
প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের পটিয়ার ১০৮ মেগাওয়াট ইসিপিভি চট্টগ্রাম লিমিটেড, কুমিল্লার জাঙ্গালিয়ার ৫২ দশমিক ২ মেগাওয়াট লাকধানাভি বাংলা পাওয়ার লিঃ উদ্বোধন করেন।
 
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, প্রায় ২ হাজার ১শ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ তাপ বিদ্যুত্ কেন্দ্রের নিজস্ব উদ্যোগে নির্মিত গ্যাস ভিত্তিক ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্টের (এসটি ইউনিট) উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আশুগঞ্জ বিদ্যুত্ কেন্দ্রের নিজস্ব তহবিল, ইসিএ ব্যাকড প্রজেক্ট ফাইনান্সের অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। গতকাল  ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটি উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক ড. মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার।
 
গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, গাজীপুর মহানগরীর কড্ডায় বিপিডিবি-আরপিসিএল পাওয়ারজোন লিঃ-এর ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে এর উদ্বোধন করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক, স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল, জেলা প্রশাসক এসএম আলম, জেলা পরিষদের প্রশাসক আখতারউজ্জামান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকটে আজমত উল্লাহ খানের সঙ্গে কথা বলেন।
 
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, ভৈরব-টঙ্গী ৮৬ কিলোমিটার ডাবল রেল লাইনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণবভন থেকে নতুন এই রেল লাইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ উপলক্ষে ভৈরব রেলওয়ে জংশনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে ভৈরব থেকে যোগ দেন রেলপথ মন্ত্রী মো. মুজিবুল হক এমপি, কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি আলহাজ্ব মো. নাজমুল হাসান পাপন।

 
অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রী মো. মুজিবুল হক এমপি বলেন, ভৈরব-টঙ্গী ডাবল এ নতুন রেল লাইন উদ্বোধনের পর ৩২০ কিলোমিটার ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে আর মাত্র ৭৮ কিলোমিটার সিঙ্গেল লাইন অবশিষ্ট রয়েছে। বাকি এ লাইনেরও নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।